সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - কুমিল্লা

তালা ঠিকমতো লেগেছে তো, ফিরে গিয়ে আবার দেখি

আমার বয়স বায়ান্ন। কুমিল্লায় ছোট একটা দোকান চালাই। প্রতিরাতে দোকান বন্ধ করে শাটার নামিয়ে তালা লাগাই। তারপর বাড়ির পথে অর্ধেক গেলেই মাথায় সন্দেহ কাজ শুরু করে। তালাটা ঠিকমতো লেগেছে তো? শাটারটা পুরোপুরি নামিয়েছিলাম তো? বেশির ভাগ রাতেই ফিরে গিয়ে দেখে আসি। কোনো কোনো রাতে দুইবারও দেখতে হয়।

ব্যাপারটা শুধু দোকানেই থামে না। দিনের হিসাব মেলাতে গিয়ে ছোট একটা ভুল হলে মন সেটা নিয়ে দিনের পর দিন পড়ে থাকে। কোনো খদ্দেরকে ভুল ভাঙতি দিয়ে ফেলেছি কিনা, কোনো বিল ভুল লিখেছি কিনা। এই ছোট ছোট বিষয় খাওয়ার সময়, ঘুমানোর চেষ্টার সময় মাথায় ঘোরে। ছেলে এখন কয়েক সন্ধ্যায় নিজেই দোকান বন্ধ করে, তবু আমি ফোন করে তালার কথা জিজ্ঞেস করি।

গত মাসে দোকানের একটা ভুলে কিছু টাকা নষ্ট হওয়ায় ছেলে বলল, এই অবস্থা আমাকে খেয়ে ফেলার আগেই কারো সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমাদের পারিবারিক ডাক্তারও রাজি হলেন, আর মনোরোগ বিশেষজ্ঞের নাম বললেন, যিনি মনের কষ্টের চিকিৎসা করেন। আমি খুঁজতে শুরু করলাম DoctorBD24-এ। প্রথমেই চোখে পড়ল কুমিল্লার জেনারেল সার্জনদের তালিকার পেজটা, যেটা আমার দরকারের ডাক্তার নয়। তবে বুঝলাম সাইটটায় সব ধরনের ডাক্তার আলাদা আলাদা তালিকায় রাখা। সেখান থেকে খোঁজ চালিয়ে গেলাম।

4 available specialists found

Dr. Sayeedus Shakalan

Qualifications
অবস্থান লাকসাম, কুমিল্লা

Dr. Md. Belayet Hossain Bhuiyan

Qualifications MBBS (DMC), MD (Psychiatry)
অবস্থান লাকসাম, কুমিল্লা

Dr. Md. Saiful Islam Bhuiyan

Qualifications MBBS, MPhil (Psychiatry) (BSMMU)
অবস্থান কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা

Dr. Md. Azizur Rahman

Qualifications MBBS, M.Phil (Psychiatry), FRSH (London), PGT (Medicine)
অবস্থান লাকসাম, কুমিল্লা

তালা ঠিকমতো লেগেছে তো, ফিরে গিয়ে আবার দেখি

তালার গল্প শুনে তিনি হাসেননি

বলতে গিয়ে আমার নিজেরই অর্ধেক লজ্জা হচ্ছিল। পঁচিশ বছর ধরে দোকান চালানো মানুষ রাতে ফিরে গিয়ে তালা টেনে দেখে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হাসি ছাড়াই পুরোটা শুনলেন। বললেন, এমন একটা রাতের কথা পুরোপুরি বলতে। সন্দেহটা প্রথম কখন জাগে? তারপর তিনি ঘুম, কাউন্টারে কাটানো দিন, আর গত বছরগুলোতে শরীরের অবস্থা জানতে চাইলেন।

যে মন কোনো বিষয় ছাড়তে পারে না

তিনি বললেন, কোনো কোনো মন দুশ্চিন্তাকে এভাবে ধরে রাখে, যেভাবে হাত গরম কাপ ধরে রাখে। দুশ্চিন্তাটা নিজে সাধারণ। তালা সবাই দেখে। সমস্যা হলো, আমার মন চোখের দেখা উত্তরটা মেনে নেয় না, তাই আমাকে আবার পাঠিয়ে দেয়। কথাটা এভাবে শুনে বোকামি না ভেবে মনের একটা অভ্যাস হিসেবে দেখতে পেরে বাকি কথাগুলো বলা সহজ হয়েছিল।

সামনের সপ্তাহগুলো যেভাবে যাবে

তিনি বললেন, নির্দিষ্ট ব্যবধানে বসে কথা বলার আসর হবে। বদল আসবে ধীরে, আসরে আসরে তা মিলিয়ে দেখা হবে। শরীরের কথা, আগের অসুখের কথাও তিনি জিজ্ঞেস করলেন। পরিষ্কার করে বললেন, শরীরের দিক থেকে কিছু পরীক্ষার দরকার হলে সেই কাজটা আগে অন্য একজন ডাক্তার দেখবেন।

ওষুধের সঙ্গে তাঁর একটাই শর্ত

দ্বিতীয় আসরে তিনি আমার জন্য একটা ওষুধ লিখলেন। শর্তটা পরিষ্কার করে দিলেন। ওষুধটা লেখা অনুযায়ী, লেখা সময়ে খেতে হবে, শান্ত একটা সপ্তাহ গেলেও চালিয়ে যেতে হবে। নিজের বিচারে হঠাৎ ছেড়ে দেওয়াটাই একমাত্র কাজ, যা করা যাবে না। ওষুধটা না সুটলে তাঁকে জানাতে হবে, বদলের সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। এই অংশটা তিনিই ঠিক করবেন, আমি বাসায় বসে নয়।

পরিবার যুক্ত হবে আমার সম্মতিতেই

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ছেলেকে কোনোদিন সঙ্গে বসাতে চাই কিনা, কারণ প্রতিরাতের এই যাচাইটা ছেলেই কাছ থেকে দেখে। আমি বললাম, ভেবে দেখব। তিনি মাথা নেড়ে বললেন, আমি রাজি না হলে আমার আসরের কথা পরিবারের কাছে পৌঁছাবে না। তৈরি হলে ছেলে আসবে শুধু সেই অংশে, যেটা আমি বেছে দেব। তার আগে নয়।

একই সাইটে আরও একটা তালিকা চোখে পড়ল

প্রথম সন্ধ্যায় DoctorBD24 ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম, অন্য তালিকার পাশাপাশি সাইটটায় ঢাকার মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের তালিকাও রাখা আছে। প্রত্যেক ধরনের ডাক্তার সেখানে নিজের জায়গায় সাজানো।

তালা দেখা নিয়ে কি সত্যিই ডাক্তারের কাছে যাওয়া যায়?

এই প্রশ্নটা আমিই তাঁকে করেছিলাম। তিনি বললেন, যে অভ্যাস একজন মানুষের ঘুম আর মনের শান্তি কেড়ে নেয়, সেটা ডাক্তারকে শোনানোর মতো বিষয়। একদম অসহায় হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই।

শরীর আর আগের অসুখের কথা তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন?

তিনি বললেন, শরীর আর মন আলাদা নয়। মনের কোনো কোনো কষ্টের গোড়া শরীরে থাকে। তাঁর প্রশ্ন যদি সেদিকে যায়, তিনি সেই ভাগের জন্য ঠিক ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

যাচাই করা কি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে?

তিনি এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি বললেন, আমরা চেষ্টা করছি মন যেন প্রথম উত্তরটাই মেনে নিতে শেখে। কিছুটা যাচাই হয়তো থেকেই যাবে, সেটা সাধারণ ব্যাপার।

ছেলে যদি জানতে চায় আমরা কী আলোচনা করি?

তাহলে সে শুধু ততটুকুই শুনবে, যতটুকু আমি জানাতে রাজি। আমার আসর আমার নিজের। শুরুতেই তিনি এটা পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন।

আবার কতদিন পর গিয়ে বসতে হবে?

পরের সাক্ষাৎ ঠিক আছে কয়েক সপ্তাহ পর। তারপর ব্যবধান নির্ভর করবে রাতগুলো কেমন যাচ্ছে তার ওপর।

কোনো রাত যদি সত্যিই সামলানোর বাইরে চলে যায়, তখন কী করব?

নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এসে তা ঠেকানো কঠিন মনে হলে বাসার কাউকে তখনই জানাতে হবে, আর সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। টানা কয়েক রাত একদম ঘুম না হয়ে মন থামতে না চাইলেও তাই। হঠাৎ গোসল, খাওয়ার মতো কাজ সামলানো না গেলেও সেদিনই। মনের অস্থিরতা ধরে রাখার বাইরে চলে গেলেও একই কথা। এই নির্দেশটা তিনি আমাকে দুবার করে বলেছিলেন।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.