সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - কক্সবাজার
ঘাটের তক্তায় হাঁটা একসময় ছিল আমার সবচেয়ে সহজ কাজ
আমার বয়স চল্লিশ। কক্সবাজারে পর্যটকদের নৌকায় কাজ করি। ব্যাগ বহন করি, নৌকা ধরে রাখি, ঘাট থেকে নৌকায় পা রাখতে যাত্রীদের সাহায্য করি। এক ভেজা সকালে তক্তায় পা পিছলে গোড়ালিটা মুড়ে যায়। প্রথমে আমার ডাক্তার চোটের চিকিৎসা করেন। তারপর তিনি বললেন, গোড়ালিটার জন্য ফিজিওথেরাপিস্টের দেখানো ব্যায়াম দরকার।
আমার কাজের দিন মানেই সারাক্ষণ ভারসাম্যের পরীক্ষা। আগে এই তক্তার পথটুকু চোখ বন্ধ করে হাঁটতে পারতাম। এক কাঁধে দড়ির গোছা নিয়ে তক্তার ওপর দিয়ে হাঁটি। ঘাট থেকে এমন নৌকায় পা রাখি, যেটা কখনো স্থির থাকে না। নৌকা দুললে যাত্রীরা আমার হাত ধরে ভর করে। সকালে যাত্রীর ভিড় বাড়লে কাজের চাপও বাড়ে, তখন এই দুর্বলতাটাই সবচেয়ে বড় বাধা। দুর্বল গোড়ালি ওখানে লুকানোর জায়গা পায় না।
ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। ভাগনে ফোনে কক্সবাজারের ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকা ঘেঁটে বোঝার চেষ্টা করল, মানুষ এই সাহায্য কীভাবে খুঁজে পায়। চেনা এক নৌকার মালিক তারপর জানালেন, তাঁর কর্মীরা চোট পেলে কোথায় যান। সেখান থেকে শুরু করার একটা জায়গা পেলাম, আর সে সপ্তাহেই সেখানে গেলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
ঘাটের তক্তায় হাঁটা একসময় ছিল আমার সবচেয়ে সহজ কাজ
দাঁড়িয়ে থাকাটাই ছিল আমার প্রথম ব্যায়াম
প্রথম দিন তিনি আমাকে শুধু দাঁড় করালেন। পা ফাঁক করে, তারপর কাছাকাছি এনে, আর গোড়ালি অনিশ্চিত লাগলেই বলতে বললেন। আমি কীভাবে ভর সরাই, ছোট ধাপ থেকে কীভাবে নামি, তিনি সব দেখলেন। আমার ডাক্তার চোট নিয়ে কী বলেছেন, তাও জিজ্ঞেস করলেন। তিনি যে পরিকল্পনা বানালেন, তার শুরুটা ওই দাঁড়ানো থেকেই, তার বেশি কিছু নয়।
ঘরের মেঝেয় পড়ে থাকা একটা তক্তা
তাঁর ঘরে একটা কাঠের তক্তা রাখা আছে, নিচু আর চওড়া, যেন ঘাটেরই একটা টুকরো। আমি ধীরে ধীরে তক্তাটা হাঁটি, তিনি আমার গোড়ালি ধরে প্রতিটা পা ফেলার পথ দেখান। তাঁর হাত কাছে থাকে, কিন্তু ছোঁয় কমই। কোনো দিন কাজ হলো তক্তার ওপর থেকে না নেমে ঘুরে দাঁড়ানো। তক্তাটা সহজ লাগতে শুরু করলে তিনি পা ফেলার জায়গা সরু করে দেন। নৌকা আমার জন্য অপেক্ষা করবে না, সেটা তিনি জানেন।
বাড়ির পেছনের বালিতেই আমার অনুশীলন
সেশনের ফাঁকে ফাঁকে সৈকতই আমার প্রশিক্ষণের জায়গা। বাড়ির পেছনের বালিতে করার মতো ছোট একটা ধারা তিনি ঠিক করে দিয়েছেন, যেখানে প্রতিটা পায়ের নিচে মাটি একটু সরে যায়। খালি পা, অল্প দূরত্ব, প্রথম দিকে পাশে পরিবারের কেউ। ক্লিনিকের দিনে গিয়ে বলি কোথায় কোথায় টলেছি। বালি আমাকে যা জানায়, সেখান থেকে তিনি পরের সেশন বদলে দেন।
ওষুধের আলাপটা সম্পূর্ণ আলাদা জায়গার
প্রথম সপ্তাহগুলোতে আমার ডাক্তার যে ওষুধ দিয়েছিলেন, সেগুলো এখনো খাই। সেগুলো চলছে হুবহু তাঁর লিখে দেওয়া নিয়মে, ফিজিওথেরাপিস্টের সেখানে কোনো ভূমিকা নেই। তাঁর কাজ ভারসাম্য আর গায়ের জোর নিয়ে। ওষুধ আমার ডাক্তারের এলাকা, আর তিনি সেই সীমানাটা পুরোপুরি মানেন। কোনোদিন কোনো ওষুধ নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে আমি আমার ডাক্তারকেই জিজ্ঞেস করি।
যেদিন তিনি অনুশীলনই করতে দিলেন না
এক সকালে গোড়ালিটা আবার ফুলে উঠল, ছুঁলেই গরম লাগল। তিনি একবার তাকিয়েই সেশন বন্ধ করে দিলেন, শুরু হওয়ার আগেই। তিনি বললেন, এমন বদল ফিরে যাবে ডাক্তারের কাছে, আর আমি বের হওয়ার আগেই তিনি আমার ডাক্তারকে ফোন করলেন। কিছু গোড়ালির সমস্যা অপারেশনের দিকের বিষয়, ব্যায়ামের নয়। এমন প্রশ্ন উঠলে এখানকার পরিবারগুলো DoctorBD24-এর পেজে কক্সবাজারের জেনারেল সার্জনদের খোঁজ করেন।
প্রথম দিন সঙ্গে নিয়ে যাওয়া প্রশ্নগুলো
প্রথম সেশনে আসলে কী কী হবে?
দাঁড়ানো, পা ফেলা, আর অনেকটা শুধু দেখা। আসল কাজ ধরার আগে তিনি আপনার ভারসাম্য আর গোড়ালি কীভাবে নড়ে তা যাচাই করেন।
এর মাঝে কি নৌকার কাজ চালিয়ে যেতে পারব?
প্রথমে আমি তীরের কাজেই ছিলাম, ব্যাগ বহন আর দড়ি বাঁধা, নৌকায় ওঠার ধাপটা অন্যদের হাতে ছেড়ে। ভারসাম্য টিকতে থাকলে তিনি ধাপে ধাপে আমাকে আবার তক্তায় ফেরান।
শুধু দাঁড়িয়ে থাকা আবার ব্যায়াম হয় কী করে?
কারণ দুলন্ত নৌকায় ভারসাম্যটাই আসল কাজ। স্থির হয়ে দাঁড়ানো, তারপর স্থির হয়ে ঘোরা, এগুলোই নৌকা দুললে আপনাকে সোজা রাখে।
গোড়ালি ব্যথা করলে ফিজিওথেরাপিস্ট কি আমার ওষুধ বদলে দিতে পারবেন?
না। তিনি ওষুধে হাত দেন না। যে ব্যথা আপনাকে ভাবায়, তা ফিরে যাবে আপনার নিজের ডাক্তারের কাছে, যিনি ওষুধগুলো ঠিক করে দিয়েছেন।
সেশনের ফাঁকে গোড়ালি আবার ফুলে গেলে কী হবে?
অনুশীলনের আগেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জানান। তিনি থামিয়ে দেখেন কেমন হয়েছে, ডাক্তারের চোখ লাগলে আপনাকে আপনার ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেন।
হঠাৎ কোন সমস্যা হলে সেদিনই হাসপাতালে যাওয়া জরুরি?
শরীরের একপাশে অকস্মাৎ জোর কমে গেলে। হঠাৎ প্রস্রাব বা পায়খানা আটকাতে না পারলে। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা একদম নড়তে না চাইলে। জ্বরের সঙ্গে আসা তীব্র ব্যথা, আর বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট। এর কোনোটাই সেশনের অপেক্ষা করে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.