সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - মানিকগঞ্জ
বস্তা তুলতে গেলেই কাঁধে টান পড়ে আজকাল
মানিকগঞ্জে একটা চালকলে কাজ করি। বয়স বাহান্ন। সারাদিনের কাজ মানেই মঞ্চে বস্তা তোলা আর গুদামঘরে বয়ে নেওয়া। ইদানীং কাঁধের ভেতরে গভীর ব্যথা থাকে সবসময়। হাত পুরো সোজা করতে গেলে কনুইতে ব্যথা লাগে। কোনো কোনো দিন হাত ফুলে এমন হয় যে বস্তার কোনা ধরাই কষ্টকর হয়ে ওঠে।
এটা একদিনে শুরু হয়নি। বছরখানেক আগে শুধু খুব ভারী কাজের দিনে ব্যথা আসত। এক রাতের ঘুমেই ঠিক হয়ে যেত। ধীরে ধীরে বিশ্রামেও আর কাজ হলো না। এখন প্রতিটা বিরতির পর কোমর শক্ত হয়ে থাকে। আবার বস্তা তোলার আগে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করতে হয়। আমাদের ডাক্তার পরীক্ষা করে সব শুনলেন। তারপর বললেন, ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যাওয়া এই গাঁটের সমস্যার জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞ আছেন। রিউমাটোলজিস্টের নামটা তিনিই প্রথম বললেন আমাকে।
বাড়ি ফিরে ছেলের মোবাইলে দুজনে মিলে খুঁজতে বসলাম। প্রথমে মানিকগঞ্জের ডাক্তারদের একত্র তালিকা খুলে সন্ধ্যাবেলায় জেলার ডাক্তারদের নাম দেখে নিলাম। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজে দেখে নিতে চেয়েছিলাম, এখানে কোন কোন ধরনের ডাক্তার আছেন। দেখতে দেখতে ডাক্তারের বলা নামটাই বারবার মনে পড়ছিল।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
বস্তা তুলতে গেলেই কাঁধে টান পড়ে আজকাল
কলের কাজ নিয়ে তিনি যা যা জানতে চাইলেন
কাঁধে হাত দেওয়ার আগেই তিনি পুরো গল্পটা শুনতে চাইলেন। কোন গাঁটে কষ্ট, কোনটার শুরু কবে, বিশ্রামের পর জড়তা কেমন থাকে। ক্লান্তির কথাও বাদ গেল না। বহু বছর আগের অসুখের কথাও জিজ্ঞেস করলেন। তারপর ধীরে ধীরে আমার হাত ওঠালেন। কনুই ঘুরিয়ে দেখলেন। গাঁটে গাঁটে চাপ দিয়ে বুঝলেন ব্যথাটা ঠিক কোথায় বসে আছে।
কয়েক সপ্তাহ পরপর দেখা, প্রতিবার অল্প বদল
তিনি শুরুতেই বুঝিয়ে দিলেন, আমার মতো সমস্যা একবার বসলেই মিটে যায় না। নির্দিষ্ট তারিখে ফিরে যেতে হয়। প্রতিবার তিনি একই গাঁটগুলো আবার পরীক্ষা করেন। গত মাসের তুলনায় বস্তা তুলতে এখন কেমন লাগে, সেটা জানতে চান। বদল দরকার হলে অল্পটুকু বদলে আবার দেখেন। নাটকীয় কিছু নেই। এই স্থিরভাবে দেখাটাই আমার পছন্দ হয়েছে।
পরীক্ষাগুলো দিয়ে তিনি কী বুঝতে চেয়েছিলেন
দ্বিতীয়বার যাওয়ার আগে তিনি রক্ত পরীক্ষা দিলেন। গাঁটের ছবিও তুলতে বললেন। তিনি বললেন, ছবিতে গাঁটের অবস্থাটা দেখা যাবে। রক্ত পরীক্ষায় এমন কিছু জানা যাবে, যা আমার গল্পে ধরা পড়ে না। আগের রিপোর্টগুলোও তিনি খুঁটিয়ে পড়লেন। সবকিছু সামনে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
যেদিন তিনি সার্জনের কথা তুললেন
তিনি সৎভাবে বললেন, কোনো গাঁট একটা সীমার বাইরে নষ্ট হয়ে গেলে তাঁর ধরনের যত্নে কাজ হয় না। তখন সার্জনের মতামতটাই বেশি জরুরি। আমাদের কলের মালিকের ভাইয়ের কোমরের গাঁট ঠিকমতো নড়ে না। এক সন্ধ্যায় আমি মানিকগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের পেজ খুলে তাঁকে দেখালাম, এমন মতামত কোথায় পাওয়া যায়। নিজের সীমা স্বীকার করেন যিনি, তাঁর ওপর ভরসা রাখা যায়।
শুরুর দিকে আমার জানার ছিল যা যা
কলে বস্তা তোলা কি বন্ধ করে দিতে হবে?
তিনি কাজ বন্ধ করতে বলেননি। কোন নাড়াচাড়ায় ব্যথা বেশি লাগে, সেটা খেয়াল করে সত্যিটা তাঁকে বলতে বলেছেন। আমার কাঁধ কতটা কাজ এখনো নিতে পারে, দুজনে মিলে সেটা বুঝব আমরা।
কাজের চেয়ে বিরতির পর কোমর বেশি শক্ত লাগে কেন?
তিনি বললেন, বিশ্রামের পরের জড়তাটা তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। এতে সমস্যার ধরনটা বুঝতে সুবিধা হয়। প্রতিটা বিরতির পর জড়তা কতক্ষণ থাকে, সময়টা লক্ষ করতে বলেছেন তিনি।
কোনো দিন হাত ফোলে, কোনো দিন ফোলে না কেন?
তিনি বললেন, এই ফোলা ওঠানামাটাই তিনি সময় নিয়ে দেখেন। একবারের দেখায় এর কারণ বোঝা যায় না। কয়েকবারের দেখায় যে চিত্রটা দাঁড়ায়, সেটাই একটা ভালো বা খারাপ দিনের চেয়ে বেশি বলে দেয়।
আমি যেসব ওষুধ খাচ্ছি, সেগুলো কি বন্ধ হয়ে যাবে?
না, এ নিয়ে তিনি কড়া ছিলেন। যিনি ওষুধগুলো দিয়েছেন, তিনি যেভাবে ঠিক করে দিয়েছেন, সেভাবেই চলবে। এক সপ্তাহ কাঁধে আরাম লাগলেও নিজে থেকে কিছু বন্ধ করা যাবে না। বদলের সিদ্ধান্ত একমাত্র সেই ডাক্তারেরই।
আসল উন্নতি কবে নাগাদ আশা করতে পারি?
তিনি কোনো তারিখ দেননি। এখন বুঝি, সেটাই ঠিক ছিল। তিনি বললেন, এমন সমস্যায় উন্নতি আসে ধীরে ধীরে। কতটা বস্তা তুলতে পারি আর হাত কতটা স্বাধীনভাবে নড়ে, তা দিয়েই আমরা মাপব।
সন্ধ্যায় কোনো গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে উঠলে সকাল পর্যন্ত রাখা যাবে?
না, রাখা যাবে না। কোনো গাঁট হঠাৎ গরম, ফোলা আর খুব ব্যথা হলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর এলেও একই কথা। কোনো গাঁট হঠাৎ একদম নাড়ানো না গেলেও সেদিনই যেতে হবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.