সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - চাঁদপুর
ভিড়ে দাঁড়ালেই ভয় চেপে ধরে, বেরিয়ে আসতে হয়
আমার বয়স ছাব্বিশ। চাঁদপুরে একটা কলেজে পড়ি। শুরুতে ভেবেছিলাম, শুধু আমারই বুঝি এমন হয়। কোনো সংকেত না দিয়েই ভিড়ের মধ্যে বা পরীক্ষার হলে বসলে আমার ভেতরে ভয় জেগে ওঠে। বুক ধড়ফড় করে ওঠে। নিঃশ্বাস ছোট হয়ে আসে। মনে হয় চারপাশের দেয়াল যেন গায়ে এসে ঠেকছে।
রুম থেকে বেরিয়ে গেলেই একটু শান্ত হই। অথচ কারণটা আমি নিজেও বুঝি না। করিডোরে বা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি, বুকের গতি কমা পর্যন্ত। ক্লাস টেস্টের মাঝখানেও এমন হয়েছে, সবার সামনে উঠে বেরিয়ে গেছি। এই মাসে দুটো ক্লাসে ঢুকতেই পারিনি, ফিরে যাওয়ার সাহস হয়নি বলে। বন্ধুরা প্রথমে হেসেছে, এখন তারাও চিন্তিত।
আমার বড় চাচাতো ভাই কয়েক বছর আগে নিজের এক কষ্টের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছিলেন। তিনি বললেন, আমারটা লুকিয়ে রেখে লাভ নেই। চাঁদপুরে এ জন্য কোথা থেকে শুরু করতে হয়, আমার জানা ছিল না। এক রাতে ফোনে DoctorBD24-তে চাঁদপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে একে একে দেখলাম, ভয় আর মনের বিষয়ে কে রোগী দেখেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
ভিড়ে দাঁড়ালেই ভয় চেপে ধরে, বেরিয়ে আসতে হয়
একটা ঘটনা পুরোপুরি বলতে বললেন তিনি
তিনি বললেন, একটা ঘটনা বেছে নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলতে। কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, প্রথমে কী হলো, কতক্ষণ থাকল। তারপর জানতে চাইলেন, কতদিন পর পর এমন হয়, ঘুম কেমন, সাধারণ একটা দিন কীভাবে কাটে, আগের বছরগুলোতে শরীর কেমন ছিল। আমি বলার সময় তিনি প্রায় কিছুই লিখলেন না।
মাঝে মাঝে শরীরের দিকটা আগে দেখে নিতে হয়
তিনি বললেন, বুক ধড়ফড় করা সবসময় মনের কারণে নাও হতে পারে। আগের কোনো ডাক্তারের রিপোর্ট আমার কাছে আছে কিনা জিজ্ঞেস করলেন। সেখানে কিছু পরীক্ষার থাকলে সেই কাজটা আগে অন্য একজন ডাক্তারের কাছেই সারতে হবে। অনুমান করার চেয়ে এটা বাদ দিয়ে নেওয়াই ভালো, তিনি বললেন।
তাড়াতাড়ি সেরে যাবে, এমন আশ্বাস তিনি দেননি
পরীক্ষা কাছে বলে আমি সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম, এটা কি তাড়াতাড়ি থামবে। তিনি সেরকম কথা দেননি। নিয়মিত ব্যবধানে দেখা হবে, আসরে বসে কথা হবে, ঘটনাগুলোর ব্যবধান কেমন হচ্ছে দেখা হবে। একটা ওষুধও তিনি দিলেন। কোন বদল দেখলে আগেভাগে জানাতে হবে, তাও বলে দিলেন।
ওষুধ চলবে তাঁর লিখে দেওয়া নিয়মেই
তাঁর নির্দেশ ছিল সোজা। ওষুধটা লেখা অনুযায়ী ঠিকঠাক খেতে হবে। এক সপ্তাহ ভালো গেল বলেই নিজের ইচ্ছায় হঠাৎ থামিয়ে দেওয়া চলবে না। কোনো অসুবিধা দেখা দিলে পরের আসরে তাঁকে জানাব। বদলানোর দরকার হলে সেই সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন, আমি বাসায় বসে নয়।
একই সাইটে সার্জনদের নাম আলাদা তালিকায়
সেদিন রাতে ঘাঁটতে গিয়ে দেখেছিলাম, সাইটটায় আলাদা আলাদা তালিকায় ডাক্তাররা সাজানো। অপারেশন লাগে এমন সমস্যার জন্য আছে চাঁদপুরের জেনারেল সার্জনদের আলাদা তালিকা। আমার সমস্যা ভয়, শরীর নয়, তাই ওই তালিকা আমার জন্য ছিল না।
তাঁর সামনে বসে থাকতেই যদি ভয়টা জেগে ওঠে?
তিনি বললেন, শুরু হলেই যেন তখনই বলি। চোখের সামনে ঘটতে দেখলে তিনি যতটা বুঝবেন, পরে বর্ণনা শুনে ততটা বোঝা যায় না।
আমার বলা কথা তিনি পরিবারকে বলে দেবেন?
না। ওই ঘরের কথা ওই ঘরেই থাকে। পরিবারকে জড়াতে হলে আমার সম্মতি যেভাবে দেব, সেভাবেই। আমার অজান্তে নয়।
পরীক্ষা তো কাছেই। তার আগেই কি এটা থামানো যাবে?
তিনি সেই প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং বললেন, পরীক্ষার অনেক আগ থেকে শুরু করে আসরে আসরে স্থিরভাবে কাজ হবে।
আসরগুলো কাজ করছে কিনা বুঝব কীভাবে?
ঘটনাগুলো দিয়েই। আগের চেয়ে কম ঘন ঘন এলে, তাড়াতাড়ি কেটে গেলে, বা রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়া বন্ধ হলে, সেটাই তাঁর মাপ।
ঘুম আর সারা দিনের খবর তিনি জানতে চান কেন?
তিনি বললেন, ভয় বাকি জীবন থেকে আলাদা থাকে না। ঘুম, পড়ার সময় আর পরিবার, সব মিলিয়েই তিনি পুরো ছবিটা সাজাচ্ছেন।
ভয়টা যদি নিজের ক্ষতি করার চিন্তায় বদলে যায়, তখন?
তখন পাশের কাউকে সাথে সাথে জানিয়ে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। পরের আসরের অপেক্ষা তখন চলবে না। টানা কয়েক রাত ঘুম একদম না এলেও তাই। রোজকার গোসল-খাওয়াও যদি সামলানো না যায়, তবেও সেদিনই। এই অংশটা নিয়ে তিনি খুব পরিষ্কার ছিলেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.