সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - কক্সবাজার

সেই ঝড়ের পর থেকে ছোট শব্দেও চমকে উঠি

আমার বয়স আটত্রিশ। কক্সবাজারে পর্যটকদের নৌকায় কাজ করি। গত বর্ষায় যাত্রী নিয়ে ফেরার পথে হঠাৎ উত্তাল আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছিলাম। নৌকা জোরে দুলছিল, পাশ দিয়ে পানি উঠে আসছিল। একপর্যায়ে সত্যিই মনে হয়েছিল, আমরা আর তীরে পৌঁছাতে পারব না। পৌঁছেছিলাম ঠিকই, কারো বড় ক্ষতি হয়নি। কিন্তু সেদিনের পর থেকে আমার ভেতরের কিছু একটা আর আগের জায়গায় ফেরেনি।

এখন ছোট শব্দই যথেষ্ট। রান্নাঘরে থালা পড়লেই কেন জানি না, কাঁধ ঝাঁকিয়ে ওঠে। রাস্তার হর্ন কিংবা মাস্তুলে দড়ির বাড়িতেই বুক ধড়ফড় করে। তার চেয়েও খারাপ হলো নৌকার ভয়টা। ভ্রমণের আগের রাতে ঘুম হয় খণ্ড খণ্ড, শুয়ে শুয়ে বাতাসের শব্দ শুনি আর ঢেউয়ের ছবি চোখে ভাসে। নৌকায় উঠে বারবার আকাশের দিকে তাকাই। হাত কাঁপতে দেখে যাত্রীরাও বুঝে ফেলে।

গত মাসে বড় ভাই বসিয়ে বললেন, এভাবে আর চলবে না। আমাদের এলাকার ক্লিনিকের ডাক্তার, যিনি আমাকে বহু বছর ধরে চেনেন, তিনিও একই কথা বললেন। তিনি জানালেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হলেন এমন একজন ডাক্তার, যিনি মনের কষ্টের চিকিৎসা করেন। ভয় আর ভাঙা ঘুম নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা উচিত। কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে না পেরে এক সন্ধ্যায় ফোনে DoctorBD24-তে কক্সবাজারের ডাক্তারদের তালিকা খুলে সেখান থেকে খোঁজ শুরু করলাম।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

সেই ঝড়ের পর থেকে ছোট শব্দেও চমকে উঠি

তিনি আগে ঝড়ের দিনটার কথা শুনলেন

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তাড়াহুড়ো করেননি। সাগরে সেই দিনের গল্পটা শুরু থেকে বলতে বললেন, আমি ধীরে ধীরে বললাম। গল্প শেষ হলে তিনি এখনকার দিকে এলেন। ঘুম কেমন হয়, নৌকায় দিনটা কীভাবে কাটে। আগের অসুখের কথা, ক্লিনিকের রিপোর্টের কথাও জিজ্ঞেস করলেন।

বিপদ কেটে গেলেও মন পাহারায় থাকে

তিনি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বললেন। বিপদ পার হয়ে যাওয়ার অনেক পরেও মন পাহারায় বসে থাকতে পারে। শুকনো মাটিতে দাঁড়িয়েও মন যেন পরের ঢেউয়ের দিকে চোখ রাখে। এ কথা শুনে মনটা হালকা লেগেছিল। আমি ভাবছিলাম আমার ভেতরে কিছু ভেঙে গেছে। তিনি বললেন, ভয়ের একটা দিন অনেক মানুষ মাসের পর মাস সঙ্গে বয়ে বেড়ায়।

তিনি তাড়াতাড়ি সেরে যাওয়ার কথা বলেননি

সময়ের ব্যাপারে তিনি পরিষ্কার ছিলেন। কয়েক মাসে গড়ে ওঠা ভয় এক সপ্তাহে যায় না। নির্দিষ্ট বিরতিতে আবার বসতে হবে, বসে কথা হবে, রাত আর নৌকার দিন কেমন যাচ্ছে দেখতে হবে। লক্ষণ যদি শরীরের কোনো সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে, তাহলে সেই কাজের ডাক্তারের কাছে আগে পাঠিয়ে দেবেন।

কথা বলার আসরের সঙ্গেই ওষুধ

তিনি বললেন, নিয়মিত বসে কথা বলার আসর চলবে, তার সঙ্গে একটা ওষুধও তিনি লিখলেন। ওষুধটা কী জন্য, কোন বদল দেখলে আগেভাগে জানাতে হবে, বেরোনোর আগে বুঝিয়ে দিলেন। স্ত্রী চাইলে কোনো আসরে সঙ্গে বসতে পারবেন, তবে সিদ্ধান্তটা আমারই থাকবে।

ওষুধ চলবে তাঁর লেখা অনুযায়ী

তাঁর নিয়মটা সোজা। ওষুধটা তিনি যেভাবে লিখে দিয়েছেন, প্রতিদিন ঠিক সেভাবেই খেতে হবে, দিন যেমনই কাটুক। এক সপ্তাহ ভালো লাগলেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। হঠাৎ নিজে থেকে বন্ধ করে দিলে অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ হতে পারে। কোনো অসুবিধা হলে পরের আসরে তাঁকে জানাতে হবে, দরকার হলে তার আগেই। বদলানোর থাকলে তিনিই বদলাবেন।

একই সাইটে অন্য ডাক্তারদের আলাদা তালিকা

প্রথম সন্ধ্যায় খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, DoctorBD24-তে ডাক্তাররা কাজ অনুযায়ী আলাদা ভাগে রাখা। আমার সমস্যা ভয় আর ঘুম, তাই মনের ডাক্তারদের তালিকাই ছিল আমার তালিকা। আমার এক বন্ধুর বগলের নিচে একটা ফোলা গোটা উঠেছে, সে দেখছিল কক্সবাজারের জেনারেল সার্জনদের তালিকা, কারণ তার সমস্যাটা সম্পূর্ণ অন্য ধরনের ডাক্তারের কাজ।

একটা দিনের পুরো গল্প তিনি শুনতে চাইলেন কেন?

তিনি বললেন, সমস্যাটার শুরু ওই দিন থেকে, তাই আগেই সেটা ঠিকমতো শোনা দরকার। নৌকায় সেদিন যা অনুভব করেছিলাম আর এখন যা হয়, তাঁর কাছে দুটো একই গল্পের অংশ।

আমাকে কি নৌকার কাজ ছেড়ে দিতে হবে?

না, তিনি তেমন কিছু বলেননি। কাজ আর রুটিন ঠিকমতো চালিয়ে যেতে বলেছেন। নৌকাই আমার জীবিকা।

ভ্রমণের আগের রাতের ভয়টা কমতে কতদিন লাগতে পারে?

তিনি দিনক্ষণের কোনো হিসাব দিলেন না। ঘুম অল্প অল্প করেই ঠিক হতে পারে বলে জানালেন। কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, আসরে আসরে মিলিয়ে দেখা হবে।

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসরে বসা যাবে?

যাবে, আমি রাজি থাকলে। তিনি বললেন, পরিবারকে আনতে হলে রোগীর ইচ্ছামতোই আনা হয়। একা তাঁর ঘরে যা বলি, আমার অনুমতি ছাড়া তা বাইরে যায় না।

এর পেছনে শরীরের কোনো সমস্যা থাকলে কী হবে?

তাহলে তিনি সোজা বলে সেই কাজের ডাক্তারের দিকে পাঠিয়ে দেবেন। তিনি বললেন, বুক ধড়ফড় করা সবসময় মনের কারণে হয় না। অনুমানের চেয়ে পরীক্ষা করে নেওয়াই তাঁর কাছে ভালো।

নিজের ক্ষতি করে ফেলার চিন্তা মাথায় এলে সেদিন কী করব?

তিনি বলেছেন, এ চিন্তা নিয়ে একা বসে থাকা যাবে না। পাশের কাউকে তখনই জানাতে হবে, আর সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। রাতে একদম ঘুম না হয়ে মন ছুটতে থাকলেও তাই। হঠাৎ গোসল, খাওয়ার মতো রোজকার কাজ সামলাতে না পারলেও সেদিনই। ভয় এমনভাবে চেপে বসলে যে নিজেকে সামলানো যায় না, সেদিন পরের আসরের অপেক্ষা নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.