সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - দিনাজপুর
রাতে তিনবার ওঠা, শেষেও ফোঁটা ফোঁটা ঝরে
আমার বয়স তেষট্টি। চল্লিশ বছর রেলে চাকরি করে এখন দিনাজপুরে অবসরের জীবন কাটাচ্ছি। শরীরটা রাতজাগার অভ্যাসটা ছাড়তে পারেনি। প্রতি রাতে তিনবার করে ল্যাট্রিনে উঠতে হয়। ধারাটা আগের মতো আসে না, সরু আর দুর্বল হয়ে গেছে। সবচেয়ে ঝামেলা শেষের দিকে। বেরিয়ে আসার পরও ফোঁটা ফোঁটা পড়তেই থাকে। লুঙ্গি ভেজে। পায়জামা ভেজে। সকালে কাপড়ে একটা গন্ধ থাকে, স্ত্রী মুখে কিছু বলেন না। সেটাই সবচেয়ে খারাপ লাগে।
এক সকালে ছেলে ভেজা দাগগুলো দেখে আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করল। সে সপ্তাহেই দুজনে আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার পুরো কথা মন দিয়ে শুনলেন, হাতে থাকা আগের রিপোর্টগুলো দেখলেন। এরপর তিনি বললেন, এবার ইউরোলজিস্টের কাছে যাওয়াই ঠিক হবে। তিনি বুঝিয়ে বললেন, শরীর থেকে প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার নালীগুলোর দেখভাল করেন এই ডাক্তার। পুরুষদের বেলায় সেই নালীগুলোর কাছাকাছি আরও কিছু নিচের অংশ থাকে, প্রস্রাবের কাজের সঙ্গেই জড়িত। সেসবও তাঁর দেখার মধ্যে পড়ে।
রাতের খাবারের পর ছেলে ফোন নিয়ে আমার পাশে বসল। DoctorBD24 খুলে আমরা দিনাজপুরের ডাক্তারদের তালিকা ধীরে ধীরে দেখতে লাগলাম। ছেলে নামগুলো পড়ে শোনাল, আমি শুনে শুনে বাছলাম। বিকেলবেলার একটা চেম্বার বুড়ো মানুষের জন্য ঠিক লাগল। পরের সপ্তাহে বিশেষজ্ঞের সামনে বসে রাতে তিনবার ওঠা আর এই ফোঁটা পড়ার কথা খুলে বললাম।
4 available specialists found
ডাঃ মো. ময়নুল হক চৌধুরী
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস. এইচ. আজমল হোসেন
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নিকোলাস চন্দ্র রায়
Dr. Uttam Karmaker
রাতে তিনবার ওঠা, শেষেও ফোঁটা ফোঁটা ঝরে
চেম্বারের বাইরে বসে ছেলের ফোনে চোখ বুলানো
আমরা সিরিয়ালের অনেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। ছেলে সময় কাটাতে তাঁর ফোনটা আমার হাতে দিলেন। আমি DoctorBD24 খুলে দিনাজপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা উল্টেপাল্টে দেখছিলাম। নিজের শহরে আর কোন কোন ডাক্তার বসেন, সেটা জানার কৌতূহলই ছিল মূলত। নাম ডাক পড়তেই ফোনটা ছেলের পকেটে ফিরে গেল, আমরা ভেতরে ঢুকলাম।
টাইমটেবিল মিলিয়ে নেওয়ার মতো করে তিনি রাতের হিসাব নিলেন
বিশেষজ্ঞ প্রথমেই রিপোর্টে হাত দিলেন না। তিনি চাইলেন, আমার রাতগুলো সাজিয়ে বলি। কতবার উঠতে হয়, কোন কোন সময়ে। ধারা মাঝখানে থামে, নাকি আগাগোড়া সরুই থাকে। শুরু হতে কত সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রেলে কাজ করা মানুষ আমি, ছোট ছোট উত্তরে গুছিয়ে বললাম। কাপড়ে গন্ধ থেকে যাওয়ার কথাটা আমি বাদ দিয়েছিলাম, ছেলে সেটা মনে করিয়ে দিল।
মতামতের আগে পুরোনো ফাইলের প্রতিটা পাতা পড়া হলো
কথা শেষ হওয়ার দিকে তিনি ছেলের হাত থেকে ফাইলটা নিলেন। আগের রিপোর্টগুলো তিনি একটার পর একটা শেষ পর্যন্ত পড়লেন। তারপর হাতের তালু তলপেটে আলতো করে রেখে চাপ দিয়ে দেখলেন, কোথাও ভারী বা টান লাগে কিনা। এরপর সহজ কথায় তিনি সাজিয়ে বললেন। রিপোর্টে যা আছে, তাঁর নিজের পরীক্ষায় যা পেয়েছেন, দুটো মিলিয়ে ছবিটা কেমন দাঁড়ায়।
বাড়িতে বসে মানা যায়, এমন সহজ পরিকল্পনা
তিনি নিজে একটা ওষুধ লিখে দিলেন, আর সেটা আমি তাঁর লেখা অনুযায়ী হুবহু খাই। আমার নিজের ডাক্তারের ওষুধগুলো যেভাবে লেখা ছিল, ঠিক সেভাবেই চলছে। সেই পাতার ওপর তিনি কলমই তোলেননি, কোনো লাইন কাটার তো প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর ওষুধটা আছে তাঁর নিজের পাতায়, নিজের লাইনে। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে সেগুলো নিয়ে আবার তাঁর কাছে যেতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলে দিলেন, শেষ পর্যন্ত অপারেশন লাগলে তিনি নিজে আমাকে জানাবেন। আর সমস্যাটা অন্য কোনো বিশেষজ্ঞের বিষয় হলে সেটাও তিনি চেপে রাখবেন না।
ওঠার আগে যা যা জিজ্ঞেস করে নিলাম
শেষ হয়েছে ভাবার পরও ফোঁটা ফোঁটা পড়তে থাকে কেন?
তিনি বললেন, ধারা দুর্বলভাবে শেষ হলে ভেতরে কিছুটা থেকে যায়, সেটাই পরে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে। নতুন রিপোর্ট হাতে না পেলে এর বেশি জোর দিয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।
রাতে তিনবার ওঠাটা কি শুধু বয়সেরই কাজ?
সবটা বয়সের ঘাড়ে তিনি চাপালেন না। আমার উত্তর আর রিপোর্ট মিলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, কতটা পুরোনো অভ্যাস আর কতটা এই সমস্যার ফল।
রাতের খাবারের পর পানি কম খেলে ওঠা কমবে?
নিজে থেকে অভ্যাস বদলাতে তিনি মানা করলেন। আগে কয়েক সপ্তাহ সাধারণ রাতগুলো দেখতে চান তিনি, সেই সঙ্গে তাঁর লেখা ওষুধ ঠিকমতো চলুক।
নতুন রিপোর্টগুলো তিনি কীসের পাশে রেখে পড়বেন?
আমার ফাইলের পুরোনো রিপোর্টগুলোর পাশে রেখে। নতুন পাতার সঙ্গে পুরোনো পাতার যেখানে তফাৎ, সেটাই পরের দেখার মূল আলোচনা হবে।
সামনে গিয়ে কোনোদিন অপারেশনের কথা উঠতে পারে?
তিনি বললেন, এমন সমস্যার কোনোটা সেদিকে যায়, অনেকগুলো যায় না। রিপোর্ট দেখে তিনি বিচার করবেন, যেদিকেই যাক, আমার সামনে বসেই তিনি তা বলবেন।
রাতে কোন লক্ষণ দেখলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে হাসপাতালে যাব?
কোনো রাতে প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে গেলে আর তলপেট ফুলে উঠে ব্যথা করলে দেরি করা যাবে না। সারা শরীর কাঁপিয়ে জ্বর এলে, সঙ্গে পিঠে বা পাশে ব্যথা বসলে, সেটাও একই সতর্কতা। প্রস্রাব রক্তে ঘন হয়ে এলে আর বের করতে ক্রমশ কষ্ট বাড়লে সেদিনই যেতে হবে। তলপেটে বা কুঁচকিতে ভারী ব্যথা যেটা কমছেই না, সেটা নিয়েও ঘরে বসে থাকা যাবে না। এমন রাতে ছেলেকে বলা আছে, আমাকে সোজা হাসপাতালে নিয়ে যেতে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.