সেরা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ - সিলেট
নিজের গাড়ির সিটে উঠতেই এখন দুই হাত লাগে
আমার বয়স বিয়াল্লিশ। সিলেটে মিশুক চালিয়ে সংসার চলে। বছর কয়েক আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ডান হাঁটুতে বড় চোট লাগে। হাড় জোড়া লাগল, কাটা জায়গা শুকিয়ে গেল, কাজেও ফিরলাম। কিন্তু হাঁটুর ভাঁজটা আর আগের মতো ফিরল না। হাঁটু অর্ধেকটা পর্যন্তই বাঁকে, সেই থেকে ওই পর্যন্তই বাঁকে। তখনকার ডাক্তাররা দুর্ঘটনার চিকিৎসা করেছেন। হারানো ভাঁজটা নিজে নিজে ঠিক হয়ে যাবে ভেবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। হয়নি।
গাড়ি চালানো মানেই সারাদিন হাঁটুর পরীক্ষা। সিটে ওঠাটাই প্রথম ধাপ। ফ্রেম ধরে ভালো পাটা আগে ঢোকাই, তারপর উরুর নিচে হাত দিয়ে শক্ত পাটা টেনে তুলি। এরপর সারাদিন প্যাডেল, শত শত বার। যানজটে পা প্যাডেল থেকে ওঠে আর নামে, বিশ্রাম মেলে না। সন্ধ্যা নামতে নামতে হাঁটু ভোরের চেয়েও শক্ত হয়ে যায়। শেষ স্টপে নেমে দাঁড়াতেই সকালের ওঠার চেয়ে বেশি সময় লেগে যায়।
আমার দরকার এমন একজন ডাক্তার, যাঁর কাজ ব্যথা নয়, হারানো চলাফেরাটা নিয়ে। ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আগের রিপোর্ট পড়েন, কোনো জোড় এখনো কতটা কাজ করতে পারে তা মাপেন, তারপর ধাপে ধাপে বাকিটা গড়ে তোলেন। খোঁজ শুরু করেছি DoctorBD24-এর সিলেটের ডাক্তারদের তালিকা থেকে, যেখানে চিকিৎসকদের বিষয় আর এলাকা অনুযায়ী ভাগ করা আছে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
নিজের গাড়ির সিটে উঠতেই এখন দুই হাত লাগে
ব্যায়ামের কথা ওঠার আগেই তিনি হাঁটুটা মেপে নিলেন
বিশেষজ্ঞ প্রথমে দুর্ঘটনার সময়ের রিপোর্টগুলো দেখতে চাইলেন। কোথায় চোট লেগেছিল, কী চিকিৎসা হয়েছিল, শক্ত ভাবটা নিয়ে আগে কী করা হয়েছে, সব তিনি জেনে নিলেন। তারপর হাঁটু নিজে পরীক্ষা করলেন। বসা অবস্থায় আর শুয়ে হাঁটুর ভাঁজ মাপলেন। সামনে একটা নিচু আসন রেখে তাতে ওঠা দেখলেন, ঠিক যেভাবে আমি মিশুকে উঠি। প্যাডেল যেভাবে পায়ে চাপ দেয়, সেভাবে তাঁর হাতের বিরুদ্ধে পা ঠেলতেও বললেন। এসব দেখা শেষ হওয়ার আগে পরিকল্পনার কোনো কথা হয়নি।
আসল পরীক্ষাটা হয় রাস্তায়, তাঁর ঘরে নয়
তাঁর ঘরের মাপ এক জিনিস, রাস্তার দিন আরেক জিনিস। সারাদিন মানেই প্রতিটা স্টপে ওঠানামা, যানজটে প্যাডেল চালানো, যাত্রীর অপেক্ষায় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা। সকালে যে হাঁটু একটু বেশি বাঁকে, সন্ধ্যায় তা আরও কম বাঁকে। লম্বা চালান কোনগুলো, সন্ধ্যায় শক্ত ভাব কেমন থাকে, বিশ্রামের জন্য কোন দিন কাজ ছাড়তে হয়, এসব তিনি জিজ্ঞেস করলেন। পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছে এই আসল দিনটা ধরেই।
যাত্রী আর যানজটের ফাঁকে গোছানো অনুশীলন
কাজটা হলো দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম, ছোট ছোট ভাগে, যাত্রীর ফাঁকে আর দিনের শান্ত সময়ে। কোনো ভাগে হাঁটুর ভাঁজ প্রতি সপ্তাহে আরেকটু বাড়ানোর চেষ্টা থাকে। কোনো ভাগে ওঠাটাই আবার শেখা হয়: নিয়ন্ত্রণ রেখে বসা, হাতের সাহায্য কমিয়ে উঠে দাঁড়ানো। প্রতিটা দেখায় তিনি ভাঁজটা আবার মাপেন, সিটে ওঠাটা চোখে দেখেন। গতি নিয়ে তিনি মিথ্যে আশা দেন না। বছরের পর বছর ধরে হারানো ভাঁজ ফিরলে ধীরেই ফিরবে, শুরুতেই তিনি তা বলে দিয়েছেন।
যে কষ্ট সার্জনের বিষয়, তা তিনি আগেভাগেই বলবেন
প্রথম দেখাতেই তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন। হাঁটুর ভেতরের কোনো সমস্যায় ব্যায়াম নয়, সার্জনের হাত লাগলে তিনি তা সরাসরি জানিয়ে দেবেন। মাসের পর মাস অনুশীলন করিয়ে তারপর নয়। তিনি দুর্ঘটনার পর আমাকে দেখা চিকিৎসকদের পাশাপাশি কাজ করেন, তাঁদের জায়গা দখল করে নয়। একদম আলাদা ধরনের সমস্যার জন্য একই তালিকায় সিলেটের জেনারেল সার্জনরাও আছেন।
ব্যায়াম আমার ওষুধের ওপরে বসে না, পাশে থাকে
অন্য একটা সমস্যার জন্য আমি নিয়মিত ওষুধ খাই। এই পরিকল্পনা চললেও ওষুধ চলবে হুবহু আগের নিয়মে। একই সময়ে, একই পরিমাণে, প্রতিদিন। অনুশীলন ওষুধের পাশে যোগ হয় মাত্র। কোনো ওষুধের বদলি সে নয়। গাড়ি চালানো সহজ লাগছে বলেই ওষুধ ছেড়ে দেওয়ার কারণ তৈরি হয় না। মাত্রায় কখনো বদল দরকার হলে সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি আমাকে নিয়মিত দেখছেন। আমি নই, এই পরিকল্পনাও নয়।
আগে থেকে যেসব কথা জেনে নিলাম
বছরের পর বছর ধরে শক্ত থাকা হাঁটু কি সত্যিই আরেকটু বাঁকতে পারে?
অনেক ক্ষেত্রেই ধাপে ধাপে পারে। প্রথম দেখায় মাপলেই বোঝা যাবে হাঁটুতে কতটা চলাফেরা বাকি আছে।
এই চিকিৎসা চলাকালে গাড়ি চালানো কি বন্ধ রাখতে হবে?
সাধারণত না। অনুশীলনের ভাগগুলো সাজানো হয় আপনার চালানোর দিনের ফাঁকে ফাঁকে, আর বাকিটা বাড়িতে।
রোজকার অনুশীলনটা দেখতে কেমন হবে?
ছোট ছোট ভাগ, একবারে কয়েক মিনিট করে। ভাঁজ বাড়ানো, ওঠা, দাঁড়ানো। প্রতিটা তিনি আগে দেখিয়ে দেবেন।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাঁজ একই জায়গায় আটকে থাকলে কী হবে?
দেখা করতে গিয়ে কথাটা তুলুন। তিনি অনুশীলন বদলে দিতে পারেন, আবার দেখতে পারেন ভেতরে অন্য কিছু ভাঁজ আটকে রাখছে কিনা।
দুর্ঘটনার পর যিনি আমাকে দেখেছিলেন, তাঁর সঙ্গে মিলে কি তিনি কাজ করবেন?
হ্যাঁ। তিনি আপনার চলমান চিকিৎসার পাশাপাশি পরিকল্পনা করেন। অন্য চিকিৎসকদের সরিয়ে দেওয়া তাঁর কাজ নয়।
হঠাৎ কোন বিপদ দেখলে পরের দেখার অপেক্ষা না করে হাসপাতালে যাব?
শরীরের একদিকে হঠাৎ জোর চলে যাওয়া হাসপাতালের বিষয়, সেদিনই যেতে হবে। প্রস্রাব-পায়খানার ওপর নিয়ন্ত্রণ চলে গেলেও বিষয়টা একই রকম জরুরি। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়াতে না পারাটাও অপেক্ষার বিষয় নয়। জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা উঠলেও সেদিনই পৌঁছানো দরকার।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.