সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - কক্সবাজার
সকালের আলোয় ছেলের রং দেখি
ছেলেটা কক্সবাজারে জন্মেছে আমাদের ধারণার আগেই, আশপাশের শিশুদের চেয়ে বেশ ছোট হয়ে। আমি ওর মা। আমার সবচেয়ে মনে আছে দ্বিতীয় দিনটা। সেদিন সকালে ওর গায়ের রং আর চোখের সাদা অংশ হলদে হয়ে উঠেছিল। হাসপাতালের ডাক্তাররা প্রথম ঘণ্টা থেকেই ওর ওপর ঘন নজর রেখেছিলেন। ভেবেছিলাম যতদিন লাগবে, তার চেয়ে বেশিদিন থাকতে হলো আমাদের।
হলদে রংটা কমল খুব ধীরে, তারপর অনেক দিন রয়েই গেল। রাতের হলদে বাল্বের আলোয় নয়, দিনের সত্যিকারের আলোয় ওকে দেখতে শিখলাম আমি। রোজ সকালে জানালার পাশে নিয়ে ওর মুখটা দেখি। বুক আর ছোট্ট পা দুটোও দেখি। ওর বাবা ওকে কোলে রাখে, আমি মন দিয়ে দেখি। রংটা আস্তে আস্তে হালকা হতে শুরু করল, সময় নিল বেশ।
বাড়ি ফিরেও জানালার পাশের এই সকালের দেখা আমাদের নিয়ম হয়ে আছে। দিনের ব্যস্ততা শুরুর আগেই আমি ওর রংটা দেখে নিই। ফলো-আপের ভিজিটগুলো হোক একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞের কাছে, যিনি এই প্রথম সপ্তাহগুলোতে নবজাতকদের দেখেন। সেই খোঁজে DoctorBD24-এর কক্সবাজারের ডাক্তারদের ডিরেক্টরি কাজে লেগেছে আমাদের। জেলার নবজাতক বিশেষজ্ঞদের প্রোফাইল সেখানে চেম্বারের ঠিকানা আর রোগী দেখার সময়সহ পাওয়া যায়। তাই ও সাধারণত জেগে থাকে, এমন সময় বেছে নেওয়া যায়।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
সকালের আলোয় ছেলের রং দেখি
যে লক্ষণে সঙ্গে সঙ্গে রওনা হব
কিছু লক্ষণ দেখলে আমাদের বাড়িতে আলোচনার কিছু থাকে না। শ্বাস কষ্টের কাজ হয়ে উঠলে কিংবা ভয় পাওয়ার মতো বিরতি নিলে তখনই হাসপাতাল। মুখ বা ঠোঁট নীলচে কিংবা ধূসর হয়ে গেলে সেই ঘণ্টাতেই একই যাত্রা। প্রতিটা খাওয়া ফিরিয়ে দিলে আমরা বাড়িতে চেষ্টা চালিয়ে যাব না। বয়স এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগে জ্বর এলেই তা একাই যথেষ্ট। খিঁচুনি দেখলে আমরা ভয়ে দেরি করি না। শরীর একদম ঢিলে হয়ে যাওয়া কিংবা জাগানো যায় না এমন ঘুমও একই নির্দেশ দেয়। হলদে রং ছড়িয়ে যাওয়া আর তার পাশাপাশি খাওয়ার মতো জাগতে না পারাও এই তালিকায় থাকে।
জানালার আলোয় রোজ রং মেলানো
রোজ সকালে অন্য কিছু শুরুর আগেই ওকে জানালার কাছে নিয়ে যাই। দিনের আলো কিছু লুকায় না, বাড়িয়েও দেখায় না। কপালটা দেখি আগে, তারপর গা, তারপর চোখের সাদা অংশ। ওর বাবা পাশে দাঁড়িয়ে নিজের মতটাও দেয়। দুজনের চোখ মিললে মনটা শান্ত হয়।
রংটা আমার ভাবনার চেয়ে বেশিদিন থেকে গেল ওর গায়ে। কোনো সকালে একটু হালকা লাগত। কোনো সকালে মনে হতো একটুও সরেনি। তারিখ দিয়ে ছোট্ট একটা নোট লিখে রাখায় উপকার হয়েছে। ফলো-আপে বিশেষজ্ঞ দিনে দিনে রং হালকা হওয়ার ধারাটা দেখতে পেয়েছেন, ওর ওজন আর খাওয়ার পাশাপাশি।
হাসপাতালের পরিকল্পনাটা বাড়িতেও অটুট
বাড়ি আনার অনুমতি দেওয়ার সময় ওর ডাক্তাররা সহজ ভাষায় একটা পরিকল্পনা লিখে দিয়েছিলেন। কীভাবে খাওয়াতে হবে, কী দিতে হবে, কখন দিতে হবে, সব ছিল তাতে। সেই পরিকল্পনার কোনো অংশ আমরা বদলাইনি। কোনো সকালে ওকে উজ্জ্বল দেখালেই আমরা কোনো অংশ বাদ দিই না। আত্মীয়রা এখন ভালো দেখাচ্ছে বললেই আমরা আগেভাগে কিছু থামাই না। বদলের ভার ওর চিকিৎসায় থাকা ডাক্তারদের। ওকে পরীক্ষা করার পরই তাঁরা বদলাবেন, আগে নয়।
বড় হতে থাকলে নতুন ডাক্তারের খোঁজ
এই নবজাতকের সপ্তাহগুলো একদিন পার হবে, এখন যত লম্বাই লাগুক। তখন ওর বেড়ে ওঠার নজরদারি নেবেন একজন শিশু বিশেষজ্ঞ। ওর নবজাতকের ডাক্তার খুঁজতে খুঁজতেই এই ডিরেক্টরিতে পেয়েছিলাম কক্সবাজারের শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা। ভাবনাটা পরের জন্য তুলে রেখেছি। ওর প্রথম সপ্তাহগুলো নবজাতক বিশেষজ্ঞের কাছেই থাক।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
জানালার পাশে গিয়ে রং দেখেন কেন?
ঘরের আলো ক্লান্ত চোখকে ফাঁকি দিতে পারে, বিশেষ করে রাতে। সকালের দিনের আলোয় ওর গায়ের রংটা যেমন, তেমনই দেখা যায়। অভ্যাসটা এক মিনিটের, মনটাকে করে শান্ত।
হলদে রংটা ওর গায়ে কতদিন ছিল?
আমি যত ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশিদিন। এক রাতেই মিলিয়ে যায়নি, হালকা হয়েছে ধাপে ধাপে। ডাক্তাররা প্রতি ভিজিটে রংটা দেখেছেন, যা দেখেছেন তা আমাদের বলেও দিয়েছেন।
ফলো-আপের ভিজিটে কী হয়?
বিশেষজ্ঞ ওকে পরীক্ষা করেন, রং, খাওয়া আর ওজন একসঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। আমাদের সকালগুলোর কথা আমরা সত্যি সত্যি বলি। ওকে ঠিকমতো পরীক্ষা না করে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না।
বাড়ির রোদে রাখলেই কি ফলো-আপে যাওয়া লাগবে না?
না, জানালার আলো শুধু আমাদের দেখার জন্য। দেখা আর পরীক্ষা করা এক জিনিস নয়। ডাক্তারদের দেওয়া তারিখেই আমরা ভিজিটে যাই।
ও এখন ভালো খাচ্ছে। হাসপাতালের পরিকল্পনাটা কি শিথিল করা যায়?
ভালো খাওয়ার খবর আমাদের বাড়িতে আনন্দের। তবু ডাক্তাররা আবার না দেখা পর্যন্ত পরিকল্পনা লেখা অনুযায়ীই থাকবে। ভালো দিন দিয়ে চিকিৎসার নির্দেশ নতুন করে লেখা হয় না আমাদের বাড়িতে।
কোন লক্ষণ দেখলে আজ রাতেই হাসপাতালে ফিরে যাবেন?
শ্বাসের কষ্ট কিংবা ভয় পাওয়ার মতো বিরতি দেখলে আজ রাতেই যাব। মুখ বা ঠোঁট নীলচে কিংবা ধূসর হয়ে গেলেও যাব। প্রতিটা খাওয়া ফিরিয়ে দেওয়াও হিসাবে থাকে। এই বয়সে জ্বর, খিঁচুনি, নিস্তেজ শরীর, আর গভীর ঘুমের সঙ্গে বাড়তে থাকা হলদে রং মানেই দেরি না করে হাসপাতাল।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.