সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - সিলেট
উঠোনে পড়ার পর কনুইটা আর আগের মতো নড়ে না
আমার বয়স তিপ্পান্ন। সিলেটে সংসারের কাজকর্ম সামলাই। কয়েক মাস আগে পানির বালতি হাতে উঠোনে পা পিছলে পড়ে যাই। ভর পড়েছিল ডান হাতের ওপর। হাত সেরে গেল, কিন্তু কনুইটা আগের জায়গায় ফিরল না। পুরোপুরি ভাঁজ হয় না, আবার পুরোপুরি সোজাও হয় না। ডাক্তার পরীক্ষা করে, আলতো করে নাড়িয়ে দেখে বললেন, একজন ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গিয়ে দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম করতে হবে।
রান্নাঘরেই সমস্যাটা প্রতিদিন চোখে পড়ে। নিজের কান পর্যন্ত হাত তুলতে পারি না, চুল বাঁধতে গেলে মাথাটাই হাতের দিকে নামিয়ে আনতে হয়। ওপরের তাকে রাখা জিনিস নিতে এখন টুলে উঠতে হয়, অন্যরা সেসব এমনিতেই হাত বাড়িয়ে নেয়। ভেজা শাড়ি নিংড়াতে দুইবার থামতে হয়, মোচড়ের শেষ অংশে সোজা হাত লাগে। বড় হাঁড়িতে নাড়া দিতেও কনুই মাঝপথে থেমে যাওয়ায় কাজটা অস্বস্তিকর লাগে।
এমন সাহায্য আগে কখনো খুঁজিনি। ছেলের বউ প্রথমে পাড়ায় খোঁজখবর নিল। তারপর এক সন্ধ্যায় পাশে বসে DoctorBD24-তে সিলেটের ডাক্তারদের তালিকা খুলে দেখাল। নামগুলো দুজনে ধীরে ধীরে দেখলাম। ডাক্তার যেভাবে বুঝিয়েছিলেন, নড়াচড়া আর ব্যায়াম নিয়েই যাঁর প্রতিদিনের কাজ, তেমন কাউকে খুঁজছিলাম। সেই সন্ধ্যা থেকেই আমার খোঁজ শুরু।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
উঠোনে পড়ার পর কনুইটা আর আগের মতো নড়ে না
প্রথম দিনে ব্যায়াম নয়, শুধু মাপজোক
প্রথম সেশনে কোনো ব্যায়ামই হয়নি। তিনি বললেন, কাঁধ ছুঁয়ে দেখাতে, মাথার পেছনে হাত নিতে, তারপর বালিশের দিকে হাত সোজা করতে। প্রতিটা নড়াচড়া কোথায় গিয়ে থামে, তিনি লিখে রাখলেন। নিজের হাতে কনুই নাড়িয়েও দেখলেন। সেসব মাপের ওপর দাঁড়িয়েই তিনি পরে অনুশীলনের পরিকল্পনার কথা বললেন।
অনুশীলন সাজানো আমার ঘরের কাজ ধরেই
আমার অনুশীলনের কিছুই হাসপাতালের কসরতের মতো লাগে না। একটা নড়াচড়ায় হাত মুখের দিকে ওঠে, খাওয়া আর মুখ ধোয়ার মতো করে। আরেকটায় হালকা চাপের বিরুদ্ধে হাত সোজা করি, দরজা ঠেলে বন্ধ করার মতো। আরেকটায় হালকা কাপড়ের গোছা ধরে ধীরে কনুই ভাঁজ করি। বসার ভঙ্গি আর কাঁধের অবস্থান তিনি ঠিক করে দেন। সহজ হয়ে গেলে পরের ধাপ আসে ছোট করে।
সকাল-সন্ধ্যা দশ মিনিটের নিজের সময়
সেশনের ফাঁকে বাড়িতে অনুশীলন করি, সকালে আর সন্ধ্যায়, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে। সময়টা ছোটই। বাড়ির লোকজন জানে, ওই কয়েক মিনিট আমার নিজের। যেদিন মেহমানে ঘর ভরে যায়, সেদিন ছোট অংশটুকু করে পরের সাক্ষাতে সত্যি করে বলে দিই। তিনি বলেন, নিখুঁত হিসাবের চেয়ে সত্যি কথাটাই তাঁর কাজে লাগে বেশি।
ওষুধের বিষয়ে তিনি মুখই খোলেন না
এই জায়গাটা পরিষ্কার করে বলি। পড়ে যাওয়ার পর ডাক্তার যেসব ওষুধ যেভাবে দিয়েছিলেন, সেগুলো আজও হুবহু সেভাবেই চলছে। ফিজিওথেরাপিস্ট কোনোদিন বলেননি কোনোটা যোগ করতে, বাদ দিতে বা সময় বদলাতে। ওষুধ নিয়ে তিনি কোনো কথাই বলেন না। ওষুধের কাগজ আমার ডাক্তারের কাছেই থাকে। তাঁর ঘরটা শুধু নড়াচড়ার কাজের জন্য।
আমার অগ্রগতির খবর ডাক্তারের কাছে পৌঁছায়
কয়েক সপ্তাহ পর পর তিনি লিখে রাখেন, কনুই কতটা ভাঁজ হচ্ছে আর কতটা সোজা হচ্ছে। সেই লেখা যায় যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, সেই ডাক্তারের কাছে। জোড়ায় এমন কিছু তাঁর চোখে পড়লে যা ব্যায়ামে সামলানো ঠিক নয়, তিনি আন্দাজ না করে আমাকে সোজা ডাক্তারের কাছে ফেরত পাঠাবেন। খুঁজতে গিয়ে দেখেছি, DoctorBD24-তে সিলেটের জেনারেল সার্জনদের তালিকাও আলাদা করে দেওয়া আছে। আমার চিকিৎসা এখনো ব্যায়াম আর পর্যালোচনাতেই আছে।
কনুইটা কি একদিন পুরোপুরি ভাঁজ হবে?
এমন আশ্বাস তিনি দেন না। প্রতিটা সাক্ষাতে লিখে রাখা মাপ ধরেই আমরা এগোই। ভাঁজ শুরুর চেয়ে একটু বেড়েছে, সোজা হওয়াটা এগোচ্ছে ধীরে। তারিখ না বেঁধে তিনি দুই দিকেই কাজ করে যাচ্ছেন ধৈর্য ধরে।
এর পাশাপাশি সংসারের কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে তো?
চালিয়ে যাচ্ছি, কিছু বদল মেনে। সবচেয়ে ভারী নিংড়ানোর কাজ আপাতত ভাগ করে নেওয়া হয়। উঁচু তাকে হাত দিতে গেলে পাশে কেউ থাকলে তবেই উঠি। আপনার দিনে হাতের ওপর আসলে কী কী কাজ পড়ে, ফিজিওথেরাপিস্টকে খুলে বলুন।
সেশনে গিয়ে আসলে কী করতে হয়?
বেশির ভাগ সময় ধীরে ধীরে দেখিয়ে দেওয়া নড়াচড়া, তিনি পাশে থেকে দেখেন আর ভুল ধরিয়ে দেন। কোনো কোনো কাজে তিনি নিজের হাতে কনুইটা নাড়ান। ভঙ্গি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত একই নড়াচড়া আবার করি।
ব্যায়ামের তালিকা বারবার বদলায় কেন?
কারণ কনুইটাই বদলাচ্ছে। গত মাসে যেটা কঠিন ছিল, এখন সেটা দিয়েই শুরু হয়। কোনো জায়গায় অগ্রগতি থেমে গেলে একই জিনিস চালিয়ে না গিয়ে তিনি পদ্ধতি বদলে দেন।
কঠিন সেশনের পর কনুইতে টান বাড়লে চিন্তা করব?
হালকা টান আমার নিজে নিজেই কমে যায়। পরের সাক্ষাতে তাঁকে জানাই, তিনি সেই অনুযায়ী কাজ বদলে দেন। টান বাড়তেই থাকলে, কিংবা ফোলা থেকে গেলে, বিষয়টা তিনি আমার ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
কোন হঠাৎ সমস্যায় সেশনের অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যাব?
শরীরের একপাশ হঠাৎ অবশের মতো দুর্বল হয়ে পড়লে অপেক্ষা নয়, সেদিনই হাসপাতাল। প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে না থাকাটাও তাই। পড়ে গিয়ে হাত বা পা নাড়ানোর শক্তিই না থাকলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বরসহ তীব্র ব্যথা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলেও সেশনের জন্য অপেক্ষা নয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.