সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - নারায়ণগঞ্জ
ডান হাতে এখন আর লিভারটা ধরে রাখতে পারি না
আমার বয়স তেত্রিশ। নারায়ণগঞ্জে একটা হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করি। কয়েক মাস আগে কারখানার সিঁড়িতে পা ফসকে ডান হাতের ওপর পড়ে যাই। ডাক্তার বললেন, কিছু ভাঙেনি। তবু কব্জিটা শক্ত হয়ে সারল, আঙুলের আগের জোরটা আর ফিরল না। প্রথম কয়েকদিন ভেবেছিলাম, নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। এখন কোনো কিছু শক্ত করে ধরতে গেলেই বেশ কষ্ট হয়।
কাজের প্রতিটা ঘণ্টায় এই হাতটার পরীক্ষা হয়। মেশিনের লিভারে জোরে টান লাগে, আমার মুঠো মাঝপথে ছেড়ে দেয়। তৈরি পোশাক ভাঁজ করা সহজ কাজ হওয়ার কথা। অথচ আঙুল কোণাগুলো ধরতে হিমশিম খায়, পুরো লাইনের গতি কমে যায়। প্যাকিং টেবিলে বান্ডিল নিতে গেলে মাঝপথেই চুপচাপ বাম হাতে বদলে নিই আমি। সহকর্মীরা খেয়াল করে, কিছু বলে না। শিফট শেষে বাসায় ফিরে চায়ের গ্লাস ধরতেও মাঝে মাঝে হাতটা ভারী লাগে।
পড়ে যাওয়ার পর যিনি আমার চিকিৎসা করেছিলেন, তিনি বললেন, বিশ্রামে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এবার ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গিয়ে কব্জি আর হাতের জন্য দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম শুরু করতে হবে। একা খুঁজতে গিয়ে প্রথমে বেশ গোলমেলে লাগছিল। এক সহকর্মী DoctorBD24-তে নারায়ণগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকা থেকে শুরু করতে বললেন। সেখান থেকেই আমি খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
ডান হাতে এখন আর লিভারটা ধরে রাখতে পারি না
আগে তিনি আমার মুঠোর জোর মেপে নিলেন
প্রথম সেশনে তিনি আমার হাতে একটা ভাঁজ করা তোয়ালে দিয়ে চাপ দিতে বললেন। তারপর কব্জি ধীরে ধীরে দুই দিকে ঘোরাতে বললেন, যতক্ষণ না থামে। কতটা নড়ল আর কতক্ষণ মুঠো ধরে রাখতে পারলাম, তিনি লিখে রাখলেন। সেই মাপের আগেই কোনো ব্যায়াম শুরু হয়নি। তিনি বললেন, এই সংখ্যাগুলোই আমাদের দুজনকে বুঝিয়ে দেবে, কাজটা এগোচ্ছে কিনা।
অনুশীলনটা সাজানো আমার কাজের ধরন থেকেই
পরিকল্পনাটা কারখানার কাজ থেকেই নেওয়া। মুঠো করা আর ছাড়া, বারবার, মাঝে বিশ্রাম রেখে। লিভার টানার মতো ঘোরানোর নড়াচড়া। কাজে আসল বান্ডিল ধরার আগে ঘরে হালকা বান্ডিল তোলা। তিনি সারাক্ষণ কব্জির দিকে নজর রাখেন। নিজের অজান্তে ভঙ্গি বদলে ফেললে তিনি ধরিয়ে দেন। প্রতি সপ্তাহে কিছু একটা একটু কঠিন হয়, তবে হাত তৈরি হলেই কেবল।
বাসায় যতটুকু সময় বের করি
শিফটের ফাঁকে বাসায় ছোট একটা অনুশীলন করি, সকালে আর সন্ধ্যায়। মুঠো করা, আঙুল ছড়িয়ে দেওয়া, কব্জির ধীর ঘোরানো। বেরোনোর আগে বিছানায় বসে কয়েক মিনিট, ফিরে এসে আরও কয়েক মিনিট। ডাবল শিফটের দিনে ছোট অংশটুকু করে পরের সাক্ষাতে সত্যি করে জানিয়ে দিই। এক সপ্তাহ চুপচাপ বাদ যাওয়ার চেয়ে সেটা শোনাই তাঁর কাছে ভালো।
ওষুধ নিয়ে আমাদের কোনো আলোচনাই হয় না
পড়ে যাওয়ার পর ডাক্তার যেসব ওষুধ যেভাবে ঠিক করে দিয়েছিলেন, সেগুলো আজও ঠিক সেভাবেই চলছে। ফিজিওথেরাপিস্ট তা বাড়ান না, কমান না, আর তা নিয়ে কোনো কথাও বলেন না। প্রথম দিন থেকেই এই সীমাটা পরিষ্কার। তাঁর ঘরটা নড়াচড়ার কাজের জন্য। ওষুধ নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে সেটা যাবে যিনি ওষুধ লিখে দিয়েছেন সেই ডাক্তারের কাছে, তাঁর কাছে নয়।
খবর ফিরে যায়, দরকারে আমিও যাব
কয়েক সপ্তাহ পর পর তিনি আমার মুঠো আর কব্জির অবস্থা নিয়ে ছোট একটা নোট পাঠান যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই ডাক্তারের কাছে। ব্যায়াম দিয়ে ব্যাখ্যা মেলে না এমন কিছু তাঁর চোখে পড়লে, তিনি অনুমান না করে সোজা আমাকে সেখানেই ফেরত পাঠাবেন। এই জেলায় অস্ত্রোপচারের চিকিৎসা নিয়ে যারা খুঁজছেন, তাঁরা DoctorBD24-তে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের তালিকা আলাদা করে দেখতে পারেন। আমার চিকিৎসা এখনো ব্যায়াম আর পর্যালোচনার মধ্যেই আছে।
মুঠোর জোর কি আগের জায়গায় ফিরবে?
এ নিয়ে তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দেন না। আমরা সপ্তাহে সপ্তাহে মুঠোর মাপ মিলিয়ে দেখি। মাপ এগোতে থাকলে বুঝতে হবে, কাজটা হচ্ছে।
এর মধ্যে পুরো শিফটে কাজ চালানো যাবে তো?
আমি চালিয়ে যাচ্ছি, ছোট বদল মেনে। সবচেয়ে ভারী বান্ডিল এখন বাম হাতে নিই। আপনার কাজে হাতের ওপর আসলে কী চাপ পড়ে, ফিজিওথেরাপিস্টকে সেটা খুলে বলুন।
প্রথম সেশনে আসলে কী হয়?
বেশিরভাগটাই মাপজোক। কব্জি কতটা ঘোরে, আঙুল কতটা বন্ধ হয়, মুঠো কতক্ষণ ধরে থাকে, তিনি দেখেন। যা পান, তার ওপর ভিত্তি করেই ব্যায়াম ঠিক হয়।
সেশনের ফাঁকে হাতটা পুরোপুরি বিশ্রামে রাখব?
না। তিনি বলেছেন, হালকা দৈনন্দিন ব্যবহার চলতে পারে। পুরো বিশ্রামের চেয়ে বাসার অনুশীলনটাই বেশি জরুরি। ভারী মুঠোর কাজ এখন এড়িয়ে চলি আমি।
সেশনের পর কব্জি ফুলে গেলে কী করব?
পরের সাক্ষাতে জানান। দুশ্চিন্তা হলে তার আগেই জানান। তিনি সেই অনুযায়ী কাজ বদলে দেন। ফোলা থেকে গেলে সেটা তিনি আমার ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
কোন হঠাৎ সমস্যায় সেশনের অপেক্ষা না করে আজই হাসপাতালে যাব?
শরীরের একদিক হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়লে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। প্রস্রাব বা পায়খানা নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও একই কথা। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়ানো না গেলে সেটাও জরুরি। জ্বরসহ প্রচণ্ড ব্যথা, কিংবা বুকে ব্যথা আর শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও সেশনের দিনের অপেক্ষা করা যাবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.