সেরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ - মানিকগঞ্জ
গামছায় মোড়ানো বোতলটা
পিরিয়ডের প্রথম সকালে তিনি গরম পানির বোতলটা গামছায় জড়িয়ে পেটে চেপে ধরে দোকানের কাউন্টারের আড়ালে বসে থাকেন। বয়স আটাশ, বিয়ে হয়েছে দুই বছর, মানিকগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির দোকানে হাত লাগান। ব্যথাটা ঢেউয়ের মতো আসে, শরীর কুঁকড়ে যাওয়ার মতো জোরে, আর আসে প্রতি মাসেই। স্বামী পাশের কাউন্টারে থাকলেও ঢেউটা এলে তাঁকে একাই কাউন্টার চেপে ধরে পার হতে হয়।
ক্রেতারা দেখেন হাসিমুখ আর দ্রুত হাতে খুচরা ফেরত। কাউন্টারের কিনারা চেপে ধরে তাঁকে একটা ঢেউ পার হতে হয়, সেটা কেউ দেখে না। ছোট একটা খাতায় তিনি তারিখগুলো লিখতে শুরু করেছেন, কারণ "প্রতি মাসেই হয়" কথাটা আর যথেষ্ট মনে হচ্ছে না। DoctorBD24-তে মানিকগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকা দেখে ঠিকমতো জিজ্ঞেস করার মতো একজন গাইনোকোলজিস্ট খুঁজে নেওয়া যায়।
মাসে দুটো কঠিন দিন অন্যের কাছে সহজেই "স্বাভাবিক" হয়ে যায়। ভুগতে থাকা মানুষটার কাছে ব্যাপারটা আলাদা। কাজের মাঝে কুঁকড়ে যাওয়ার মতো ব্যথা ডাক্তারের কানে পৌঁছানো উচিত, নীরবে আরেক বছর কাটিয়ে দেওয়া নয়। খাতায় লেখা তারিখগুলোই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় সাহস।
2 available specialists found
গামছায় মোড়ানো বোতলটা
যে দুদিন তাঁকে কুঁকড়ে দেয়
ধরনটা এতটাই নির্দিষ্ট যে দোকানের কাজও সেই অনুযায়ী সাজাতে হয়। প্রথম দিনটা সবচেয়ে খারাপ, দ্বিতীয় দিন একটু সহনীয়, তৃতীয় দিনে তিনি প্রায় নিজের মতো। প্রথম ভিজিটে একজন গাইনোকোলজিস্ট এই ধরনটাই সাদামাটাভাবে শুনতে চাইবেন। কখন ব্যথা শুরু হয়, কোথায় বসে, একেকটা ঢেউ কতক্ষণ থাকে। তারপর তিনি পরীক্ষা করবেন, সঙ্গে আনা রিপোর্ট থাকলে দেখবেন। শোনা আর পরীক্ষা শেষ হলেই তিনি বলবেন কী করলে উপকার হতে পারে।
তারিখের খাতাটা সঙ্গে নেওয়ার মতো জিনিস। একটা যন্ত্রণার দিন মনে করে বলার চেয়ে অনেক মাসের লেখা হিসাব অনেক পরিষ্কার গল্প বলে।
বোতল, গামছা আর দোকানের কাউন্টার
গরম পানির বোতলটা তাঁর নিজের ব্যবস্থা, দুই বছরে দোকানে বসে গড়ে ওঠা। গামছায় মোড়ানো থাকলে গরমটা বেশিক্ষণ থাকে, আর কাউন্টারের ওপাশ থেকে কেউ বোঝে না তাঁর হাত বারবার সেদিকে কেন যায়।
বোতলটা দিনটা পার করে দেয়। এর বেশি কিছু করে না। প্রতি মাসে ব্যথাটা এত জোরে কেন আসে, সেই উত্তরটা বোতল কোনোদিন দেয়নি।
লিখে রাখতে শুরু করা তারিখগুলো
খাতায় এখন শুধু তারিখ থাকে না। কোন দিনগুলো সবচেয়ে খারাপ গেছে, কী করতে পেরেছেন আর কী পারেননি, সেগুলোও তিনি লেখেন। প্রতিদিন খাওয়া নিয়মিত ওষুধটার নামও লেখা থাকে সেখানে। ওষুধটা চলবে ঠিক প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, দোকানের দিনেও, ভিজিটের দিনেও। পিরিয়ড এসেছে বলে তিনি ওষুধটা বাদ দেন না, নিজে থেকে বদলানও না। বদলাতে পারেন শুধু যিনি ওষুধটা লিখে দিয়েছেন তিনিই, আর খাতার তালিকাটা থাকলে গাইনোকোলজিস্ট পুরো ছবিটাই দেখতে পান।
সার্জারির কথা কখনো উঠলে
প্রতি মাসের ব্যথা নিয়ে প্রথম ভিজিটের বিষয় শোনা আর পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার নয়। তাঁর মতো গল্পে সার্জারি প্রথম উত্তর হয় না। তবে পরীক্ষায় কখনো এমন কিছু উঠলে যা সার্জনের বিচার দরকার, তখন সাধারণত একজন জেনারেল সার্জনের মতামত নেওয়া হয়। সেই ধাপে কেউ পৌঁছালে DoctorBD24-তে মানিকগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেওয়া আছে।
পিরিয়ডের ব্যথার সঙ্গে এসব লক্ষণ মানে আজই
তাঁর চেনা দুদিনের ব্যথা বুক করা অ্যাপয়েন্টমেন্টে বলা যায়। কিন্তু ধরন ভাঙা ব্যথা অপেক্ষা করতে পারে না। সবচেয়ে খারাপ চেনা দিনের চেয়েও অনেক বেশি ব্যথা হলে, কিংবা মাথা ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে, সেদিনই দেখাতে হবে। ব্যথার সঙ্গে জ্বর এলে, কিংবা বারবার ভিজিয়ে দেওয়ার মতো ভারী রক্তপাত হলেও আজই, পরের মাসের অপেক্ষা নয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ব্যথাটা প্রথম দুদিন বেশি থাকে, তারপর কমে যায়। এ নিয়ে কি ডাক্তারের কাছে যাওয়া ঠিক হবে?
হ্যাঁ। যে ব্যথা শরীর কুঁকড়ে দেয় আর কাজের সাজানো বদলে দেয়, তা যত নিয়মিতই হোক, ঠিকমতো শোনানো উচিত। কখন শুরু হয়, কীভাবে চলে, এটাই তিনি জানতে চাইবেন।
ছোট খাতায় তারিখগুলো লিখে রাখি। খাতাটা কি ভিজিটে নিয়ে যাব?
নিয়ে যান। অনেক মাস ধরে লেখা তারিখ এক নজরেই ধরনটা দেখিয়ে দেয়। কোন দিনগুলো সবচেয়ে খারাপ ছিল, সেটাও লিখে রাখলে হিসাবটা আরও জোরালো হয়।
প্রথম ভিজিটে কি শুধু কথা আর পরীক্ষাই হবে?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হ্যাঁ। তিনি ধরনটা শুনবেন, প্রশ্ন করবেন, পরীক্ষা করবেন। এর বাইরে কিছু হলে তা আলোচনা হবে এই প্রাথমিক ধাপগুলো শেষ হওয়ার পরেই।
প্রতি মাসে এমন ব্যথা মানেই কি অস্ত্রোপচার লাগবে?
না। প্রথম ভিজিট অস্ত্রোপচারের দিকে যায় না। ভিজিটটা আগে ধরনটা বোঝার জন্য, আর পরের ধাপগুলো ঠিক হয় পরীক্ষায় যা পাওয়া যায় তার ওপর।
প্রতিদিন একটা ওষুধ খাই। পিরিয়ডের দিনগুলোতেও কি সেটা আগের মতোই খাব?
হ্যাঁ, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিকমতো খেয়ে যান, পিরিয়ডের দিনগুলোসহ। নিজে থেকে থামাবেন না, নিয়মও বদলাবেন না। যেকোনো বদলের সিদ্ধান্ত যিনি ওষুধটা লিখে দিয়েছেন তাঁরই।
আজ ব্যথাটা চেনা মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি, দোকানে প্রায় মাথা ঘুরে পড়েই যাচ্ছিলাম। পিরিয়ড শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব?
না। চেনা মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ব্যথা আর সঙ্গে মাথা ঘোরা থাকলে সেটা সেদিনেরই বিষয়। দরকার হলে দোকান বন্ধ করে আজই যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.