সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - মানিকগঞ্জ
কাজের ফাঁকে বারবার ছুটতে হয় বাথরুমে
মানিকগঞ্জের এক পোশাক কারখানায় সেলাই মেশিনের পাশে আমার দশ ঘণ্টার শিফট। গত মাস থেকে গোনা ছেড়ে দিয়েছি, এক শিফটে কতবার লাইন ছেড়ে বাথরুমে যাই। ছয়বার, আটবার। প্রতিবার লাইন চিফের চোখ আমার দিকে ওঠে। সবচেয়ে খারাপ কাজটা করি আমি নিজেই। বারবার যাওয়ার ভয়ে পানি কম খাই, আর যেদিন কম খাই, সেদিন প্রস্রাব করতে গেলে জ্বালাটা আরও কড়া হয়। রাতে দুবার উঠতে হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠি ক্লান্ত শরীর নিয়ে।
শুক্রবারে বড় বোন বাড়ি এসে সবটা শুনে চুপ করে থাকলেন না। শনিবার সকালে তিনি আমাকে জোর করে নিয়ে গেলেন আমাদের নিজেদের ডাক্তারের কাছে, যাঁর কাছে আমাদের পরিবারের সবাই যায়। ডাক্তার আমার দিনের ধরনটা মন দিয়ে শুনলেন। রাতে কতবার উঠি, পানি কতটা খাই, সব জানতে চাইলেন। দুই বছর আগের দেখানোর রিপোর্টগুলোও তিনি দেখলেন। তারপর প্যাডে তিনি একটা অন্য নাম লিখে দিলেন। বললেন, তোমার এবার ইউরোলজিস্ট দেখানো দরকার। শরীর থেকে প্রস্রাব যে পথ বেয়ে বেরিয়ে আসে, সেই পথের দেখাশোনা আর চিকিৎসাই তাঁর কাজ।
সেদিন রাতে রান্নাঘরের টেবিলে বসে বড় বোন তার ফোনে DoctorBD24-এ খুঁজতে বসলেন। দুজনে মিলে মানিকগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকা পড়ে কারখানার ছুটির পরে বসেন এমন চেম্বারগুলোয় দাগ দিলাম। একটা চেম্বার বাসস্ট্যান্ডের কাছেই, শিফট শেষে হেঁটে যাওয়া যায়। আমি সেখানে দেখিয়ে এসেছি।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
কাজের ফাঁকে বারবার ছুটতে হয় বাথরুমে
শরীরের কথা ওঠার আগে তিনি আমার একটা পুরো শিফটের গল্প শুনলেন
ইউরোলজিস্ট প্রথমে জানতে চাইলেন আমার কাজের দিনটা কেমন যায়। এক শিফটে কতবার লাইন ছেড়ে উঠতে হয়? জ্বালাটা সারাদিন থাকে, নাকি কোনো কোনো দিনে ওঠে? পানি কম খাওয়ার কথাটা বলতেই তিনি সেটা লিখে রাখলেন, বকলেন না একটুও। রাতে কতবার উঠি, সেই হিসাবটা আমার পাশে বসা বড় বোন বললেন। আমি ঘুমের মধ্যে অর্ধেকটা টেরই পাই না।
কোনো পরিকল্পনার কথা ওঠার আগে রিপোর্ট পড়া শেষ হলো
বড় বোনের আনা ফোল্ডারটা তিনি খুললেন। পুরোনো পাতার সঙ্গে নতুনগুলো মিলিয়ে তিনি পুরো রিপোর্ট মন দিয়ে পড়লেন। পড়া শেষ হওয়ার আগে ব্যবস্থা নিয়ে একটা শব্দও বলেননি। তারপর তিনি তলপেটে আলতো করে হাত রেখে চেপে দেখলেন, কোথাও ব্যথা বা ভারী ভাব আছে কিনা জিজ্ঞেস করলেন।
তিনি যা লিখলেন, বাড়ি গিয়ে মাকে বলতে পারব এমন সহজ
তাঁর ব্যবস্থাটা ছিল সহজ। নিজের একটা ওষুধ, তাঁর পাতার লাইনে যেভাবে লেখা, ঠিক সেভাবে খেতে হবে। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে আবার বসতে হবে তাঁর সামনে। সেদিন তিনি নতুন পাতাগুলো পুরোনোগুলোর পাশে রেখে পড়বেন। তিনি নিজে মুখে বললেন, আমার কষ্টে কখনো অপারেশন লাগলে সেই কথা তিনি লুকাবেন না। আর কষ্টটা অন্য বিশেষজ্ঞের বিষয় হলে তিনিই সেটা জানিয়ে দেবেন।
দুই প্রেসক্রিপশন নিয়ে আমার ভয়টা যেখানে ছিল
দুটো কাগজ এক ফোল্ডারে চলবে কিনা, এই প্রশ্নটা আমি সরাসরি করলাম। তিনি আমার নিজের ডাক্তারের পাতাটা টেবিলে উল্টে রেখে বললেন, ওটা যেভাবে লেখা আছে, হুবহু সেভাবেই চলবে। একটা লাইনও তিনি কাটেননি, একটা কথাও বদলাননি। তাঁর নিজের ওষুধ তাঁর নিজের কাগজে আলাদা লেখা। দুটো পাতা এক ফোল্ডারে থাকে, কিন্তু একটা আরেকটার গায়ে লাগে না।
সিরিয়াল অনেক পেছনে, ফোনে তালিকা ঘাঁটতে ঘাঁটতে সময় গেল
আমাদের নম্বর তখনো অনেক পেছনে, ওয়েটিং রুমে মাথার ওপর পাখা ঘুরছিল ধীরে। সময় কাটাতে বড় বোনের ফোনে DoctorBD24 খুলে আমি মানিকগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের তালিকা আনমনে উল্টেপাল্টে দেখছিলাম। কোন চেম্বার কখন বসে, সেসব পড়ছিলাম, যদিও আমার দরকার পড়বে কিনা জানি না। এর মধ্যে সহকারী আমার নাম ডাকলেন কাগজ নেওয়ার জন্য।
বেরোনোর আগে আমি যা যা জিজ্ঞেস করে নিলাম
এক শিফটে এতবার বাথরুমে যেতে হয় কেন?
তিনি বললেন, কতবার যাই, এই হিসাবটাই ছবিটার একটা অংশ। নতুন রিপোর্ট হাতে এলে তিনি বিচার করতে পারবেন, কতটা সেগুলো দিয়ে বোঝা যায়।
পানি কম খেলেই জ্বালাটা বেড়ে যায় কেন?
ধরনটা তিনি নোট করে রাখলেন। বাথরুমের ভয়ে পানি কম খাওয়া ছাড়তে বললেন। এই কয়েক সপ্তাহ তাঁর ব্যবস্থা চললে কী হয়, সেটা দেখা যাবে।
রাতে দুবার ওঠা কি এভাবেই চলতে থাকবে?
ঘুম নিয়ে তিনি কোনো ওয়াদা করলেন না। রাতগুলোর হিসাব সত্যি সত্যি রাখতে বললেন। পরের দেখায় বোঝা যাবে কতটা বদলাল আর কতটা বদলাল না।
এই ব্যবস্থা চলার সময় পুরো শিফটের কাজ করা যাবে?
তিনি বললেন, যাবে, কাজটা এখানে শত্রু নয়। চাপ এলে চেপে না রেখে যাওয়ার কথাই তিনি বললেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
নতুন রিপোর্টে যদি দেখা যায় কষ্টটা অন্য বিশেষজ্ঞের বিষয়?
তিনি বললেন, তিনি নিজে তা খোলাখুলি জানিয়ে ঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। ভুল ঘরে রোগী আটকে রাখা ঠিক নয়, এটাই তাঁর কথা।
রাতে হঠাৎ কোন লক্ষণ দেখলে চেম্বারের অপেক্ষা না করে হাসপাতালে ছুটব?
যে রাতে প্রস্রাব একদমই আসবে না, তলপেট ফুলে টানটান হয়ে ব্যথা করবে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর উঠলে, সঙ্গে পিঠে কিংবা গভীরে একপাশে ব্যথা থাকলে। প্রস্রাব ঘন রক্তে মেশানো হয়ে এলে আর প্রতিটা ফোঁটা বের করা কঠিন হয়ে দাঁড়ালে। তলপেটে বা কুঁচকিতে এমন কড়া ব্যথা হলে, যা কিছুতেই থামবে না। এমন রাত এলে সোজা হাসপাতালে যেতে হবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.