সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - দিনাজপুর
রাত নামলেই নিজের বাড়িতে একা থাকতে ভয় করে
আমার বয়স তেষট্টি। দিনাজপুরে নিজের বাড়িতে একা থাকি। গত বছর স্বামী মারা গেছেন। দিনের বেলা কোনোরকমে চলে যায়। রান্না করি, উঠান ঝাড়ু দিই, পাশের বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই একটা ভয় এসে চেপে বসে, কিছুতেই তাড়াতে পারি না। দিনের বেলা এই ভয়ের কথা কাউকে বলতেও লজ্জা লাগে।
রাতে ছোট ছোট শব্দও বড় শোনায়। বাতাসে গেটের শব্দ, গলিতে কুকুরের ডাক, টিনের চালে বৃষ্টির শুরু। উঠে গিয়ে দরজা আবার দেখি, কোনো রাতে দুবারও দেখি। মাঝে মাঝে পাশের বাড়ির দরজায় গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। ঘুম আসে টুকরো টুকরো। সকালে উঠে শরীর ভাঙা থাকে, আর সারা দিন সন্ধ্যা নামার ভয় মনে জমে থাকে।
ছেলেরা অন্য জেলায় থাকে, প্রায়ই ফোন করে। ছোট ছেলে গতবার বাড়ি এসে পাশে বসে বলল, এই ভয়টা শুধু সঙ্গ দিয়ে যাবে না, ডাক্তার দেখানো দরকার। সে বলল, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মন আর ঘুমের কষ্টের চিকিৎসা করেন। যাওয়ার আগে আমরা দুজনে তার ফোনে DoctorBD24-তে দিনাজপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে একসঙ্গে দেখলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
রাত নামলেই নিজের বাড়িতে একা থাকতে ভয় করে
প্রথম বসায় ছেলে কিছুক্ষণ ছিল, তারপর বাইরে গেল
প্রথম দিন ছেলে প্রথম দিকে সঙ্গে বসেছিল, আমার রাজিতেই। বাসায় আমার অবস্থা কেমন চলছে, সে ডাক্তারকে বলল। পরে আমি একা কথা বলতে চাইলে তিনি ছেলেকে বাইরে অপেক্ষা করতে বললেন। তিনি বললেন, আমার বসায় কে থাকবে, সেটা প্রতিবার আমারই সিদ্ধান্ত।
তিনি আমার শরীরের খবরও নিলেন
তিনি আমার বুকের অবস্থা, রক্তচাপ, আর বাসার টিনের বাক্সে রাখা পুরোনো রিপোর্টের কথা জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, বয়সের শরীরের কোনো গোলমাল ঘুম নষ্ট করে ভয় বাড়িয়ে দিতে পারে। তেমন কিছু মনে হলে আগে অন্য একজন ডাক্তারের কাছে সেই দিকটা দেখিয়ে নিতে হবে। আন্দাজে তিনি কিছু ঠিক করবেন না।
রাতগুলো এক সপ্তাহে বদলাবে না
তিনি বলেননি, এক সপ্তাহে আমি শান্তিতে ঘুমাব। নিয়মিত ব্যবধানে বসা হবে। শুধু কথায় কাজ না হলে পরে ওষুধ যোগ হতে পারে। পরের বসার আগে কোন লক্ষণ দেখলে অপেক্ষা না করতে হবে, তাও তিনি বলে দিয়েছেন।
ওষুধ লেখার আগেই তিনি নিয়মটা বলে রেখেছেন
এখনো আমার জন্য কোনো ওষুধ লেখা হয়নি। তবু প্রথম দিনই তিনি নিয়মটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। পরে তিনি যা লিখবেন, তা হুবহু সেভাবেই খেতে হবে, যতদিন তিনি বলবেন। এক রাত ভালো ঘুম হলেই নিজে থেকে হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না। গায়ে না সইলে তাঁকে জানাতে হবে, বদলটা তিনিই করবেন।
একই সাইটে অন্য কাজের ডাক্তার আলাদা তালিকায়
খুঁজতে গিয়ে ছেলে আমাকে দেখাল, সাইটটায় ডাক্তাররা কাজ অনুযায়ী সাজানো। শরীরের যেসব সমস্যায় অপারেশন দরকার, তাদের জন্য আছে দিনাজপুরের জেনারেল সার্জনদের আলাদা তালিকা। আমার কষ্ট ভয় আর ভাঙা রাত নিয়ে, তাই আমরা মনের ডাক্তারদের দিকেই থাকলাম।
এই বয়সে ভয় পাওয়াটা কি ডাক্তার দেখানোর মতো বিষয়?
আমিই তাঁকে এটা জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, যে ভয় ঘুম কেড়ে নেয় আর সন্ধ্যাগুলো ভারী করে তোলে, সেটাই যথেষ্ট কারণ। একেবারে সামলাতে না পারা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না।
তিনি আমার বুক আর পুরোনো রিপোর্টের কথা জানতে চাইলেন কেন?
তিনি বললেন, শরীরের গোলমাল অনেক সময় ভয় আর ভাঙা ঘুমের রূপ নিয়ে আসে। কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে তিনি সেই দিকটা যাচাই করে নিতে চান।
ছেলেরা দূরে থাকে। তারা কি এর মধ্যে থাকতে পারবে?
পারবে, আমি যেভাবে চাই সেভাবেই। প্রথম বসায় ছোট ছেলে আমার কথাতেই বসেছিল। বাসায় কোন কোন বদলের দিকে তাদের খেয়াল রাখতে হবে, তাও তিনি তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন।
ভয়টা কি পুরোপুরি চলে যাবে?
তিনি সেই কথা দেননি। বললেন, রাতগুলো ধাপে ধাপে শান্ত হতে পারে। বসায় বসায় মিলিয়ে আমরা সেটা দেখব।
পরের বসার আগে কোনো রাত খুব খারাপ গেলে কী করব?
তিনি বলেছেন, ঠিক করা ছোট রুটিনটা ধরে রাখতে, আর ভয় নিয়ে একা বসে না থেকে ছেলেকে ফোন করতে। ভয় সামলানোর বাইরে চলে গেলে সাক্ষাতের অপেক্ষা করা যাবে না।
কোনো রাতে যদি নিজের ক্ষতি করার মতো চিন্তা আসে?
সেটা সেদিনেরই হাসপাতালের বিষয়। পাশের বাড়ির কাউকে হোক, ফোনে ছেলেকে হোক, সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে, আর সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। একটানা কয়েক রাত ঘুম না এলেও সেদিনই যেতে হবে। হঠাৎ গোসল, খাওয়া, দিনের সাধারণ কাজ সামলানো না গেলেও তাই।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.