সেরা রেডিওলজিস্ট - ঢাকা
সকালে ঘুম ভাঙে কোমরের ব্যথা নিয়ে
আমার বয়স উনত্রিশ, ঢাকায় একটা ব্যাংকে অফিসার হিসেবে কাজ করি। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে চেয়ারে বসে। অনেক দিন ধরেই কোমরের নিচের দিকে ব্যথা হতো শুধু সন্ধ্যার দিকে। তারপর ব্যথাটা রাত জুড়েও থাকতে শুরু করল। এখন সকালে কাজে বের হওয়ার আগেই ব্যথা নিয়ে দিন শুরু হয়। আমার ডাক্তার আমাকে পরীক্ষা করলেন, পুরো কথাটা শুনলেন। তারপর আর কিছু ঠিক করার আগে তিনি আমার কোমরের নিচের অংশের ছবি তুলতে পাঠালেন।
ছবি তোলা শেষ, এখন অপেক্ষার পালা, আর এই অপেক্ষারও একটা ভার আছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, ছবি পড়াটা কি তাড়াহুড়ো করে সেরে ফেলা হবে? আমার মতো ডেস্কে বসে কাজ করা মানুষের ব্যথা সহজেই সাধারণ টান ভেবে উড়িয়ে দেওয়া যায়। আমি চাই, যিনি ছবিগুলো পড়বেন, তিনি যেন ঠিকমতো সময় নিয়ে দেখেন। রিপোর্ট আমার ডাক্তারের হাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত অফিসের আর বাসার সব পরিকল্পনাই অর্ধেক মনে হয়।
সত্যি বলতে, এমন ছবি কে পড়েন, তা নিয়ে আগে কখনো ভাবিইনি। এক সহকর্মী বুঝিয়ে বললেন, এই কাজটা করেন একজন রেডিওলজিস্ট, তাঁর কাজ প্রায় শুধু এটাই। শুনে কৌতূহল হলো, আমি ঢাকার ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকা খুলে দেখলাম, নানা ধরনের ডাক্তার সেখানে কীভাবে দেওয়া আছেন। আমার খোঁজ শুরু হয়েছিল সেখান থেকেই। তালিকাগুলো পড়েছি এই ভূমিকাটা বুঝতে, তাড়াতাড়ি উত্তর পাওয়ার আশায় নয়।
5 available specialists found
ডা. ফারহানা হক
ডা. মাসুমা আক্তার
ডা. সামিরা শারমিন
Dr. Md. Nazrul Islam
সকালে ঘুম ভাঙে কোমরের ব্যথা নিয়ে
ডেস্কের কাজ যেভাবে আমার সকাল পর্যন্ত পৌঁছে গেল
প্রথমে চেয়ারকেই দোষ দিয়ে একটা কুশন কিনে ফেললাম। ব্যথা তাতে গেল না। লম্বা মিটিং মানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একভাবে বসে থাকা, তারপর উঠতে গেলে সাবধানে উঠতে হয়। আমার ডাক্তার শুধু সেদিনের ব্যথা নয়, সপ্তাহ ধরে ব্যথার হাল জানতে চাইলেন। পরের ধাপ ঠিক করার আগে তিনি ছবিগুলো নিজের সামনে পেতে চান। শুধু উপসর্গ শুনে আন্দাজ করা তাঁর পছন্দ নয়, সত্যি বলতে আমারও নয়।
দুজন ডাক্তার, দুটো আলাদা কাজ
আমার ছবি যিনি পড়েন, সেই রেডিওলজিস্ট বসেন আমার ডাক্তারের ঘর থেকে আলাদা এক ঘরে, কাজও আলাদা। তিনি ছবিগুলো একে একে দেখেন, কোমরের নিচের প্রতিটা অংশ মন দিয়ে যাচাই করেন। আমার বেলায় মেলানোর মতো পুরনো কোনো ছবি ছিল না। তাই তিনি এই নতুন ছবিগুলোই নিজে থেকে পড়ে যা পেলেন তা লিখে দেন। সেই রিপোর্ট যায় আমার ডাক্তারের কাছে, যিনি আমাকে, আমার কাজ আর আগের ইতিহাস জানেন। সিদ্ধান্তটা থাকে সেই ঘরেই, যিনি আমাকে পরীক্ষা করেছেন তাঁর হাতে।
আমার নিয়মিত ওষুধের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই
ছবি তোলা হয়েছে বলে আমার নিয়মিত ওষুধের কিছুই বদলায়নি। আমি সেগুলো খেয়ে যাচ্ছি ঠিক সেই নিয়মে, যেভাবে আমার ডাক্তার লিখে দিয়েছেন। সেই নিয়মের ওপর রেডিওলজিস্টের কোনো অধিকার নেই, তিনি একটা মাত্রাও বদলাবেন না। বদল দরকার হলে সেটা আসবে শুধু আমার নিজের ডাক্তারের কাছ থেকে।
এরপর তালিকাটা নিয়ে যা করলাম
তালিকাটা কয়েক দিন ফোনে খোলাই পড়ে ছিল। নিজেই দেখলাম, ঢাকার জেনারেল সার্জনদের তালিকা ঘাঁটছি, আরেক ধরনের বিশেষজ্ঞের প্রোফাইল কীভাবে দেওয়া থাকে দেখতে। এটা ছিল শুধু পড়া, কোনো ঠিক করা নয়। তালিকাগুলো পাশাপাশি দেখে বুঝলাম, এই ভূমিকাগুলো আসলে কতটা আলাদা। প্রতিটা ধরনের ডাক্তার কাজের একটা অংশ করেন।
যেসব কথা জানতে চেয়েছিলাম
আমার কোমরের ছবি আসলে পড়েন কে?
পড়েন একজন রেডিওলজিস্ট। এমন ছবি মন দিয়ে পড়া আর আপনার চিকিৎসা করা ডাক্তারের জন্য পরিষ্কার রিপোর্ট লেখাই তাঁর পুরো কাজ।
রেডিওলজিস্ট কি রিপোর্টটা আমাকে নিজে বুঝিয়ে বলবেন?
তাঁর রিপোর্ট লেখা হয় আপনার নিজের ডাক্তারের জন্য। সেই ডাক্তারই পরে আপনার আগের অবস্থা আর পরীক্ষার কথা মনে রেখে তা বুঝিয়ে বলেন।
আমাকে আবার ছবি তুলতে ডাকা হতে পারে?
হ্যাঁ, তা হতে পারে। প্রথম ছবিগুলোর কোনো অংশ অস্পষ্ট থাকলে তিনি রিপোর্ট শেষ করার আগে আরও ছবি চাইতে পারেন।
রেডিওলজিস্ট কি আমার ওষুধ বদলে দিতে পারেন?
না। তিনি আপনার ওষুধে হাতই দেন না। আপনার ডাক্তার যে নিয়ম ঠিক করে দিয়েছেন, তিনি নিজে না বদলালে তা ঠিক সেভাবেই চলবে।
আমার ডাক্তার এই রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করেন কেন?
তিনি চান, সিদ্ধান্তের আগে ছবিগুলো যত্ন করে পড়া হোক। রিপোর্টের পর নেওয়া সিদ্ধান্ত শুধু উপসর্গের ওপর দাঁড়ায় না, আর তিনি সেটাই পছন্দ করেন।
ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে গেলে, বা পা দুর্বল লাগলে, রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করব?
না, সেদিনই হাসপাতালে যান। হঠাৎ তীব্র ব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা, রক্ত যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বাড়িতে বসে থাকা যাবে না। রিপোর্ট অপেক্ষা করতে পারে, আপনি পারেন না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.