সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - পাবনা
স্বামী চলে যাওয়ার পর সারাদিন জানালার ধারেই বসে থাকি
আমার বয়স আটষট্টি, স্বামী মারা গেছেন গত শীতের এক ভোরে। প্রায় চল্লিশ বছর একই বাড়িতে একসঙ্গে কাটিয়েছি আমরা। তিনি চলে যাওয়ার পর প্রথম দিকে আত্মীয়েরা খুব আসতেন। ধীরে ধীরে আসা কমেছে, বাড়িটা আমার চারপাশে ফাঁকা হয়ে গেছে। ভাত রাঁধি কোনো কোনো দিন, কিন্তু খেতে বসলে অল্পতেই থেমে যাই।
সকাল থেকে আলো কমে আসা পর্যন্ত জানালার ধারেই বসে থাকি। রাস্তায় রিকশা যায়, ছেলেমেয়েরা স্কুল থেকে ফেরে, আমি শুধু তাকিয়ে থাকি। মেয়ে এলে তার সঙ্গেও কথা খুব কম বলি আজকাল। কথা বলতে গেলে গলায় যেন ভার এসে জমে। রাতে তাঁর খালি জায়গাটার দিকে তাকিয়ে ঘুম আসে না সহজে। ঘুম এলেও সকালে শরীর আর মন দুটোই অবসন্ন লাগে।
মেয়ে একদিন ধীরে বলল, মনের ডাক্তারের কাছে আমার দিনগুলোর কথা বলা দরকার। সে তাড়া দেয়নি, পাশে বসে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছে উত্তরের জন্য। তার কথা, শোক শুধু মনে থাকে না, প্রতিদিনের অভ্যাসেও ঢুকে পড়ে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা নাকি এমন ভারী দিনের কথা নিয়মিত শোনেন। আমি রাজি হলে সে আমার জন্য উপযুক্ত কাউকে খুঁজতে বসল। প্রথমে DoctorBD24-তে পাবনার ডাক্তারদের তালিকা থেকে নামগুলো সে আমাকে পড়ে শোনাল।
5 available specialists found
Dr. Soubarno Roy Badhan
Dr. Mohammad Ali
Prof. Dr. Tanmay Prakash Biswas
Dr. Md. Masud Rana Sarkar
Dr. Nikhil Kumar Saha
স্বামী চলে যাওয়ার পর সারাদিন জানালার ধারেই বসে থাকি
তিনি প্রথমে স্বামীর কথাই জানতে চাইলেন
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ শুরুতে আমার ঘুম বা খাওয়া নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি স্বামীর কথা, আমাদের দীর্ঘ বছরগুলো আর প্রতিদিনের অভ্যাস জানতে চাইলেন। তাঁর সকালের চা আর সন্ধ্যায় মসজিদের দিকে হাঁটার কথা বললাম। বাড়িটা এখন কেমন ফাঁকা লাগে, সেটাও তিনি শুনলেন মন দিয়ে।
খাওয়া আর কথা, দুটোই কবে যেন কমে গেছে
তিনি নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন, খাবার এত কমে গেল কেন। বললাম, স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকে কোনো খাবারেই স্বাদ পাই না। মেয়ে এলে কথা কম বলি কেন, সেটাও তিনি জানতে চাইলেন। বললাম, প্রতিটা কথা যেন টেনে তুলতে হয় গলা দিয়ে। তারপর তিনি বোঝালেন, শোক কীভাবে পুরো দিনের চলাটাই স্তব্ধ করে দেয়।
নাতির জন্য তখন অপারেশনের ডাক্তার দরকার ছিল
সেই সময়েই আমার নাতির একটা যন্ত্রণাদায়ক ফোলা অপারেশন করে ফেলতে বললেন তার ডাক্তার। পরিবারের দরকার ছিল, বাড়ির কাছে কারা এমন অপারেশন করেন তা জানা। মেয়ে পাবনার জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে ছেলের বাবা-মায়ের জন্য কয়েকটা নাম আলাদা করে রাখল। নাতির সমস্যা ছিল শরীরের আর জরুরি ধরনের, আমারটা ধীরে জমে ওঠা ভার।
ওষুধ নিয়ে তিনি আমাকে যেভাবে বুঝিয়ে দিলেন
তিনি বললেন, ওষুধ দিলে তাঁর লিখে দেওয়া সময় মেনে আমাকে খেতে হবে নিয়মিত। মাঝে মাঝে বাদ দিলে বা একদিনে ছেড়ে দিলে শরীরে অস্বস্তি হতে পারে। পরিমাণের কোনো বদল হবে আমাদের দুজনের আলোচনার পর, তার আগে নয়। তাঁর দেওয়া কিছুতে অসুবিধা বোধ করলে ফোন করে বা এসে জানাতে বললেন তিনি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ চেপে রাখার চেয়ে আগেভাগে জানানোই ভালো, বললেন তিনি।
মেয়ে পাশে বসবে কি না, সেটা আমার কথাতেই হবে
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কথার সময় মেয়েকে ভেতরে চাই কি না। আমি বললাম, আপাতত নয়, তিনি কোনো আপত্তি করেননি তাতে। পরে ইচ্ছা হলে মেয়ে কোনো সাক্ষাতের এক অংশে বসতে পারবে। বদল আসবে কয়েকবার বসার ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে, তিনি জানালেন। নিয়মিত বসে স্বামীর কথা খুলে বলার সুযোগের কথাও তিনি বললেন।
আমার বয়সে যেসব কথা জানতে চেয়েছিলাম
আটষট্টি বছর বয়সে এই ভারের জন্য সাহায্য নেওয়া কি দেরি হয়ে গেছে?
তিনি বললেন, শোনা আর সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। আমার মতো সমস্যা নিয়ে বয়স্ক মানুষ তাঁর কাছে নিয়মিত আসেন। আসল কথা হলো, আপনি এসে সত্যি কথাটা বলতে পেরেছেন।
তিনি কি শুধু লক্ষণ জিজ্ঞেস করবেন, নাকি স্বামীর কথাও শুনবেন?
সবার আগে তিনি স্বামীর কথাই জানতে চেয়েছেন আমার কাছে। আপনার গল্প, আপনার দিন আর পরিবার, সবই তাঁর কাছে গুরুত্ব পায়।
আমার এই অবস্থার পেছনে শরীরের কোনো কারণ থাকতে পারে কি?
তেমন সন্দেহ হলে তিনি তা স্পষ্ট করে বলে দেবেন। তখন অন্য ডাক্তার দিয়ে সেই দিকটা ঠিকমতো দেখিয়ে নিতে বলবেন তিনি। আগের রিপোর্টগুলো তিনি সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই দেখেন।
ছেলেমেয়েদের সামনে বসে কথা বলতেই হবে কি?
না, কে পাশে বসবে আর কে বাইরে থাকবে, সেটা আপনার সিদ্ধান্ত। আমি প্রথমে একা কথা বলেছি, সেটা পুরোপুরি মানা হয়েছে। পরে মন বদলালে উল্টোটাও করা যাবে সহজে।
স্বামীর কথা বলতে গেলে শোক কি আরও বেড়ে যাবে?
তিনি বললেন, শুরুতে চোখে পানি আসতে পারে, সেটা চলবে। আপনি তৈরি নন, এমন বিষয়ে তিনি জোর করবেন না।
নিজের ক্ষতি করার ভাবনা এসে যদি মন থেকে না যায়, তখন কী করা উচিত?
রাত হলেও বাড়িতে যিনি আছেন, তাঁকে ডেকে কথাটা জানিয়ে দিন। তাঁকে বলুন, আপনাকে সেদিনই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। হঠাৎ গোসল, খাওয়া বা পোশাক পরার মতো কাজ নিজে করতে না পারলেও সেদিনই হাসপাতালে যাওয়া দরকার। ভেতরের ভয় সামলানোর বাইরে চলে গেলেও দেরি না করে সেদিনই যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.