সেরা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - দিনাজপুর
দরজার মুখে পা থেমে যায়
আমার বয়স আটষট্টি। ইদানীং নিজের বাড়ির প্রতিটা দরজার মুখে এসে আমাকে থামতে হয়। চৌকাঠে পা যেন মেঝেতে আটকে যায়। ফ্রেম ধরে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকি, তারপর আবার পা চলে। সরু রান্নাঘরে ঘুরে দাঁড়ানো আরও কঠিন। ছোট ছোট পা ফেলি, দেয়ালে হাত রাখি। অথচ খোলা উঠোনে হাঁটলে প্রায় আগের মতোই লাগে। আমি মানতে না চাইলেও ছেলে ঠিকই খেয়াল করেছে। ও বলছে, ছবিটা নতুন থাকতেই স্নায়ুর বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। তাই দিনাজপুরে নিউরোলজিস্ট খুঁজছি।
বিশেষজ্ঞের সামনে বসলে আমি ঠিক যেভাবে ঘটে সেভাবেই বলব। থামাটা কতক্ষণ থাকে, দিনে কতবার হয়, কোন দরজার মুখে সবচেয়ে বেশি। আগের চিকিৎসার কথা তিনি জিজ্ঞেস করবেন, পুরনো রিপোর্ট থাকলে মত দেওয়ার আগে সেগুলো দেখতে চাইবেন। ঘরের এপার-ওপার হেঁটে ঘুরে আসতে বলতে পারেন, বসা অবস্থায় পায়ের জোরও দেখতে পারেন। সমস্যাটা অন্য ধরনের ডাক্তারের হলে তিনি সোজাসুজি বলে দেবেন বলেই ভরসা রাখি।
দিনাজপুরের নিউরোলজিস্টদের তালিকা এই পাতার নিচেই দেওয়া আছে, চেম্বার আর সময়সহ। পরিবারের কেউ আরও খুঁজতে চাইলে দিনাজপুরের ডাক্তারদের বড় তালিকাটাও পাশেই আছে।
2 available specialists found
সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ অশোক কুমার ফণী
ডাঃ মো. শফিকুল ইসলাম
দরজার মুখে পা থেমে যায়
তাকের ওষুধগুলো চলবে আগের সময়েই
এই বয়সে আমার তাকে এমনিতেই কয়েকটা রোজকার ওষুধ জমেছে, প্রতিটার নিজের সময় আছে। প্যাকেটে লেখা পরিমাণেই খাই, সকালে আর রাতে, দিনটা ভালো যাক বা খারাপ। এক সপ্তাহ ভালো গেছে মানেই ওষুধের কাজ শেষ হয়ে যায়নি। মাত্রা বদলাতে হলে যিনি লিখে দিয়েছেন তিনিই আমাকে দেখে বদলাবেন। পা কয়েকদিন ভালো আচরণ করেছে বলে আমি চুপিচুপি একটা বাদ দিয়ে দেব না।
হঠাৎ বদল দেখলে তারিখের অপেক্ষা নয়
আমি আর আমার ছেলে মিলে ঠিক করে রেখেছি, যেসব লক্ষণে কোনো অপেক্ষা চলবে না। শরীরের একপাশ কিংবা মুখের একদিক হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে। কথা হঠাৎ জড়িয়ে গেলে বা অর্থহীন শোনালে। আগে কখনো হয়নি এমন মাথাব্যথা হঠাৎ একবারে এলে। কাঁপুনি শুরু হয়ে থামতে না চাইলে, কিংবা বারবার ফিরে এলে। এক চোখে বা দুই চোখেই হঠাৎ দেখা চলে গেলে। হঠাৎ মাথা পরিষ্কারভাবে কাজ না করলে। এর যেকোনো একটা ঘটলেই সেদিনই হাসপাতাল, নয়তো আমাদের নিয়মিত ডাক্তার। পরের সপ্তাহ নয়।
ছেলেকে নিয়ে নামগুলো দেখে নিচ্ছি
আমি আর ছেলে মিলে এই পাতার প্রোফাইলগুলো পড়ব। চেম্বারের দূরত্বটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, খারাপ সকালে লম্বা পথ যাওয়াটাই একটা সমস্যা। আরেকটা কথাও মাথায় রাখব, কিছু সমস্যা অন্য বিশেষজ্ঞের হাতে যায়। আমারটা কোনোদিন অপারেশনের দিকে গেলে এই সাইটে দিনাজপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকাও আছে, সেগুলোও একইভাবে দেখে নেওয়া যাবে। তবে আগে নিচের নিউরোলজিস্টকে আমার হাঁটাটা দেখতে হবে।
ছেলের প্রশ্ন, সঙ্গে আমারও কয়েকটা
দরজার মুখে থামাটা কি সত্যিই বিশেষজ্ঞের সময় নেওয়ার মতো?
আমার ছেলেও প্রথমে এটাই বলেছিল। একটা ছবি যদি শুধু চৌকাঠের মতো নির্দিষ্ট জায়গায় দেখা দেয়, খোলা জায়গায় না, তবু সেটা একটা ছবিই। এমন ছোট, বারবার ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোই বিশেষজ্ঞরা মন দিয়ে পড়েন।
ছেলে কি আমার সঙ্গে ঘরে ঢুকতে পারবে?
আমার চেয়ে ও থামাগুলো কাছ থেকে দেখে থাকলে ওর যাওয়াই ভালো। আমার ভুলে যাওয়া সময়গুলো ও মনে করিয়ে দিতে পারবে, পরামর্শগুলোও নিজের কানে শুনবে।
আমি হাঁটলে বিশেষজ্ঞ আসলে কী দেখবেন?
কীভাবে হাঁটা শুরু করি, কীভাবে ঘুরি, দরজার মুখে এসে পা ছোট হয়ে যায় কিনা। ঘরের ভেতরেই সাধারণ জিনিস। ব্যথার কিছু নেই, আর দেখার আগে তিনি কিছু ঠিক করেও ফেলবেন না।
উঠোনে আমি প্রায় স্বাভাবিক হাঁটি। দরজার কথাটা কি তবু বলব?
সবার আগে বলুন। সমস্যাটা কোথায় দেখা দেয় আর কোথায় দেয় না, এটাও ছবিটারই অংশ। ভালো অংশটা বাদ দিলে তিনি অর্ধেক ছবি পাবেন।
আমার রোজকার ওষুধ কি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ বা বদলে যাবে?
আমি তেমনটা আশা করি না, আর নিজে থেকে আগেভাগেই কিছু বদলাব না। যিনি লিখে দিয়েছেন তিনি অন্যকিছু না বলা পর্যন্ত সব চলবে লেখা মতোই।
কোনো সকালে কথা হঠাৎ এলোমেলো হয়ে গেলে আমরা কী করব?
সেটাকে সেদিনেরই ব্যাপার ধরতে হবে। দেরি না করে সেদিনই হাসপাতালে ছুটুন, কিংবা নিয়মিত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। কেটে যায় কিনা দেখতে বসে থাকবেন না, বুক করা তারিখের অপেক্ষাও না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.