সেরা রেডিওলজিস্ট - কক্সবাজার

ডেকে পড়ে যাওয়ার পর হাঁটু নিয়েই আটকে আছে সাগরে যাওয়া

আমার বয়স চুয়াল্লিশ, কক্সবাজার থেকে মাছ ধরার নৌকায় কাজ করি। তিন সপ্তাহ আগে ভেজা ডেকে পা পিছলে হাঁটুর ওপর পড়ে গেলাম। ফোলাটা ধীরে ধীরে কমেছে, কিন্তু সিঁড়ি বেয়ে উঠলে হাঁটু এখনো টলে যায়। আমার ডাক্তার হাঁটু কতটা ভাঁজ হয়, কতটা শক্ত আছে, সব দেখলেন। তারপর তিনি হাঁটুর ভেতরের ছবি তোলার জন্য পাঠালেন। তিনি বললেন, রিপোর্ট দেখেই তিনি পরের পরামর্শ দেবেন।

রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আমি পাড়ে বসে আছি। নৌকা আমাকে ছাড়াই সাগরে যায়, সকালে ঘাটে দাঁড়িয়ে দেখি। একদিন পাড়ে মানেই পরিবারের একদিনের রোজগার বন্ধ। তাই রিপোর্টের চিন্তা মাথা থেকে নামে না। ছবিগুলো কি মন দিয়ে পড়া হবে? আমার ডাক্তার কি সেখান থেকে বুঝতে পারবেন, জাল টানার কাজে ফিরতে পারব কিনা?

পুরনো এক মাঝি বললেন, এসব ছবি যিনি পড়েন তিনি শুধু এই কাজটাই করেন। আমি ভাবতাম আমার ডাক্তার নিজেই ছবি দেখে তখনই সিদ্ধান্ত দেবেন। ভুলটা ভাঙার পর খোঁজের ধরনও বদলে গেল। শুরুতে কক্সবাজারের ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা দেখে সাজানো নামগুলো বুঝতে চাইলাম। সেখান থেকে আলাদা করে খুঁজলাম ছবি পড়া ডাক্তারদের।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ডেকে পড়ে যাওয়ার পর হাঁটু নিয়েই আটকে আছে সাগরে যাওয়া

নৌকার মানুষের কাছে পাড়ে বসে থাকা কেন এত কঠিন

মাছ ধরার কাজ কারো জন্য থেমে থাকে না। জাল টানতে হয় প্রতিদিন, ডেক ভেজা আর দুলতে থাকা আগের মতোই। আমার ডাক্তার এসব জানেন, তবু অনুমানে সাগরে যাওয়ার ছাড় দিলেন না। তিনি আগে ছবিগুলো ঠিকমতো পড়া হোক, এটাই চান। হাঁটু তৈরি না হলে সাগরে দ্বিতীয়বার পড়ে যাওয়া আরও ভয়ংকর হতে পারে। তাই আমি পাড়ে থাকি, ঘাটের কাছে ছোটখাটো মেরামতের কাজ করি।

একটা রিপোর্টের পেছনে যে নিরিবিলি কাজটা হয়

রেডিওলজিস্ট আমার হাঁটুর ছবিগুলো নিয়ে অংশে অংশে মন দিয়ে দেখেন। ওই ঘরে কোনো চিকিৎসা হয় না, কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় না। আমার আগের ছবি থাকলে সেগুলো পাশে রেখে মিলিয়ে দেখা হতো। তারপর লেখা রিপোর্ট যায় আমার নিজের ডাক্তারের কাছে। পড়ে যাওয়া, ফোলা আর আমার কাজের কথা তিনিই জানেন। রিপোর্টটা একটা অংশ মাত্র, বাকি অংশগুলো তাঁর হাতে।

যে ওষুধ চলছে, সেটায় কেউ হাত দেবে না

হাঁটু স্থির হতে আমার ডাক্তার একটা নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন। সকাল আর সন্ধ্যা, লেখা অনুযায়ী ঠিক সেভাবেই আমি চলছি। আমার ছবি যিনি পড়বেন, তিনি সেই নিয়মে কোনো বদল আনবেন না। ছবি পড়ার কাজের সঙ্গে ওষুধ বদলানোর কোনো সম্পর্কই নেই। পরে বদল দরকার মনে হলে আমার ডাক্তার নিজে দেখা হলেই বলবেন।

সঙ্গীর অপারেশনের খোঁজ দেখে আলাদা ভূমিকাগুলো বুঝলাম

আমার এক সঙ্গী বাক্স তুলতে গিয়ে পেটে চোট পেয়েছিল, পরে তাকে সার্জন দেখাতে বলা হয়। তার পরিবার কক্সবাজারের জেনারেল সার্জনদের পেজ পড়ে জেনেছিল কারা অপারেশনের কাজ করেন। সেই খোঁজটা আমার মাথায় রয়ে গেছে। সার্জন, ছবি পড়া ডাক্তার আর আমার নিজের ডাক্তার, প্রত্যেকে আলাদা অংশের দায়িত্বে। কে কোন অংশের, এটা জানায় ভুল মানুষকে ভুল প্রশ্ন করা বন্ধ হলো।

সাগরে ফেরার আগে যেসব কথা জানতে চেয়েছি

রিপোর্ট দেখলেই কি বোঝা যাবে নৌকায় ফিরতে পারব কিনা?

শুধু রিপোর্টে সেটা ঠিক হয় না। রিপোর্টে থাকে ছবিতে যা দেখা গেছে তার বিবরণ। তার সঙ্গে হাঁটুর ভাঁজ আর ভর নেওয়ার ক্ষমতা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত দেন আমার ডাক্তার। সেই সিদ্ধান্ত তাঁরই, রিপোর্টের না।

হাঁটুর ছবি ঝাপসা এলে তখন কী হবে?

তখন রেডিওলজিস্ট বলতে পারেন, এই ছবি আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়া যাচ্ছে না। আরও ছবি লাগতে পারে, যাতে আমার ডাক্তারকে অনুমানে ভর করতে না হয়। বিশ্বাস করা যায় না এমন পড়ার চেয়ে সেই দেরি আমি মেনে নেব।

ছবি পড়া ডাক্তার কি আমার ওষুধ বদলে দিতে পারেন?

পারেন না। আমার ডাক্তারের বেঁধে দেওয়া নিয়মে তিনি কখনো হাত দেন না। তাঁর কাজ ছবি আর লেখা রিপোর্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমি যা খাই তাতে বদল এলে তা আসবে শুধু আমার নিজের ডাক্তারের কাছ থেকে।

আমার ডাক্তার নিজে ছবিগুলো দেখে নিলেন না কেন?

তিনি চোখ বুলিয়ে নিতেই পারতেন, যেমন আমি আকাশ দেখে আবহাওয়া আন্দাজ করি। কিন্তু মন দিয়ে ছবি পড়া আলাদা দক্ষতা, রেডিওলজিস্ট প্রতিদিন সেই চর্চাই করেন। পরামর্শ দেওয়ার আগে সেই চর্চিত চোখের পড়াটাই আমার ডাক্তার চান।

অপেক্ষার মধ্যে ভারী কাজ করে হাঁটু যাচাই করব?

করব না। ভারী বোঝা টেনে যাচাই করতে গেলে যতটা সেরেছে তাও নষ্ট হতে পারে। ডাক্তারের অনুমতির হালকা নড়াচড়া আর জাল টানা এক জিনিস না। পুরো মৌসুম হারানোর চেয়ে কয়েকদিন বেশি অপেক্ষা ভালো।

অপেক্ষার মধ্যে হাঁটুর ব্যথা হঠাৎ সহ্যের বাইরে গেলে কী করব?

সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে, কোনো রিপোর্টের অপেক্ষা তখন চলবে না। হঠাৎ তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা শরীরে হঠাৎ দুর্বলতা বাসায় ঘুমিয়ে কাটানোর বিষয় না। আগে হাসপাতালে পৌঁছান। কাগজপত্র পরে এসে মিলবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.