সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - সিলেট
সবাই বেরিয়ে গেলেই ঘরটা আমার কাছে ফাঁকা আর ভারী লাগে
আমি একষট্টি বছরের গৃহিণী, সংসারটা প্রায় চল্লিশ বছর ধরে আমিই সামলেছি। রান্না, নামাজ, নাতিনাতনি, উঠান, সবকিছুতেই আমার হাত ছিল। এই শীতে হঠাৎ করে মনটা বদলে গেল। ছেলে চায়ের দোকানে গেলেও বুকের ভেতরটা ধকধক করে। বউমা বাজারে বের হলেই আমি দরজা পর্যন্ত পেছন পেছন যাই।
রাতে পাশে কেউ না থাকলে ঘুম একদম আসতে চায় না। স্বামী পাশে ঘুমালে তবু কিছুক্ষণ চোখ বুজে থাকে। তিনি গ্রামের বাড়ি গেলে নাতিকে কাছে টেনে রাখি, ওর নিশ্বাস শুনলে ভরসা লাগে। দিনের বেলায় ঘড়ি দেখি, কে কখন ফিরবে সেই হিসাব করি। ছোট শব্দেও চমকে উঠি, বন্ধ দরজা দেখলে হাত কাঁপে। আগে সেলাই নিয়ে একা বসতে ভালো লাগত, এখন সদর দরজার পাশে বসে থাকি।
ছেলে বলল, এই ভয় নিয়ে বকা বা হাসাহাসি চলবে না, ডাক্তার দেখানো দরকার। সে বোঝাল, এ ধরনের কষ্টের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নামে আলাদা ডাক্তার আছেন। আমি জানতামই না, সাধারণ চেম্বারেই তাঁরা বসেন। এক সন্ধ্যায় ছেলে DoctorBD24-এ সিলেটের ডাক্তারদের তালিকা খুলে কাছাকাছি নামগুলো দেখাল। তালিকায় নাম দেখে বিষয়টা আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হলো। আমি রাজি হলাম, গিয়ে শুধু নিজের কথাটা খুলে বলব।
14 available specialists found
Prof. Dr. Gopi Kanta Roy
Dr. Shamsul Haque Chowdhury
Prof. Dr. Md. Shafiqur Rahman
Prof. Dr. Dipendra Narayan Das
Dr. Ahmad Riad Chowdhury
Dr. Md. Enayet Karim
Dr. RKS Royel
Dr. Susmita Roy
Dr. Md. Shafiul Islam
Dr. Md. Abdullah Sayed
Prof. Dr. Md. Rezaul Karim
Dr. Md. Mahmudul Hasan
সবাই বেরিয়ে গেলেই ঘরটা আমার কাছে ফাঁকা আর ভারী লাগে
সবাই বেরিয়ে গেলে মাথার ভেতর যা যা ঘোরে
গেট বন্ধ হলেই মাথায় একের পর এক বিপদের কথা আসে। পড়ে গেলে কেউ শুনতে পাবে তো? চুলা দেখে বসি, আবার উঠে গিয়ে দেখি। শরীর ক্লান্ত হলেও মনটা সজাগ পাহারায় থাকে। সন্ধ্যা নামলে নিজের ওপরই রাগ হয়, সেই রাগে পরের দিনটা আরও ভারী লাগে।
প্রথম বসায় শোনাটাই ছিল বেশি
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জিজ্ঞেস করলেন, এই ভয় কবে থেকে, আর এখন একটা দিন কেমন যায়। ঘুমের কথা উঠল আগে, তারপর খাওয়া, দিনের অভ্যাস আর শরীরের খবর। আগের রিপোর্টগুলো দেখা হলো, তারপরই তিনি মতামতের কথা তুললেন। শরীরের কোনো কারণ আগে যাচাই দরকার হলে সেই কাজ অন্য ডাক্তার করবেন, তিনি স্পষ্ট বললেন। এই খোলামেলা কথায় মনটা একটু হালকা হলো।
ফিরে ফিরে আসতে হবে, ছোট ছোট ধাপে বদল আসবে, এমনটাই তিনি বললেন। নিয়ম করে কথা বলার বসার কথা উঠল, ওষুধের কথাও সম্ভাবনা হিসেবে এল, প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়। পরিবারের কেউ বসায় থাকবে কিনা, সেটা আমার রাজি হওয়ার ওপর ছাড়া হলো।
স্বামীর অপারেশনের জন্য অন্য রকম খোঁজ
গত মাসে স্বামীকে বলা হলো, পেটের ফোলা জায়গাটার জন্য অপারেশন লাগবে। আমরা DoctorBD24-এ সিলেটের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে বুঝতে চাইলাম, এই কাজ কারা করেন। সেই খোঁজ ছিল তাঁর শরীরের জন্য, আমার কষ্টের জন্য নয়। সেদিন বুঝলাম, সমস্যা অনুযায়ী ডাক্তারের ধরনও আলাদা হয়।
ওষুধের ব্যাপারে আমার নিজের নিয়ম
ওষুধ যদি আমার চিকিৎসায় থাকে, কাগজে লেখা পরিমাণ আর সময় মেনেই আমি তা খাই। এক সকালে মনটা শান্ত লাগল বলেই হঠাৎ বন্ধ করে দিই না। কোনো ওষুধে মাথা ঘুরলে বা অস্থির লাগলে দিনটা মনে রাখি, ডাক্তারকে দেরি না করে জানাই। লেখা ওষুধ বদলানোর কথা উঠবে তাঁর সঙ্গে কথা বলার পরই।
ঘরের গোপন কথা কি আমাকে বলতেই হবে?
না, কতটা বলব সেটা আমার নিজের সিদ্ধান্ত। পরিবারের কেউ আলোচনায় থাকবে কিনা, তাও আমার অনুমতি ছাড়া হয় না। আস্থা এসেছে ধীরে ধীরে, প্রতিটা বসায় সেই সম্মান দেখে।
কোনো কোনো সকালে মনটা বেশ শান্ত থাকে। তবু কি যাওয়া উচিত?
উচিত, শান্ত সকালের কথাও আমি খুলে বলি। ভালো একটা সকাল মাসের পর মাসের ভয়ের রাত মুছে দেয় না। ঘুম নিয়ে ছোট ছোট নোট রাখি, তাতে প্রতিটা বসা পরিষ্কার হয়।
আমার এই কষ্টে শরীরের কোনো ভাগ থাকতে পারে কি?
এই প্রশ্নটা প্রথম থেকেই গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথম বসায় আমার শরীরের খবর খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। শরীরের পরীক্ষা আগে দরকার হলে ডাক্তার তা ঘুরিয়ে না বলে সোজা বলেন।
কথা বলার বসা কি আমার চিকিৎসায় থাকবে?
সেটা একটা সম্ভাব্য অংশ হিসেবে এসেছে, বাঁধা নিয়ম হিসেবে নয়। আমার পুরো কথা শোনার আগে কিছুই ঠিক হয়নি। প্রতিটা ফিরতি বসায় ঘুম আর দিনের হাল দেখা হয়।
লোকে আমার এই যাওয়া নিয়ে কথা বলবে ভেবে ভয় লাগে। কী করব?
বাইরে থেকে চেম্বারে যাওয়াটা অন্য যেকোনো ডাক্তার দেখানোর মতোই দেখায়। কাকে বলব, সেটা আমি নিজে ঠিক করি। ছেলে জানে, প্রতিবেশী জানে না, এই সীমানাটা আমারই থাকে।
খুব খারাপ কোনো রাতে নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা যদি ঠেকানো কঠিন হয়ে ওঠে, তখনই কী করব?
বাড়ির কাউকে জাগিয়ে সোজা বলুন, আজ রাতে নিজেকে নিরাপদ মনে হচ্ছে না। তাঁকে পাশে থাকতে বলুন, সেই রাতেই হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে বলুন। ওসব চিন্তা নিয়ে একা কোনো ঘরে নিজেকে আটকে রাখবেন না। পরপর কয়েক রাত প্রায় ঘুমহীন কাটলে আর মন থামতে না চাইলেও একই পথ নিন। গোসল, খাওয়া, পোশাক পরার মতো সহজ কাজ হঠাৎ সামলানো না গেলেও দেরি করবেন না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.