সেরা স্ত্রীরোগ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ - কুমিল্লা
শাড়িতে লেগে থাকা সেই রক্তের দাগটা
পুকুরঘাটে সকালে শাড়ি ধুতে গিয়ে চোখে পড়ল তাঁর। পরিষ্কার একটা রক্তের দাগ, ভুল হওয়ার কথা না। বুকটা ধড়ফড় করে উঠল। বয়স সাতান্ন, ঋতু বন্ধ হয়েছে কয়েক বছর আগেই, সবারই যেমন হয়। এখন রক্ত আসার কোনো কারণ থাকার কথা না। পাশে কাপড় কাচছিলেন পাড়ার এক বউ, তাঁকে কিছুই বললেন না। দরকারের চেয়ে একটু বেশিক্ষণই পানিতে দাঁড়িয়ে রইলেন।
বাড়ি ফিরে শাড়িটা ভাঁজ করে ট্রাঙ্কে তুলে রাখলেন। দিন গেল, সপ্তাহ গেল, রক্ত আর এল না। স্বস্তি পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অথচ দাগটা প্রতিদিন মনে পড়ে, নামাজে দাঁড়িয়ে, খেতে বসে, রাতে ঘুম আসার আগে। এই শহরে এমন সমস্যা নিয়ে কোথায় যাওয়া যায়, তা তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন কুমিল্লার ডাক্তার তালিকার পাতা দেখতে গিয়ে, যেখানে শহরের বিশেষজ্ঞদের নাম একসঙ্গে সাজানো থাকে, জেনারেল সার্জনদের নামও সেখানেই।
একবার, তারপর আর কিছু না। মনের এক অংশ বলে, ব্যাপারটা নিজে নিজেই মিটে গেছে। আরেক অংশ শুধু জিজ্ঞেস করে, এলই বা কেন? ঋতু বন্ধের পর রক্ত দেখলে, একবার হলেও, হেসে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আরেক মাস একা একা ভাবার চেয়ে বিশেষজ্ঞের মুখে শোনা ভালো, চিন্তার কিছু নেই কিনা। তাই তিনি যাচ্ছেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
শাড়িতে লেগে থাকা সেই রক্তের দাগটা
একবারই যথেষ্ট ছিল, মন থেকে যায়নি
বিশেষজ্ঞকে ঠিক যা দেখেছিলেন তাই বলুন, একবার ঘটলেও। ঋতু কবে বন্ধ হয়েছে, পুকুরঘাটের সেই সকালের কথাও বলুন নিজের ভাষায়। পরিষ্কার বর্ণনা তাঁর হাতে আসল তথ্য তুলে দেয়।
কথা শোনার পর তিনি পরীক্ষা করবেন, তলপেটে আলতো হাতে দেখে, দরকার হলে ভেতরের পরীক্ষাও করে। কী করছেন, করার আগেই তিনি বলে নেন। আনা রিপোর্টগুলোও তিনি পড়বেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয় না।
যা আরও আগে বললে ভালো হতো
কয়েক সপ্তাহ তিনি বিষয়টা একা বয়ে বেড়িয়েছেন। মেয়েকে বলার পর এক সন্ধ্যাতেই মনের ভার অর্ধেক নেমে গেল। বাড়িতে কেউ পাশে থাকতে পারলে তাঁকে সঙ্গে নিন, মেয়েরা সাধারণত জানতেই চায়।
নিয়মিত ওষুধের পাতাটা কিংবা প্যাকেটগুলো সঙ্গে নিন, যাতে তিনি দেখতে পারেন আপনি কী খাচ্ছেন। প্রতিটা ওষুধ ঠিক যেভাবে বলা আছে সেভাবেই খেতে থাকুন, যেই ডাক্তার দিয়েছেন শুধু তিনিই তা বদলাতে বা বন্ধ করতে পারবেন। পুরনো রিপোর্ট থাকলে সেগুলোও নিন।
অনেক পরিবার যে বড় তালিকাটা ঘেঁটে দেখে
তাঁর চিকিৎসা শুরু হচ্ছে এখান থেকেই, কুমিল্লার এই বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে। নাম মিলিয়ে দেখতে গিয়ে অনেক পরিবার বড় ডিরেক্টরিটাও ঘেঁটে দেখে, সেখানে ঢাকার গাইনোকোলজিক অনকোলজিস্টদের তালিকাও থাকে, কারণ প্রতিটি শহরের বিশেষজ্ঞরা নিজের নিজের পাতায় সাজানো। তাঁর প্রথম ধাপ একই, বাড়ির কাছেই একটা ভিজিট, প্রশ্ন গুছিয়ে নিয়ে।
বাড়িতে বসে গুছিয়ে রাখা প্রশ্নগুলো
বারান্দায় বসে মটরশুঁটি ছাড়াতে ছাড়াতে তিনি প্রশ্নগুলো মনে মনে আওড়েছেন। প্রথম দিনে কী কী পরীক্ষা হবে? আবার কবে আসতে হবে? বাড়িতে কোন পরিবর্তন দেখলে অপেক্ষা না করে ফিরতে হবে?
আপনার প্রশ্নগুলো ছোট্ট খাতায় লিখে রাখুন, চাপে থাকলে ভুলে যাওয়ার ভয় থাকে। কাগজ দেখে পড়লে কেউ কিছু মনে করে না। আসল কথা, পরের ধাপটা জেনে বের হওয়া।
ঋতু বন্ধের পর রক্ত মানেই ছোট বিষয় নয়
একবারের শান্ত ঘটনা মানে ভিজিট বুক করার কারণ, আতঙ্কের না। কিন্তু কিছু লক্ষণ সময়ের হিসাব বদলে দেয়। রক্ত আবার বেশি করে এলে সেদিনই চিকিৎসা দরকার। মাথা ঘোরা, অজ্ঞান অজ্ঞান ভাব, কিংবা তলপেটে বাড়তে থাকা তীব্র ব্যথা থাকলেও তাই।
এমন দিন এলে কাছের হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যান, পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিয়ে। সেদিনই চিকিৎসা নেওয়াটাই ঠিক সিদ্ধান্ত।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ঋতু বন্ধ হয়েছে কয়েক বছর, রক্ত এল মাত্র একবার। তবু কি আসতে হবে?
হ্যাঁ। এই পর্বের পর একবার রক্ত এলেও একবার ঠিকমতো পরীক্ষা করানো উচিত। অনেক সময় ভিজিটটা আশ্বাস দিয়েই শেষ হয়।
প্রথম ভিজিটে কী কী হবে?
আগে তিনি আপনার কথা শুনবেন, তারপর আলতো করে পরীক্ষা করবেন আর আনা রিপোর্টগুলো দেখবেন, প্রতিটি ধাপ আগেই জানিয়ে। তাড়াহুড়ো নেই, যেকোনো সময় কথা বলতে পারেন।
আমি বিধবা, এসব কথা বলতে লজ্জা লাগে। মেয়ে কি সঙ্গে থাকতে পারবে?
পারবে, অনেকেই ঠিক এটাই করেন। মেয়ে কিংবা বিশ্বস্ত কেউ কথা বলার সময়ও পাশে থাকতে পারবেন। পৌঁছে স্টাফদের বলে দিলেই হবে।
অন্য সমস্যার জন্য যেসব ওষুধ খাই, সেগুলো কি সঙ্গে নেব?
নিন, অন্তত পাতাটা নিন। প্রতিদিন কী কী খান, পুরো ছবিটা তাঁর জানা দরকার। নিজের ডাক্তার না বললে ওষুধ আগের নিয়মেই খেতে থাকুন।
সেদিনই কি জানতে পারব সমস্যাটা আসলে কী?
সবটা সবসময় না। কিছু উত্তর রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকে। যা জানেন আর যা দেখা বাকি, দুটোই তিনি সত্যি করে বলবেন।
এক রাতে যদি রক্ত আবার বেশি করে আসে, তখন কী করব?
সকাল বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। বেশি রক্ত, মাথা ঘোরা বা তীব্র ব্যথা থাকলে সেদিনই চিকিৎসা নিন, সবচেয়ে কাছের জায়গায় গিয়ে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.