সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - ময়মনসিংহ
কোনো কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাব একদমই আসে না
আমার বয়স চৌষট্টি। ময়মনসিংহে একটা মাদরাসায় প্রায় আটত্রিশ বছর ছেলেদের পড়িয়েছি। অবসরের পর দিনগুলো ধীরে চলে। তবে সন্ধ্যাবেলা শরীরটা অন্যরকম আচরণ করে। কোনো কোনো সন্ধ্যায় টয়লেটে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, প্রস্রাব আসতেই চায় না। পেটে চাপ দিয়ে জোর খাটাই, কাঁধ পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। শুরু হলেও মাঝপথে আবার থেমে যায়। পরে তলপেটে একটা টানা ব্যথা ঘণ্টাখানেক বসে থাকে, যেন ভেতরে ভারী কিছু টেনে ধরে আছে।
নাতি আমার সঙ্গে থাকে, পড়াশোনা করে। সেই প্রথম খেয়াল করল বিষয়টা। কয়েক রাত সে দেখেছে, আমি টয়লেট থেকে ফিরে তলপেট ধরে বসে থাকি। পরদিন সকালে সে আমাকে শহরে আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার তাড়াহুড়ো না করে পুরো কথা শুনলেন। রাতের অবস্থা জানতে চাইলেন, আগের রিপোর্টগুলো খুলে দেখলেন। তারপর তিনি বললেন, এর পরের দেখাটা ইউরোলজিস্টের কাছে হওয়া দরকার। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, প্রস্রাব শরীর থেকে যে পথে বেরিয়ে যায়, সেই পথের দেখভাল করেন এই ডাক্তার। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের কাজে জড়িত নিচের অংশগুলোও তাঁর দেখার ভেতরেই পড়ে।
সেদিন সন্ধ্যায় নাতি ফোনে DoctorBD24 খুলে ময়মনসিংহে চেম্বার করেন এমন ডাক্তারদের তালিকা বের করল। দুজনে নাম আর চেম্বারের সময় মিলিয়ে দেখে একজনকে ঠিক করলাম। দেখা করে আসা হয়ে গেছে, এখন তাঁর লেখা মতোই চলছি।
5 available specialists found
ডাঃ মধুসূদন মণ্ডল
Prof. Dr. Mrinal Kanti Roy
Dr. Md. Ibrahim Ali
Dr. Md. Saiful Islam
Dr. Md. Afzalur Rahman
কোনো কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাব একদমই আসে না
আগে পুরো কথা, তারপর বাকি সব
ইউরোলজিস্ট প্রথমে আমার ফাইলের দিকে হাত বাড়ালেন না। তিনি বললেন, একদম শুরু থেকে নিজের ভাষায় বলুন। কোন কোন সন্ধ্যা সবচেয়ে খারাপ যায়। শুরু হতে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিছানায় ফেরার পরও ব্যথাটা থাকে কিনা। পাশে বসে নাতি আমার বাদ পড়া কথাগুলো মনে করিয়ে দিল। ভোর হওয়ার আগে এক রাতে চারবার ওঠার কথাও সে বলল।
রিপোর্ট না পড়ে কোনো মতামত নয়
আমার কথা শেষ হলে তিনি সঙ্গে আনা গোছাটা খুললেন। আগের রিপোর্টগুলো একটা একটা করে পড়লেন, আগেরগুলো আগে। দুইটা পাতা তিনি দুইবার করে দেখলেন। পড়া চলাকালে কোনো সিদ্ধান্তের কথা ওঠেনি। শেষে তিনি সহজ ভাষায় বললেন, রিপোর্টে যা বোঝা যাচ্ছে আর যা এখনো বোঝা যাচ্ছে না।
তলপেটে তালু রেখে পরীক্ষা
তারপর তিনি আমাকে শুয়ে পড়তে বললেন। হাতের তালু দিয়ে তলপেটে আলতো করে চাপ দিলেন। খারাপ সন্ধ্যাগুলোতে যে ভারী ভাবটা আসে, সেটা ঠিক এই জায়গাতেই কিনা জানতে চাইলেন। আমি বললাম, হ্যাঁ, সেখানেই। তিনি বললেন, হাতে পাওয়া অনুভূতি আর কাগজের লেখা মিলে যাচ্ছে।
তিনি যে নিয়ম বেঁধে দিলেন
নিজের পাতায় তিনি একটা ওষুধ লিখে দিলেন। সেটা তাঁর লেখা অনুযায়ী হুবহু খেতে হবে। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করতে হবে, সেগুলো নিয়ে আবার যেতে হবে। তখন তিনি পুরোনো আর নতুন রিপোর্ট পাশাপাশি রেখে পড়বেন। বাকি কথা তিনি লুকোননি। কোনোদিন অপারেশন লাগলে তিনি নিজে আমাকে বলবেন। আর কষ্টটা অন্য বিশেষজ্ঞের বিষয় হলে তিনি সেদিকেই পাঠিয়ে দেবেন।
নিজের ডাক্তারের লেখায় কলম ছোঁয়নি
আমাদের নিজের ডাক্তার অনেক দিন ধরে আমাকে দুইটা ওষুধ দিয়ে রেখেছেন। সেই লেখার একটা লাইনও তিনি কাটেননি, বদলাননি। ওষুধগুলো যেভাবে লেখা আছে হুবহু সেভাবেই চলবে। ইউরোলজিস্টের নিজের ওষুধ তাঁর নিজের লাইনে আলাদা করে লেখা, অন্যগুলোর সঙ্গে মেশানো হয়নি।
কাগজ লেখার ফাঁকে ফোন ঘাঁটছিলাম
দেখা শেষে সহকারী আমার কাগজপত্র লিখছিলেন, আমরা অপেক্ষা করছিলাম। নাতি তাঁর ফোনটা আমার হাতে দিল। সময় কাটাতে আমি ময়মনসিংহের জেনারেল সার্জনদের তালিকা উল্টেপাল্টে দেখলাম, শহরের কোন দিকে কার চেম্বার তা পড়লাম। একটু পর আমার নাম ডাকা হলো, কাগজ নিয়ে আমরা বাড়ি ফিরলাম।
বেরোনোর আগে জিজ্ঞেস করা কথাগুলো
ধারাটা মাঝপথে থেমে যায় কেন?
তিনি বললেন, থেমে যাওয়া আর দেরিতে শুরু হওয়া একই ছবির অংশ। নতুন রিপোর্ট এলে আরো পরিষ্কার হবে। আন্দাজে কিছু বলতে তিনি রাজি নন।
শুরু করার জন্য জোর খাটানো কি ক্ষতিকর?
তিনি বললেন, শুরু হওয়ার অপেক্ষায় শরীরে বেশি জোর দেওয়া ঠিক নয়। বাকিটা নিয়ম চলুক, পরের দেখায় রিপোর্টই কথা বলবে।
নতুন রিপোর্ট আজ না করে কয়েক সপ্তাহ পর কেন?
তিনি বললেন, আজ করলে রিপোর্ট প্রায় আমার গোছার রিপোর্টগুলোর মতোই আসবে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বদল থাকলে তা পরিষ্কার ধরা পড়ে।
শেষ পর্যন্ত অপারেশন এসে পড়তে পারে?
তিনি সোজা উত্তর দিলেন। আমার মতো কষ্টে কারো কারো শেষে অপারেশন লাগে, অনেকের লাগে না। ভয় দিয়ে নয়, রিপোর্ট দেখে তিনি বিচার করবেন।
ভালো রাতেও দুইবার উঠতে হয় কেন?
সেটাও তিনি লিখে রাখলেন। রাত আর সন্ধ্যার ছবি আলাদা হতে পারে, তিনি বললেন। পরের দেখায় দুটোই রিপোর্টের পাশে বসিয়ে দেখা হবে।
কোন অবস্থা দেখলে সেদিনই হাসপাতালে যাব?
প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে গেলে আর তলপেট ফুলে উঠে ব্যথা করলে সেদিনই যেতে হবে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এলে, সঙ্গে পিঠে বা পাশে ব্যথা থাকলে, একই কথা। প্রস্রাব ঘন রক্তমেশা হয়ে এলে আর বের করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ালে সেদিনই হাসপাতাল। তলপেটে বা কুঁচকিতে প্রচণ্ড ব্যথা যেটা কিছুতেই কমছে না, সেটা নিয়েও বাড়িতে অপেক্ষা করা যাবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.