সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - নারায়ণগঞ্জ
শিফট শেষে প্রস্রাব করতে গেলেই জ্বলে ওঠে
আমার বয়স চুয়াল্লিশ। নারায়ণগঞ্জের লঞ্চঘাটে মাল ওঠানো-নামানোর কাজ করে আমার সংসার চলে। বস্তা, কাঠের বাক্স, যাত্রীদের ব্যাগ, সারাদিন কাঁধে আর পিঠে। কষ্টটা জমে থাকে শিফটের শেষের জন্য। বসে একটু জিরিয়ে প্রস্রাব করতে গেলেই জ্বালা শুরু হয়, একদম শেষ পর্যন্ত জ্বলে। কোনো কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাবের রঙ ঘোলা আসে, ধুলো মেশানো পানির মতো। সবচেয়ে অসুবিধা হয় বোঝা কাঁধে থাকা অবস্থায়, হঠাৎ এমন চাপ আসে যে নামিয়ে রাখার জায়গাও থাকে না।
ছোট ভাই একই ঘাটে কাজ করে। সে অনেকদিন ধরেই আমার মুখের ভঙ্গি দেখছিল। এক সকালে সে সাফ বলে দিল, ডাক্তার না দেখিয়ে সে লঞ্চে উঠবে না। সে আমাকে নিয়ে গেল আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার জ্বালার কথা, ঘোলা রঙের কথা, হঠাৎ চাপ আসার কথা সব শুনলেন। আগের রিপোর্টগুলো তিনি দুইবার করে পড়লেন। তারপর খোলাখুলি বললেন, এবার আমার কাছে নয়। ইউরোলজিস্টের কাছে যেতে হবে। তিনি জানালেন, প্রস্রাব শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথগুলোর দেখাশোনা করেন এই ডাক্তার। পুরুষদের শরীরে সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত নিচের অংশগুলোও তাঁর দায়িত্বে আসে।
সেদিন রাতে ছোট ভাই DoctorBD24 খুলে নারায়ণগঞ্জে বসেন এমন ডাক্তারদের তালিকা বের করল। শেষ লঞ্চের পর যাওয়া যায় এমন একটা চেম্বারের সময় ঠিক করলাম দুজনে। দেখা হয়ে গেছে, এখন লেখা অনুযায়ী চলছি।
4 available specialists found
Dr. Md. Nasir Uddin (Kajal)
Prof. Dr. Md. Jahangir Alam
Dr. Md. Mamunur Rashid
Prof. Dr. Md. Siddiqur Rahman
শিফট শেষে প্রস্রাব করতে গেলেই জ্বলে ওঠে
আগে ঘাটের কাজের কথা, পরে শরীরের কথা
ইউরোলজিস্ট আমার লক্ষণের আগে কাজের দিনটা জানতে চাইলেন। এক শিফটে কয়টা বোঝা ওঠে। লঞ্চের ফাঁকে কতটুকু পানি খাওয়া হয়। জ্বালাটা দুপুরেই ওঠে, নাকি শুধু সন্ধ্যার দিকে। পাশে বসে ছোট ভাই অর্ধেক উত্তর দিয়ে দিল, সে বহু বছর আমার পাশাপাশি বোঝা টেনেছে। বোঝা কাঁধে থাকা অবস্থায় হঠাৎ চাপ আসার কথাটা আমি নিজে বললাম।
মতামতের আগে রিপোর্ট পড়া শেষ
এরপর তিনি আমার আগের রিপোর্টগুলো খুলে প্রতিটা পাতা পড়লেন। তারিখ মিলিয়ে সাজিয়ে সবচেয়ে পুরোনোটা দুইবার পড়লেন। পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মতামতের কথা ওঠেনি। শেষে তিনি বললেন, রিপোর্ট যা ইশারা করছে আর যেখানে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।
জ্বালা যেখানে গিয়ে থামে
তিনি দুই হাত দিয়ে তলপেটের নিচের দিকে আলতো করে চাপ দিলেন। লম্বা শিফটের পর যে ভারী ভাবটা আসে, সেটা ঠিক এই জায়গাতেই কিনা জানতে চাইলেন। আমি বললাম, বেশিরভাগ সন্ধ্যায় সেখানেই। তিনি বললেন, তাঁর পরীক্ষা রিপোর্টের পাশে মিলে যাচ্ছে।
সামনের সপ্তাহগুলোর হিসাব কাগজে
তিনি নিজের একটা ওষুধ পরিষ্কার করে লিখে দিলেন। তাঁর লেখা ধরেই ওষুধটা খেতে হবে আমাকে। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। কঠিন কথাগুলো তিনি এড়িয়ে যাননি। কোনোদিন অপারেশন লাগলে তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়েই বলবেন। আর সমস্যাটা অন্য বিশেষজ্ঞের হলে তিনি সেটাই জানিয়ে দেবেন।
পুরোনো পাতায় একটা আঁচড়ও পড়েনি
আমাদের নিজের ডাক্তারের দেওয়া আগের ওষুধগুলো আগের মতোই রইল। সেই পাতার ওপর তিনি কলম তুললেনই না। তাঁর নিজের ওষুধ তাঁর নিজের লাইনে লেখা, সবকিছুর থেকে আলাদা। দুটো যেন গুলিয়ে না ফেলি, তিনি বলে দিলেন।
সিঁড়িতে বসে ফোনে নাম দেখছিলাম
সহকারী কাগজ তৈরি করছিলেন, আমরা সিঁড়িতে বসে অপেক্ষা করছিলাম। ছোট ভাই তাঁর ফোনটা এগিয়ে দিল। আমি নারায়ণগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের পাতা ঘাঁটতে ঘাঁটতে বাজারের আধা-চেনা কয়েকটা নাম পড়লাম। কাগজ হয়ে গেলে আমরা লঞ্চ ধরে বাড়ি ফিরলাম।
রিকশা ডাকার আগে প্রশ্নগুলো
জ্বালাটা শিফট শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে কেন?
তিনি বললেন, আমার দিনের ধরনটাই এই কাহিনির একটা অংশ, তিনি তা লিখে রেখেছেন। বাকি বিচারে রিপোর্টগুলো তাঁকে সাহায্য করবে।
প্রস্রাব ঘোলা দেখানোর মানে কী?
শুধু রঙ দেখে তিনি কোনো কারণ বলেননি। কয়েক সপ্তাহ পরের নতুন রিপোর্ট আমাদের দুজনের চেয়ে বেশি বলতে পারবে।
এই অবস্থায় বোঝা টানার কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে?
তিনি আমাকে ঘাট থেকে সরাননি। কাজ চালিয়ে যেতে বললেন। তবে তীর দূরে বলে সারা বিকেল চেপে রাখা চলবে না।
নতুন রিপোর্ট এই সপ্তাহে নয়, কয়েক সপ্তাহ পর কেন?
তিনি বললেন, এখন করালে রিপোর্ট টেবিলে থাকা পুরোনোগুলোর কথাই বলবে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে বদল থাকলে তা পড়ার মতো হয়।
আমার জীবনে কোনোদিন অপারেশনের প্রসঙ্গ আসতে পারে?
তিনি বললেন, আসতেও পারে, নাও আসতে পারে। নতুন রিপোর্ট সামনে না এলে তিনি আন্দাজ করবেন না, তখন সোজা উত্তর দেবেন বলে কথা দিলেন।
সন্ধ্যা খারাপের দিকে গেলে ভোরের আগেই হাসপাতালে যাওয়ার লক্ষণ কোনগুলো?
কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাব একদম না এলে আর তলপেট ফুলে টানটান ব্যথা করলে দেরি করা যাবে না। কাঁপুনিসহ জ্বর এলে, সঙ্গে পিঠে বা শরীরের একপাশে গভীর ব্যথা থাকলে, একই নির্দেশ। প্রস্রাব ঘন রক্তমেশা হয়ে এলে আর বের করা সত্যিকারের কঠিন হয়ে দাঁড়ালে অপেক্ষা চলবে না। তলপেটে বা কুঁচকিতে প্রচণ্ড ব্যথা যেটা কিছুতেই শান্ত হবে না, সেটা নিয়েও রাত কাটানো যাবে না। এমন সন্ধ্যায় আমরা লঞ্চ বা ভোরের অপেক্ষা না করে সোজা হাসপাতালে যাব।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.