সেরা লিভার বিশেষজ্ঞ - মানিকগঞ্জ

ঘাটের সন্ধ্যাগুলো

বয়স বাহান্ন। ফেরিঘাটে মাল তুলি। বস্তা, বাক্স, নৌকা থেকে যা নামে, পিঠে করে পাড়ে তুলে আনি। ইদানীং দিন গড়ালেই পা দুটো ফুলতে শুরু করে। শেষ ফেরির সময় হলে স্যান্ডেল পায়ে বিঁধে যায়, খুলতে কষ্ট হয়। সকালে, সারা রাত শুয়ে থাকার পর, পা আবার আগের চেহারায় ফিরে আসে।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, পেটের ওপরের দিকে, পাজরের ঠিক নিচে, কোনো কোনো দিন একটা ভারী ভাব এসে বসে থাকে, নামতে চায় না। আর যেটা মুখে বলতে লজ্জা লাগছিল: কোনো কোনো দিন মলের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, এমন রঙ আগে দেখিনি। যে মানুষ নিজের শরীর দিয়ে রোজগার করে, সে শরীরের অভ্যাস বদলে গেলে টের না পেয়ে পারে না। ঠিক করেছি, এক লিভার বিশেষজ্ঞের কাছে বসে সবটা বলব।

এখন এই সাইটে মানিকগঞ্জের কোনো লিভার বিশেষজ্ঞের প্রোফাইল নেই, যাওয়ার আগে বাসায় বসে পড়ে দেখার মতো। তবু তালিকাটা আমাদের পরিবারের খোঁজে কাজে লেগেছে। আমার ভাইপো মানিকগঞ্জের সব ডাক্তারের পুরো তালিকা খুঁজে দেখে রেখেছে, এই শহরে নানা ধরনের ডাক্তার কে কোথায় বসেন। কোনো বিশেষজ্ঞের নাম এখানে উঠলে চেম্বারের ঠিকানা আর বসার সময় প্রোফাইলেই লেখা থাকবে, পরের খোঁজা মানুষটার জন্য তৈরি।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ঘাটের সন্ধ্যাগুলো

শেষ ফেরিতে পা আর স্যান্ডালে আটে না

এই ধারাটা ঘাটের সময় মেনেই চলে। প্রথম নৌকার সময় পা একদম ঠিক, ভারী বাক্স অনায়াসে তুলে নিই। দুপুর গড়ালে পায়ের ওপরের দিকে একটা টান টান ভাব আসে। আসল রূপটা দেখা যায় সন্ধ্যায়। স্যান্ডেলের ফিতা চামড়ায় গভীর দাগ কেটে বসে। এই মাসেই দুদিন হয়েছে খালি পায়ে বাড়ি হেঁটে এসেছি, স্যান্ডেল হাতে ঝুলিয়ে। রাতে বিশ্রাম পেলে সব মিলিয়ে যায়, পরের দিনের কাজে আবার ফিরে আসে। আমি চাই তিনি পুরো ধারাটাই শুনুন, কারণ সকালের বসায় আমার পা দেখলে মনে হবে কোনো সমস্যাই নেই।

প্রথম বোঝা থেকে শুরু করে সবটা তাঁকে বলব

অন্য কিছু শুরু হওয়ার আগেই তিনি পুরো হিসাবটা পেয়ে যান, এটাই আমার চাওয়া। ফোলাটা কবে থেকে শুরু। কোন কোন দিন পেটের ওপরের ভারী ভাবটা এসে বসে। ফ্যাকাশে মলের কথাটা, যেমনটা শোনায় তেমনভাবেই। আমি প্রায় কোনো রিপোর্টই গুছিয়ে রাখিনি। দুই বছর আগের একবার দেখানোর ভাঁজ করা প্রেসক্রিপশনটা মানিব্যাগেই থাকে, সেটাই সঙ্গে যাবে। তিনি আমার ওষুধ আর কাজের কথা জিজ্ঞেস করবেন, আমাকে পরীক্ষা করবেন, তারপরেই কেবল বলবেন এরপর কী করা উচিত। পরীক্ষায় যদি এমন কিছু ধরা পড়ে যা তাঁর চেম্বারের নয়, অপারেশনের ঘরের বিষয়, তাহলে আমার দরকার পড়বে আরেকটা তালিকা। মানিকগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের তালিকা এই একই সাইটে আছে সেই পথের জন্য।

ওষুধে ছাড়ও নেই, বাড়তিও নেই

নিয়মিত একটা ওষুধ খাই, সকালে আর রাতে। পাতাটা থাকে শার্টের পকেটে, আমার সঙ্গে নৌকায় ওঠে। আমার নিয়মটা সোজা। ঘাটের দিন ব্যস্ত গেছে বলে কোনো ডোজ বাদ পড়ে না। সন্ধ্যায় বেশি খারাপ লাগছে বলেও ডোজ দ্বিগুণ হয় না। প্রেসক্রিপশনটা এমন এক ডাক্তারের, যিনি নিজে আমাকে পরীক্ষা করে লিখেছিলেন। তিনি আবার না দেখে অন্যকিছু না বলা পর্যন্ত ডোজগুলো ঠিক যেখানে তিনি রেখেছেন সেখানেই থাকবে। ওষুধের নাম আর সময়টা তাঁকে প্রথমেই জানিয়ে দেব।

যে বিপদ সকালের ফেরি অব্দি রাখা যায় না

সন্ধ্যায় পা ফোলা, এটা নিয়েই বাঁচতে শিখে গেছি। কিন্তু অন্য কিছু আমার ঠিক করা দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করত না। বমির সঙ্গে রক্ত ওঠা। মল কালো হয়ে যাওয়া। হঠাৎ মাথা পরিষ্কারভাবে না চলা, অথবা ভেজা কাপড়ের মতো গায়ে লেগে থাকা ঘুমের ঘোর। পেটে এমন ব্যথা যা সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেয় না। আবার নিশ্বাস টানতে না পারার সঙ্গে ফুলে ওঠা। এর যেকোনো একটা ঘটলে আমি বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে বিষয়টা পার করে দেব না। হাসপাতাল, সেদিনই। অথবা আমাদের পরিবারের চেনা ডাক্তার, তিনি কাছে হলে তিনি।

ঘাটের সিঁড়িতে বসে মনে আসা প্রশ্ন

সকালে পা ঠিক, অন্ধকার নামতেই ফুলে যায়। এটা কি তাঁকে বলব?

শোনা দরকার এই ধারাটাই। কখন ফোলে, সেদিনের কাজ কেমন ছিল, রাতে বিশ্রামে কমে কিনা, বলুন।

মলের রঙের কথা কি ডাক্তারকে আলাদা করে শোনাতে হয়?

হয়। যেমনটা দেখেছেন ঠিক তেমন বলুন, আর কবে থেকে এমন সেটাও। তাঁর টেবিলে এর চেয়ে কঠিন কথাও শোনা হয়।

ঘাটের কাজ ভারী। তাঁকে দেখানোর দিন পর্যন্ত মাল তুলে যাব?

আমি কাজ করছি, সুযোগ থাকলে হালকা বাক্স নিই। কোনো বোঝায় কাবু হলে সেটাও বলার বিষয়।

আমার কোনো পুরোনো রিপোর্টই নেই। এতে কি যাওয়া আটকাবে?

না। যা আছে, পুরোনো প্রেসক্রিপশন হলেও, তাই নিয়ে যান আর সত্যি উত্তর দিন।

পরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি কি পেটে হাত দিয়ে চাপ দেবেন?

খুব সম্ভব হ্যাঁ, সঙ্গে পায়ের ফোলাটা দেখা আর প্রশ্ন করা। কয়েক মিনিটের ব্যাপার।

কোনো সন্ধ্যায় নিশ্বাস টানতেই না পারলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না। ফোলার সঙ্গে নিশ্বাসের কষ্ট মানেই সেদিনের ব্যাপার। বমিতে রক্ত, কালো মল, হঠাৎ এলোমেলো মাথা, ভারী ঘুমের ঘোর কিংবা পেটে তীব্র ব্যথাও তাই। হাসপাতাল, সেদিনই।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.