সেরা প্যাথলজিস্ট - কক্সবাজার
রিপোর্টটা ফোনে ছবি হয়ে এল, কিন্তু একটা লাইনও বুঝতে পারছি না
আমার বয়স বাহান্ন। গত মাসে কক্সবাজারে একটা হাসপাতালে চার রাত ভর্তি ছিলাম। দ্বিতীয় দিন সকালে নাস্তার আগে নার্স আমার হাত থেকে রক্তের নমুনা নিলেন। বাড়ি ফেরার পর ল্যাবরেটরি থেকে রিপোর্টটা ফোনে ছবি আকারে পাঠানো হলো। ছবিটা বড় করে বারবার দেখেছি। কয়েকটা সংখ্যার পাশে ছোট ছোট চিহ্ন দেওয়া, সেগুলোর মানে আমি জানি না। ইংরেজি কথাগুলো আমার কাছে একেবারেই অপরিচিত।
চিকিৎসক বলেছেন, পরের বার দেখা করতে গেলে ছাপানো কপিটা সঙ্গে নিতে। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, রিপোর্ট পুরো ছবির একটা অংশ মাত্র। এই চিহ্নওয়ালা লাইনগুলো তিনি পড়বেন আমার এখনকার অবস্থা আর ভর্তি থাকার সময়ের পরীক্ষা মিলিয়ে। শুধু একটা কাগজ দেখে কিছু ঠিক হয় না। দেখা করার আগে আমার চাওয়া ছোট্ট একটা জিনিস। প্রতিদিন রিপোর্ট নিয়ে কাজ করেন, এমন কারো কাছে বসতে চাই। প্রতিটা লাইন সহজ কথায় শুনে নিতে চাই।
নিচের তালিকাটা কক্সবাজারের বড় ডাক্তার ডিরেক্টরির ভেতরেই রয়েছে। যেকোনো প্রোফাইল খুললেই সেই চিকিৎসকের নিজের বিষয়, চেম্বার আর রোগী দেখার সময় নিজে যাচাই করে নিতে পারবেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
রিপোর্টটা ফোনে ছবি হয়ে এল, কিন্তু একটা লাইনও বুঝতে পারছি না
নার্স নমুনা নেওয়ার পর সেটা গেল কোথায়
রক্তের ছোট্ট টিউবটা আমার ওয়ার্ডে পড়ে থাকেনি। সেটা গেছে ল্যাবরেটরিতে। সেখানে যন্ত্রে পরীক্ষা করে সংখ্যাগুলো দেখা হয়েছে। তৈরি রিপোর্টে যিনি সই করেন, তিনিই প্যাথলজিস্ট। বেশির ভাগ রোগীর সঙ্গে এই চিকিৎসকের দেখাই হয় না। অথচ চিকিৎসা যিনি করছেন, তিনি পরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই সই করা পাতাটার ওপরই ভরসা করেন।
সংখ্যার পাশের চিহ্ন মানেই শেষ কথা নয়
কোনো সংখ্যার পাশে চিহ্ন থাকা মানে সাধারণত এই যে মানটা পাশে ছাপানো সীমার বাইরে গেছে। এই সীমা একটা ধারণা মাত্র, পাস-ফেলের ব্যাপার নয়। খাওয়া-দাওয়া, দিনের কোন সময়ে নমুনা দেওয়া হলো, সপ্তাহটায় জ্বর ছিল কি না, এমন সাধারণ কারণেও মান ওঠানামা করে। একটা চিহ্নওয়ালা লাইন একা পুরো ছবি বলে না। তাই রাতে বসে নিজে নিজে অনুমান করলে দুশ্চিন্তা শুধু বাড়ে। লাইনগুলো একসঙ্গে পড়তে হয়, যিনি প্রতিদিন শত শত রিপোর্ট দেখেন তাঁর চোখে।
ছবি নয়, ছাপানো কপিই কেন চান আমার চিকিৎসক
ফোনের ছবিতে ছোট লেখা ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। কোনা কাটা পড়লে পুরো একটা লাইনই হারিয়ে যায়। ছাপানো পাতায় ল্যাবরেটরির লেখা সবকিছু থাকে, সংখ্যার নিচের ছোট নোটগুলোসহ। চিকিৎসক আমার আগের রিপোর্টগুলোও চেয়েছেন, এবারের ভর্তির আর তার আগের। দুটো রিপোর্ট পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায় মানটা বাড়ছে, কমছে নাকি একই জায়গায় আছে। এই দিকটাই অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একই ডিরেক্টরিতে অন্য চিকিৎসকও আছেন
রিপোর্টের পর কখনো অন্য ধরনের চিকিৎসকের কাছেও যেতে হতে পারে। আপনার চিকিৎসক যদি কখনো অপারেশনের দিকে পাঠান, এই একই ডিরেক্টরিতে কক্সবাজারের জেনারেল সার্জনদের তালিকাও রয়েছে। সেখান থেকে প্রোফাইল খুলে চেম্বারের তথ্য দেখে নেওয়া যায়।
আমার ওষুধ যেমন চলছে, তেমনই চলবে
চিকিৎসক আমার সম্পর্কে জানা সব তথ্যের সঙ্গে এই রিপোর্টটা না মেলানো পর্যন্ত ওষুধে কোনো বদল আসবে না। আমি আগের নিয়মেই, তিনি যে পরিমাণ ঠিক করে দিয়েছেন, সেই পরিমাণেই খাচ্ছি। একটা চিহ্নওয়ালা লাইন মানে এই নয় যে কোনো ওষুধ বন্ধ করে দিতে হবে। কিছু বদলাতে হলে পুরো ছবিটা সামনে রেখে তিনিই বলবেন।
প্যাথলজিস্ট কি আমার রিপোর্টটা সহজ কথায় বুঝিয়ে দিতে পারবেন?
পারবেন। রিপোর্ট পড়াটাই এই চিকিৎসকের কাজের কেন্দ্র। ছাপানো রিপোর্টটা নিয়ে বসুন, যে লাইন বুঝছেন না সেটা ধরে ধরে জিজ্ঞেস করুন। পাতাটা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন করা আপনার অধিকার।
আমি কি নিজে থেকে আরেক জায়গায় একই পরীক্ষা আবার করাব?
নিজের সিদ্ধান্তে করাবেন না। চিকিৎসক কখনো কখনো নির্দিষ্ট কারণে আবার নমুনা দিতে বলেন। নিজে নিজে এখানে-সেখানে পরীক্ষা করালে উত্তর পরিষ্কার হয় না, কাগজ আর বিভ্রান্তি দুটোই বাড়ে।
ফোনে পাওয়া রিপোর্টের ছবিটা ঝাপসা। এতে কি সমস্যা হবে?
হতে পারে। ছোট লেখা আর হালকা চিহ্ন ছবিতে সহজে হারিয়ে যায়। দেখা করার আগে ল্যাবরেটরি থেকে ছাপানো কপিটা তুলে নিন। সব পাতা আছে কি না, পড়া যাচ্ছে কি না, দেখে নিন।
কোনো মানে চিহ্ন থাকলেই কি আমার চিকিৎসা বদলে যাবে?
শুধু এ কারণে নয়। চিকিৎসক রিপোর্টটা মেলান আপনার লক্ষণ, শারীরিক পরীক্ষা আর আগের ফলের সঙ্গে। কখনো পরিকল্পনা একই থাকে, কখনো বদলায়। সেই সিদ্ধান্ত একটা সংখ্যার নয়, আপনার চিকিৎসকের।
আগের রিপোর্টটা অন্য ল্যাবরেটরির। সেটা কি তবু সঙ্গে নেব?
নিন। অন্য জায়গার পুরোনো পাঠও বুঝতে সাহায্য করে, আপনার মানগুলো কোন দিকে যাচ্ছিল। এবারেরটার পাশে রেখে দুটোই দেখান।
দেখা করার আগেই যদি শরীর খুব খারাপ লাগে, তবু কি অপেক্ষা করব?
না। রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন কয়েক দিন অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু বেশি রক্তপাত, কিছুতেই না কমা জ্বর, শ্বাস নিতে কষ্ট, তীব্র ব্যথা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা অপেক্ষা করে না। সেদিনই হাসপাতালে যান। রিপোর্টের প্রশ্ন নিরাপদ হওয়ার পরেও করা যাবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.