সেরা পুষ্টিবিদ - কক্সবাজার

সারাদিন রান্না, নিজের খাওয়াই হয় না ঠিকমতো

কক্সবাজারের একটা রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে কাজ করি আমি। সকাল গড়াতে না গড়াতেই হাত ঢুকে যায় অন্যের খাবারে: তরকারি চেখে দেখা, লবণ ঠিকঠাক আছে কি না, আবার এক চামচ, আবার। রাতের ভিড় শেষ হতে হতে জিভে জমে অনেক রকম স্বাদ, অথচ পেটে একবেলার পুরো খাবারও জোটে না। ঠিকমতো খাওয়া হয় সেই একবারই, গভীর রাতে, রান্নাঘরটা শেষমেশ যখন শান্ত হয়।

বয়স আমার সাতচল্লিশ। সম্প্রতি ডাক্তার রিপোর্টগুলো দেখে বললেন, পুষ্টিবিদের কাছে গিয়ে খাওয়ার হিসাবটা ঠিকমতো করিয়ে নেওয়া দরকার। প্রথমে হাসিই পেয়েছিল। সারাদিন তো খাবারের মধ্যেই থাকি আমি। কিন্তু চেখে দেখা আর পেট ভরে খাওয়া এক জিনিস না। তাঁর কথাই ঠিক: আমার শরীর চলে বেঁচে যাওয়া খাবার, ফাঁকে তুলে নেওয়া দুয়েক মুখ, আর কাস্টমারের সুবিধামতো সময়ে। চাই, কেউ আমার আসল দিনটা সামনে রেখে বলুক, এর ভেতরে থেকে কী কী ঠিক করা যায়।

কক্সবাজারের পুষ্টিবিদদের তালিকা এই পাতার নিচে দেওয়া আছে। সার্বিক ছবিটা দেখতে চাইলে কক্সবাজারের ডাক্তারদের ডিরেক্টরিতে এই শহরে চিকিৎসা করা সব ধরনের ডাক্তারের তালিকা পাবেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

সারাদিন রান্না, নিজের খাওয়াই হয় না ঠিকমতো

যে দিনের কোনো খাওয়ার সময়ই নেই

পুষ্টিবিদ প্রথমেই আমার কাজের দিনটা টেবিলে সাজিয়ে রাখতে বললেন। রান্নাঘরে ঢুকি কখন। চেখে দেখা শুরু হয় কখন থেকে। স্টাফদের খাওয়া বলে কিছু আছে কি না, আর দিনের একমাত্র আসল খাবারটা শেষমেশ কখন জোটে। ডাক্তার আগেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, বদলের কথা ওঠার আগে তিনি পড়ে নিলেন।

তাঁর পদ্ধতি ছিল মেরামতের, বদলে ফেলার নয়। রান্নাঘরের দিনের ভেতরে মিলিয়ে ছোট ছোট ঠিকঠাক করা হয়। ভিড় শুরু হওয়ার আগে ঠিকমতো কিছু খাওয়া। হাতের কাছে পানি রাখা। রাতের খাবারটা অতটা ভারী না করা। তারপর ফলো-আপ, যেখানে দেখা হবে শুক্রবার রাতের চাপের পরেও কোনটা টিকে আছে। আমার সময় বাঁধা অন্যের ক্ষুধা দিয়ে, পরিকল্পনাকে তার ভেতরেই বাঁচতে হবে।

আমার ওষুধ চলবে নিজের সময়ে

আমি নির্দেশিত ওষুধ খাই, এই কাজের কিছুই তাতে বাধা দেয় না। প্রতিটা ডোজ থাকবে ঠিক যেমন ডাক্তার ঠিক করে দিয়েছেন, নিজের সময়ে, রান্নাঘর ব্যস্ত থাকুক বা ফাঁকা। খাওয়ার পরিকল্পনা চলমান চিকিৎসাকে সাহায্য করে। তার জায়গা কোনোদিন নেয় না, নেবেও না।

এলোমেলো সময়ের জন্য কোনো ডোজ ভুল মনে হলে প্রশ্নটা ফিরে যাবে যিনি ওষুধটা লিখেছেন তাঁর কাছে। যা তিনি শুরু করেছেন, ঠিকঠাক করার মানুষ তিনিই। দেরি হয়েছে বলে আমি ওষুধ বাদ দিই না, সময় সরাই না, অর্ধেকও করি না।

খাবারই যখন পুরো গল্প না

খাওয়ার হিসাব করাতেই এসেছি আমি। রিপোর্ট যদি খাবারের বাইরের কিছুর দিকে ইঙ্গিত করে, সততার সঙ্গে সেটা শোনার আশা রাখি। নিজের ক্ষেত্রের বাইরের সমস্যা দেখলে পুষ্টিবিদের সেটা বলে দেওয়া উচিত, ঠিক ধরনের ডাক্তারের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। প্রথম বসাতেই শোনা ভালো।

কেউ কেউ এই ডিরেক্টরিতে আসেন খাবারের পরামর্শের বদলে অপারেশনের জন্য ডাক্তার খুঁজতে। তাঁদের জন্য কক্সবাজারের জেনারেল সার্জনদের তালিকা এখানে আলাদা পাতায় আছে।

রান্নাঘরেও জরুরি অবস্থাই আগে

রান্নাঘরের কাজ শেখায়, প্রায় সবকিছু সহ্য করে এগিয়ে যেতে। পোড়া আর কাটায় কাজ থামে না। কিন্তু কিছু লক্ষণ আছে, যা এই অভ্যাসকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে। বুকের মাঝখানে জোরে চেপে ধরা ব্যথা তার একটা। শ্বাস নেওয়া সংগ্রাম হয়ে ওঠাটা আরেকটা।

চুলার পাশে অজ্ঞান হয়ে গেলে, শরীরের একদিক একসঙ্গে দুর্বল হয়ে গেলে, কিংবা মাথা ঘোলাতে শুরু করলে শিফট ওখানেই শেষ। উঠেই যাচ্ছে আর নামছে না এমন জ্বরের জন্যও একই সিদ্ধান্ত। সেদিনই হাসপাতাল অথবা আমার নিয়মিত ডাক্তার। খাবার নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট এই ছুটকে দেরি করাতে পারে না।

যিনি সবার জন্য রাঁধেন, তাঁর প্রশ্ন

সারাদিন চেখে দেখাটা কি খাওয়া হিসেবে ধরা যায়?

ঠিকমতো ধরা যায় না। লবণ বোঝার জন্য নেওয়া এক চামচ কাজ, খাবার না। দিনটা সত্যি করে সাজালে চেখে দেখা আর খাওয়ার ফারাকটা সাধারণত রাঁধুনিকেও অবাক করে।

আমার একমাত্র আসল খাবার গভীর রাতে হয়। এটা কি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে?

রান্নাঘরের জীবনে ঘড়ি পুরোপুরি উল্টে দেওয়া কঠিন। সময় বদলায় ধাপে ধাপে, আর ওই রাতের খাবারে কী থাকে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্টাফদের খাবারটাও কি পরিকল্পনার ভেতরে ধরা হবে?

হবে, কারণ সেটা আসল খাওয়া, দিনের বাইরের কোনো বিরতি নয়। খাবারটা কখন জোটে আর তাতে কী থাকে, দুটোই হিসাবের খাতায় ওঠে।

পরিকল্পনাটা কি আমার কাজের সঙ্গে ঝগড়া করবে?

এটা গড়া হয় রান্নাঘরের সময় ঘিরেই, তার বিরুদ্ধে নয়। রাতের ভিড়কে উপেক্ষা করা পরিকল্পনা দ্বিতীয় সপ্তাহেই ছেড়ে দেওয়া হবে, এটা সবাই জানে।

আমাকে কতদিন পরপর আবার ডাকা হবে?

সেটা প্রথম সাক্ষাতেই ঠিক হয়। ফলো-আপে আপনার খাওয়া সত্যিকারের কাজের সপ্তাহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, আর পরের ঠিকঠাকটা বেছে নেওয়া হয়।

শিফটের মাঝখানে হঠাৎ খুব খারাপ লাগলে কী করব?

চুলা ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন। বুকে ব্যথা, শ্বাসে কষ্ট, অজ্ঞান, হঠাৎ দুর্বলতা, মাথা ঘোলানো অথবা বেড়েই চলা জ্বর মানেই সেদিনই হাসপাতাল অথবা নিজের নিয়মিত ডাক্তার।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.