সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - মানিকগঞ্জ
ছোটখাটো কথাতেই আজকাল চোখ ভিজে আসে
আমার বয়স তেতাল্লিশ। মানিকগঞ্জে একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। পাঁচজন মানুষের সংসার আর চল্লিশটা বাচ্চার ক্লাস, দুটোই এতদিন একা হাতে সামলেছি। কিন্তু কয়েক মাস ধরে যেন ভেতরে ভেতরে কিছু একটা বদলে গেছে। কোনো একটা খারাপ দিন থেকে শুরু হয়নি। ধীরে ধীরে এসেছে, টের পাইনি কখন।
এখন চা ছিটকে পড়লেই চোখে পানি এসে যায়। স্কুলে কোনো বাচ্চা একই প্রশ্ন দুইবার করলে মনে হয়, আর পারছি না। ঘরে চাল ধোয়া হয় না, কাপড় বালতিতেই পড়ে থাকে। সেদিকে তাকিয়ে নিজের ওপরই রাগ হয়। ঘুমটাও হালকা হয়ে গেছে। গেটের শব্দে, কুকুরের ডাকে, নিজের চিন্তার ঘূর্ণিতেই জেগে উঠি। সকালে শরীর ভাঙা, সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটি। পরে নিজেই অনুতপ্ত হই।
স্বামী একদিন বললেন, বিশ্রাম দিয়ে এটা যাবে না, ডাক্তার দেখাতে হবে। স্কুলের এক সহকর্মী বুঝিয়ে দিলেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হলেন মনের কষ্টের ডাক্তার। শরীরের অসুখের যেমন আলাদা ডাক্তার থাকে, মনের জন্যও তেমন। কোথা থেকে খোঁজ শুরু করব জানতাম না। এক সন্ধ্যায় ফোনে DoctorBD24-তে মানিকগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকা খুলে সেখান থেকেই দেখতে শুরু করলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
ছোটখাটো কথাতেই আজকাল চোখ ভিজে আসে
প্রথম দিন তিনি আমার সব কথা শুনলেন
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আমাকে গোড়া থেকে বলতে দিলেন। কান্না কবে থেকে আসছে, স্কুলের দিনটা কেমন যায়, রাতগুলো কেমন কাটে, এসব জানতে চাইলেন। পরিবারের কথা জিজ্ঞেস করলেন। আগেও এমন হয়েছে কিনা তাও জানতে চাইলেন। শরীরের পুরোনো অসুবিধা আর ক্লিনিকের আগের রিপোর্টের কথাও উঠল।
শরীরের দিকটাও তিনি বাদ রাখেননি
তিনি পরিষ্কার বললেন, মনের কষ্টটাই সবসময় পুরো কারণ নাও হতে পারে। শরীরের কোনো সমস্যা থেকে এসব শুরু হলে সেই পরীক্ষা আগে অন্য ডাক্তারের কাছে করিয়ে নিতে হবে। অনুমানে তিনি কিছু ধরে নিতে চান না।
বদল আসবে ধীরে, তিনি আগে থেকেই বললেন
দুই একবার বসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, এমন আশ্বাস তিনি দেননি। নিয়মিত ব্যবধানে বসা হবে, বসে কথা হবে। কোনটা বদলাল আর কোনটা থেকে গেল, তা ধাপে ধাপে দেখা হবে। দিন গুনে নয়, মাস ধরে এটাকে বিচার করতে বলেছেন।
ওষুধ চলবে তাঁর লিখে দেওয়া নিয়মে
দ্বিতীয়বার বসার দিন তিনি একটা ওষুধ লিখে দিলেন, কীভাবে খেতে হবে তাও লিখে দিলেন। আমি সেই লেখা মেনেই চলি। এক সপ্তাহ ভালো লাগলেই নিজে বাদ দিয়ে দিই না। ওষুধে কোনো অসুবিধা বোধ করলে তাঁকে জানাই। মাত্রা বদলানোর দরকার হলে সেই সিদ্ধান্ত তাঁর ঘরেই হয়, আমার রান্নাঘরে নয়।
আমার ফুফাতো বোনের দরকার ছিল অন্য ডাক্তার
শরীরের সমস্যার ঠিকানা আবার আলাদা। গত শীতে আমার ফুফাতো বোনের পেটের নিচের দিকে একটা ব্যথাওয়ালা ফোলা ধরা পড়ল। তাঁর নিজের ডাক্তার বললেন, অপারেশন লাগবে। তিনি খুঁজে নিলেন মানিকগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দিয়ে। আমার কষ্ট মনের, তাই আমার তালিকা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
তিনি শুধু কান্নার কথা না শুনে সংসার আর স্কুলের কথা জিজ্ঞেস করলেন কেন?
তিনি বললেন, কান্না একা আসে না। ঘুম, কাজ আর সংসার মিলেই ছবিটা তৈরি হয়। সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে তিনি পুরো ছবিটা দেখতে চান।
আমি যা বলি, তা কি তিনি আমার স্বামীকে বলে দেবেন?
আমি না বললে নয়, আর বললেও শুধু যতটুকু আমি রাজি হব। কোনোদিন তিনি বসতে চাইলে আমার সম্মতি নিয়েই বসবেন। একা বলা কথা ওই ঘরেই থেকে যায়।
কান্না আর হালকা ঘুমের শুরুটা যদি শরীর থেকে হয়?
তাহলে তিনি খোলামেলা বলেই সেই কাজের ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। অনুমানের ওপর সব সাজানোর চেয়ে আগে ওই দিকটা যাচাই করে নেওয়াই তাঁর কাছে ঠিক।
এসবের মধ্যেও স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যাওয়া যাবে তো?
আমি যাচ্ছি, তিনিও চান দৈনন্দিন ছন্দটা যেন ধরে রাখি। স্কুল আমার দিনের একটা ঠাঁই দেয়, তিনি বলেছেন। কোনো দিন বেশি ভারী লাগলে সেটা বসে তাঁকে বলতে হবে।
আগের মতো স্বাভাবিক হতে কতদিন লাগতে পারে?
তিনি কোনো দিনক্ষণ বেঁধে দেননি। কোনো সপ্তাহ হয়তো একই রকম যাবে, সেটাই ব্যর্থতা নয়। ছোট ছোট বদল আমরা বসায় বসায় মিলিয়ে দেখব।
কোনো সন্ধ্যায় নিজের ক্ষতি করার চিন্তা মাথা থেকে না গেলে কী করব?
সেই সন্ধ্যা একা কাটানো যাবে না। পাশের কাউকে তক্ষুনি জানিয়ে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। পরপর কয়েকটা রাতে চোখে ঘুম না নামলেও সেদিনই যেতে হবে। হঠাৎ গোসল করা বা খাওয়ার মতো কাজ সামলানো না গেলেও তাই। পরের বসার তারিখ পর্যন্ত ফেলে রাখা যাবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.