সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - কক্সবাজার
ডেকে দাঁড়ালেই হাঁটু জমে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
আমার বয়স সাতচল্লিশ, মাছ ধরার নৌকায় কাজ করি। ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলে হাঁটু শক্ত হয়ে ওঠে। তীরে নামার পর গোড়ালিতেও টান লাগে। ভেজা দড়ি টানতে টানতে আঙুলগুলো ব্যথায় ভরে যায়। আমার নিজের ডাক্তার দিনের এই ধারাটা শুনলেন মন দিয়ে। তারপর বললেন, গাঁটের বিশেষজ্ঞ কাউকে দেখিয়ে নেওয়া উচিত।
নৌকায় পা ব্যথা করলেই বসে পড়ার সুযোগ থাকে না। ঢেউ এলে পাশের কাঠ ধরে ভারসাম্য রাখতে হয়। ঝুড়ি নিয়ে নিচে নামা প্রতি মৌসুমে ধীর হয়ে যাচ্ছে। ডাঙায় উঠেও হাঁটু সহজে ভাঁজ হতে চায় না। ক্লান্তিটা রাতের খাবারের পরও থেকে যায়। একটু বিশ্রামে ভালো লাগে, পরের যাত্রায় আবার একই জড়তা।
ডাক্তারদের কাজ এভাবে ভাগ করা, তা আগে জানতাম না। তিনি বললেন, রিউমাটোলজিস্টের প্রতিদিনের কাজ ফিরে আসা গাঁটের ব্যথা আর জড়তা নিয়ে। কাছে কোথাও পাওয়া যাবে, এমন প্রতিশ্রুতি কেউ দেয়নি। কাজ শেষে এক সন্ধ্যায় বাড়ি বসে খোঁজ শুরু করলাম। খুললাম কক্সবাজারের ডাক্তারদের ডিরেক্টরি, সেখানে এই নির্দিষ্ট কাজের খোঁজেই চোখ বুলালাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
ডেকে দাঁড়ালেই হাঁটু জমে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
সাধারণ ক্লান্তি দিয়ে এই ধারাটা মেলেনি
শুধু দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট হলে ডাঙায় উঠে গোড়ালি শিথিল হওয়ার কথা। আমার নিজের ডাক্তার জানতে চাইলেন, প্রতিটা যাত্রার পর জড়তা কতক্ষণ থাকে। সকাল আর সন্ধ্যার মধ্যে ফারাক আছে কিনা, সেটাও জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরগুলো একটা ধারায় গাঁথা পড়তেই তিনি বিশেষজ্ঞের কথা তুললেন। ফিরে ফিরে আসা গাঁটের ব্যথা এমন হাতেই যাওয়া উচিত, তিনি বললেন।
দাঁড়ানো, ধরা আর ভাঁজ: সেদিনের পরীক্ষা
প্রতিটা হাঁটু ধীরে ভাঁজ করে দেখলেন টানটা কোথায় বসে। গোড়ালি দুই দিকেই হালকা ঘুরিয়ে দেখলেন তিনি। দাঁড়াতে, ভর বদলাতে আর বসতে বললেন সামনে। তারপর একটা একটা করে আঙুলের গাঁট চেপে দেখলেন। পরীক্ষার মধ্যে তীব্র ব্যথা ওঠেনি কোথাও। তিনি তাড়াহুড়ো করে রায় না দিয়ে নড়াচড়াটা মাপছিলেন।
আগের রিপোর্ট আগে, তারপর নতুন পরীক্ষা
নতুন কিছু লেখার আগে আগের রিপোর্টগুলো পড়লেন একে একে। তারপর বললেন, রক্তের পরীক্ষায় গল্পের ফাঁক কিছুটা ভরতে পারে। গাঁটের ছবিও কাজে আসতে পারে বলে যোগ করলেন। দেখার আগেই ফল নিয়ে কোনো কথা তিনি দিলেন না। যাই আসুক, সিদ্ধান্ত আসবে তার পরে।
সার্জনের দরজাটা আলাদা দরজা
গত শীতে নৌকা থেকে নামতে গিয়ে আমার চাচাতো ভাই হাঁটুতে চোট পেয়েছিল। হাঁটুটা আটকে যায়, ভর নিতে পারে না। ডাক্তার বললেন, ওই হাঁটুর বিচার সার্জনের কাজ, গাঁটের ওষুধের নয়। সপ্তাহের মধ্যেই আমরা তাঁর জন্য কক্সবাজারের আশপাশের জেনারেল সার্জনদের তালিকা ঘেঁটেছিলাম। তাঁর পথ আর আমার পথ সেখানেই আলাদা।
চলতি ওষুধে কোনো হাত নয়
একটা সীমানা তিনি কথা কম বলেই বুঝিয়ে দিলেন। আমার চলতি ওষুধগুলো লেখা মাত্রাতেই চলতে থাকবে। সকালে গাঁট হালকা লাগলেই ফাঁক দেওয়ার অনুমতি নিজে নিজে নেওয়া যায় না। বদলের আলোচনা হবে প্রেসক্রিপশন দেওয়া ডাক্তারের সঙ্গে, মুখোমুখি বসে। এর মধ্যে ওষুধ চলবে লেখা নিয়মেই।
মনে মনে যেসব প্রশ্ন ঘুরছিল
নৌকার কাজের চাপটা তিনি বুঝবেন তো?
দাঁড়িয়ে থাকা, দড়ি টানা আর রাতের যাত্রা নিয়ে তিনি বিস্তারিত জিজ্ঞেস করলেন। সারসংক্ষেপ নয়, পুরো সপ্তাহের কাজটাই শুনতে চাইলেন। রুটিনটা ঠিকমতো শুনলে ধারাটা বিচার করা যায়। তিনি সেই মনোভাবেই শুনছিলেন।
হাঁটু ভাঁজ করার সময় তিনি আসলে কী দেখেন?
জড়তায় আটকানোর আগে হাঁটু কতটা ভাঁজ হয়, তিনি দেখেন। কোন জায়গায় টান বা ব্যথা বসে, তাও জিজ্ঞেস করেন। আরেক হাঁটুর সঙ্গে একইভাবে মিলিয়ে নেন। ধরার ক্ষমতা আর গোড়ালির নড়াচড়াও দেখা হয়।
রিপোর্টে অস্বাভাবিক কিছু না এলে খোঁজ কি শেষ?
না। তিনি বললেন, স্বাভাবিক ফলেও ধারাটার ব্যাখ্যা বাকি থেকে যায়। পরের দেখাগুলোতে জড়তার আচরণ সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। নতুন প্রমাণ এলে পরে পরিকল্পনাও বদলাতে পারে। প্রথম দফাটাকে তিনি শুরু হিসেবেই দেখেন।
এই চিকিৎসা কি মাসের পর মাস চলতে পারে?
পারেই, তিনি সেটা লুকাননি। এই সমস্যাগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে বদলায়, দুই দিকেই। দেখাগুলোতে গাঁটের সাড়া বুঝে পরিকল্পনা ঠিক করা হয়। তাড়াতাড়ি প্রতিশ্রুতির বদলে এই সত্যটাই শুনতে ভালো লেগেছে।
কখন একটা গাঁট তাঁর হাত ছেড়ে সার্জনের হাতে যায়?
যখন গাঁটের ভেতরের ক্ষতি সরাসরি মেরামত চায়, তিনি বললেন। সেই বিচার পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি মিলিয়ে হবে। কোথাও পাঠানোর আগে কারণটা তিনি বুঝিয়ে বলবেন। সেই খোলামেলা ভঙ্গিটাই মনে ভরসা দিয়েছে।
গোড়ালি গরম, ফোলা, একদম নাড়াতে পারছি না। এখন কী হবে?
সেই অবস্থায় অপেক্ষা করার প্রশ্নই ওঠে না। হঠাৎ গরম, ফোলা আর প্রচণ্ড ব্যথা করা গাঁট নিয়ে সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর এলে জরুরি ভাবটা আরও বাড়ে। একদম আটকে যাওয়া গাঁটের ক্ষেত্রেও একই কথা। সেদিনই দেখিয়ে নিন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.