সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - কক্সবাজার
পুরো শিফট প্রস্রাব চেপে রাখি, শেষে তলপেটে ব্যথা
আমার বয়স একচল্লিশ, কক্সবাজারের একটা হোটেলে কাজ করি, সামনের ডেস্কে আর ব্যস্ত সপ্তাহে হাউসকিপিংয়ে। ডিউটিতে চাইলেই সরে যাওয়া যায় না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রাখতে হয়। শিফট শেষে তলপেটে থমথমে ভারী ব্যথা ধরে। সন্ধ্যায় তারপর অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাব হয়, কোনো কোনো দিন রঙটা ঘোলা দেখায়। বাড়ি ফিরলেও টয়লেটের চিন্তা মাথা থেকে যায় না।
এক সন্ধ্যায় স্ত্রী গুনে বললেন, বাড়ি ফেরার পর আমি ছয়বার গিয়েছি। পরদিন সকালে তিনি আমাকে আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি কথা শুনলেন, আগের রিপোর্টগুলো দেখলেন, বললেন ইউরোলজিস্ট দেখানো দরকার। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, শরীর থেকে প্রস্রাব বেরোনোর পথ আর তার সঙ্গে জড়ানো নিচের অংশগুলোর ডাক্তার হলেন ইউরোলজিস্ট।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্ত্রী আর আমি তাঁর ফোনে DoctorBD24 খুঁজলাম। আমরা কক্সবাজারের ডাক্তারদের তালিকা ধীরে ধীরে দেখে হোটেলের কাছাকাছি একটা চেম্বার বেছে নিলাম। সময়টা রাখলাম আমার দুই শিফটের ফাঁকে। দুই দিন পর সেখানে গিয়ে ইউরোলজিস্টকে আমার কাজের দিনের কথা বলছিলাম।
1 available specialists found
Dr. Hafiz Al Asad
পুরো শিফট প্রস্রাব চেপে রাখি, শেষে তলপেটে ব্যথা
হোটেলের শিফট আসলে কেমন, সেটাই আগে জিজ্ঞেস করলেন
তাঁর প্রথম প্রশ্নগুলো ছিল আমার কাজ নিয়ে, শরীর নিয়ে নয়। শিফটে কতক্ষণ চেপে রাখি? তলপেটের ব্যথা কখন শুরু হয়, কখন ছাড়ে? বাড়ি ফিরে কতবার যেতে হয়? ডিউটিতে কতটা পানি খাই, সেটাও জিজ্ঞেস করলেন। প্রশ্নগুলো পাশাপাশি সাজিয়ে দেওয়ার আগে আমি নিজে এভাবে ভাবিনি।
রিপোর্ট আগে, তারপর তলপেটে হাত
চিকিৎসা নিয়ে কিছু বলার আগে তিনি আমার আগের রিপোর্ট প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পড়লেন। তারপর তলপেটে আলতো হাত রেখে জিজ্ঞেস করলেন, শিফট শেষের ভারী ভাবটার সঙ্গে মিলে কিনা। রিপোর্ট আর পরীক্ষা মিলিয়ে যা বোঝা যাচ্ছে, সহজ কথায় বুঝিয়ে বললেন। তাড়াহুড়ো ছিল না, ভয় দেখানো কথাও ছিল না।
ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়ার ফাঁকের অপেক্ষা
তাঁর সহকারী যত্নে আমার কাগজপত্র গুছিয়ে লিখে দিচ্ছিলেন, আমি করিডোরে অপেক্ষা করছিলাম। হাতে কিছু না থাকায় ফোনে কক্সবাজারের জেনারেল সার্জনদের তালিকা খুলে নামগুলো উল্টেপাল্টে দেখলাম। স্ত্রী হেসে বললেন, অন্যরা খবর পড়ে, আমি পড়ি ডাক্তারের তালিকা। অপেক্ষাটা ওভাবেই কেটে গেল, আর কিছু নয়।
তিনি যে ব্যবস্থা দিলেন
আমাদের নিজের ডাক্তারের ওষুধ যেমন ছিল, ঠিক তেমনই থাকল। আমি তাকিয়ে থাকতেই তিনি সেই কাগজের একটা লাইনও ঘষে তোলেননি। তাঁর নিজের ওষুধ লেখা হলো তাঁর নিজের কাগজে, আলাদা লাইনে, লেখা অনুযায়ী খেতে হবে। কয়েক সপ্তাহ পর আবার যাব, তার আগে নতুন রিপোর্ট করে নেব। কখনো অপারেশন সত্যিই লাগলে তিনি নিজে আগেভাগে স্পষ্ট করে বলবেন।
আমার জানার ছিল যেগুলো
শিফটজুড়ে চেপে রাখাটা কি আমার সমস্যার অংশ?
তিনি বললেন, দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখাকে ব্যথা আর সন্ধ্যার বারবার যাওয়া থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। আমার শিফটের ধরনের সঙ্গে রিপোর্ট মিলিয়ে পড়ে তারপর তিনি বিচার করবেন।
শিফট শেষেই ব্যথাটা আসে কেন?
ব্যথা কখন আসে, সেই সময়টাও তিনি লিখে রাখলেন, কারণ সেটা গল্পের একটা অংশ বলে দেয়। খারাপ দিনগুলো ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রেখে পরের দেখায় তাঁকে দেখাতে বললেন।
কোনো কোনো দিন প্রস্রাব ঘোলা দেখায় কেন?
তিনি বললেন, ঘোলা রঙটা নতুন রিপোর্টে আরও বোঝা যাবে। চেয়ারে বসে তিনি আন্দাজ করবেন না। কোন কোন দিন এমন হয় খেয়াল করে সত্যি করে তাঁকে জানাতে বললেন।
আমি কি আগের মতোই শিফটে কাজ করতে পারব?
তিনি চাকরি ছাড়তে বলেননি। টয়লেটে যাওয়ার ফাঁক ছাড়া সবচেয়ে লম্বা টানাগুলো খেয়াল করে জানাতে বললেন। ব্যবস্থা সাজানো হবে আসল দিনগুলো দেখে, আন্দাজে নয়।
আমাদের ডাক্তারের ওষুধ নিয়ে তিনি কী করলেন?
তিনি প্রতিটা লাইন যেমন ছিল রেখে দিলেন। তাঁর নিজের ওষুধ তাঁর নিজের কাগজে আলাদা থাকে, দুটো আমার গুলিয়ে ফেলা চলবে না। অন্য ডাক্তারের পাতা তিনি যেমন পান তেমনই রেখে দেন, নিজের বদল নিজের কাগজেই করেন, তিনি বললেন।
কোন কষ্ট মানে পরের দেখা নয়, হাসপাতাল?
প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে গেলে আর তলপেট ফুলে টানটান ব্যথা করলে সেদিনই যেতে হবে। কাঁপিয়ে দেওয়া জ্বর, সঙ্গে পিঠে বা পাশে ব্যথা বসলে, সেটাও আরেক ডাক। প্রস্রাব ঘন রক্তমেশা হয়ে এলে আর চাপ দিয়ে বের করতে হলে অপেক্ষা চলবে না। তলপেটে বা কুঁচকিতে গভীর ব্যথা যেটা কিছুতেই থামছে না, সেটাও বাড়িতে কাটানো যাবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.