সেরা নিউরোসার্জন - নারায়ণগঞ্জ
ঘাড়ের পেছনে একটা ফোলা
জিনিসটা আমি টের পেলাম হঠাৎ করেই, এক সকালে চুল আঁচড়াতে গিয়ে। ঘাড়ের পেছনে একটা ফোলা, আঙুলে শক্ত ঠেকে, আকারে ছোট একটা লেবুর মতো। আমার বয়স তিপ্পান্ন। বছরখানেক আগেও এটা ছিল বলে মনে পড়ে না। প্রথম খেয়াল করার পর থেকে এটা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। কোনো কোনো সন্ধ্যায় চারপাশের চামড়ায় ভোঁতা একটা ব্যথা হয়, শুয়ে থাকলে অস্বস্তি লাগে। বোনকে দেখালাম, সেও হাত দিয়েই বুঝতে পারল। সেই মুহূর্তে ভয়টা ব্যথার চেয়ে বেশি লাগল।
আমার ডাক্তার ফোলাটায় চাপ দিয়ে দেখলেন, কতদিন ধরে বাড়ছে জিজ্ঞেস করলেন, রিপোর্টগুলো দেখলেন। তারপর বললেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন সার্জনের নিজে এসে এটা দেখা উচিত, রিপোর্টগুলোও তাঁর পড়া দরকার। আমি এখানে অপারেশনের ঘোষণা শুনতে আসছি না। নারায়ণগঞ্জে এমন একজন নিউরোসার্জন চাই, যিনি নিজের হাতে ফোলাটা পরীক্ষা করবেন, রিপোর্ট মন দিয়ে পড়বেন, আর যা বোঝেন তা সোজাসাপ্টা বলবেন।
নারায়ণগঞ্জে যেসব নিউরোসার্জন রোগী দেখেন, তাঁদের নাম এই পাতার নিচের দিকে চেম্বারের ঠিকানা আর রোগী দেখার সময়সহ দেওয়া আছে। জেলার সব ধরনের ডাক্তার এক জায়গায় দেখতে চাইলে এই সাইটে নারায়ণগঞ্জের ডাক্তারদের বড় তালিকাটাও রাখা আছে।
2 available specialists found
অধ্যাপক ডাঃ এ.এস.এম. কামরুল হাসান
ডা. মো. রফিকুল ইসলাম
ঘাড়ের পেছনে একটা ফোলা
যে তালিকাটা লাগবে না বলেই আশা করি, তবু জেনে রাখলাম
এমনও হতে পারে, সার্জন রিপোর্ট পড়ে, ফোলাটা হাতে পরীক্ষা করে বলবেন, অপারেশন নয়, এটা নজরে রাখলেই চলবে। ঘাড়ের আশপাশের কিছু সমস্যা ওষুধ আর নিয়মিত পরীক্ষায় সামলানো যায়, যাঁরা অপারেশন ছাড়া চিকিৎসা করেন তাঁদের কাছে। আমার পথ যদি সেটাই হয়, এই ওয়েবসাইটে সেই খোঁজের তালিকাও আছে: নারায়ণগঞ্জের নিউরোলজিস্টরা। আমি তাঁর সিদ্ধান্তের আগেই লাফ দিচ্ছি না। শুধু পরের ধাপটা কোথায় খুঁজতে হয় জানা থাকলে মনটা একটু শান্ত থাকে।
আমার প্রতিদিনের ওষুধ এই সিদ্ধান্তের বাইরে
অনেক দিনের একটা শারীরিক সমস্যার জন্য আমি প্রতিদিন ওষুধ খাই, আমার নিজের ডাক্তার এই ফোলা দেখা দেওয়ার বহু আগেই তা লিখে দিয়েছিলেন। ওই ওষুধ নিজের নিয়মে চলে, ঘাড়ের ফোলা তাতে কিছু বদলায় না। দুশ্চিন্তায় পড়ে আমি তা বাদ দেব না, পাড়ার কারো কথায় নতুন কিছু যোগও করব না। যিনি ওষুধগুলো লিখেছেন, তিনিই সেগুলো বদলাতে বা বন্ধ করতে পারেন, আর তার আগে তিনি আমাকে দেখবেন।
তবে সার্জনকে সরাসরি জিজ্ঞেস করার একটা বিষয় ঠিক করে রেখেছি। কোনোদিন যদি আমার অপারেশন ঠিক হয়, তাহলে তার আগে প্রতিদিনের কোন ওষুধ বন্ধ রাখতে হবে আর কোনটা আগের মতোই চলবে। এই উত্তর তাঁর কাছ থেকেই আসতে হবে, সামনাসামনি, আমার প্রেসক্রিপশন তাঁর হাতে থাকা অবস্থায়। ততদিন প্রতিটা ওষুধ যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই চলবে।
ঘাড়ের আশপাশে যে বদল মানেই সেদিনই চিকিৎসা
মাসের পর মাস ধীরে বাড়তে থাকা ফোলা আমাকে চেম্বারের তারিখ বেছে নেওয়ার সময় দেয়। কিছু বদল কাউকে সময় দেয় না। হঠাৎ শরীরের একপাশে জোর কমে গেলে। মুখ বেঁকে গেলে কিংবা কথা জড়িয়ে গেলে। আগের যেকোনোবারের চেয়ে তীব্র মাথাব্যথা হঠাৎ শুরু হলে। খিঁচুনি উঠে থামতে না চাইলে, হঠাৎ দৃষ্টি চলে গেলে, কারণ ছাড়া মাথা ঝাপসা হয়ে গেলে। এসব লক্ষণ মানেই সেদিনই হাসপাতাল, নয়তো দেরি না করে নিজের পরিচিত ডাক্তার। এগুলো পরের সপ্তাহের সাধারণ দেখা করার জন্য তুলে রাখার জিনিস নয়।
রাতে শুয়ে শুয়ে যেসব কথা মাথায় ঘোরে
ফোলাটায় বেশিরভাগ দিন ব্যথাই হয় না। ব্যথাহীন জিনিসও কি গুরুত্ব পেতে পারে?
পারে। সার্জনের চোখে দেখা দরকার এমন অনেক কিছুই নীরবে বাড়ে, ব্যথা তেমন দেয় না। এখানে ব্যথা দিয়ে মাপা ঠিক হবে না। মাসের পর মাস ধীরে বড় হওয়াটাই জানানোর মতো বিষয়, আর সেটা আপনি ইতিমধ্যে খেয়াল করেছেন।
এটা কত দ্রুত বাড়ছে, তা কি লিখে রাখব?
রাখলে উপকার হয়। কোন মাসে প্রথম টের পেলেন আর এখন আকারটা কেমন, মোটামুটি একটা কয়েন বা লেবুর সঙ্গে মিলিয়ে হলেও লিখে রাখুন। অনুমানের চেয়ে তারিখ থাকলে সময়ের সঙ্গে বদল বিচার করা সার্জনের জন্য সহজ হয়।
আকার বুঝতে আমি বারবার চাপ দিয়ে দেখি। এতে কি ক্ষতি আছে?
বারবার চাপ দিলে জায়গাটা ব্যথা আর নরম হয়ে যেতে পারে, তখন আসল অবস্থা বোঝা কঠিন হয়। মাঝে মাঝে আলতো করে দেখুন, আসল মাপটা সার্জনের হাতের ওপরই ছেড়ে দিন।
তিনি কি শুধু রিপোর্ট দেখেই সব সিদ্ধান্ত নেবেন?
না। রিপোর্ট থাকে পরীক্ষার পাশাপাশি, তার ওপরে নয়। তিনি নিজে ফোলাটা হাতে পরীক্ষা করতে চাইবেন, এটা কীভাবে বেড়েছে তাও শুনবেন। তারপরই রিপোর্ট পড়ার অর্থটা পরিষ্কার হয়।
মেয়ে চায় তাড়াতাড়ি দেখিয়ে নিই। আমি কি দেরি করে ফেলছি?
আপনি এখন পদক্ষেপ নিচ্ছেন, এটাই আসল কথা। মাস ধরে বাড়তে থাকা ফোলার জন্য শিগগিরই একটা পরিকল্পিত দেখা করা দরকার, আতঙ্ক নয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন, রিপোর্ট সঙ্গে রাখুন, তাঁকে ঠিকমতো বিচার করতে দিন।
কোনো সন্ধ্যায় হঠাৎ কথা জড়িয়ে গেলে সেটা কি অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন বললেই চলবে?
চলবে না। কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া কিংবা একদিক হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া মানেই সেদিনই হাসপাতাল। এমন লক্ষণ সাধারণ দেখা করার জন্য জমিয়ে রাখা যায় না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.