সেরা স্ত্রীরোগ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ - ঢাকা

চেয়ারে বসলেই বাড়ে যে চাপটা

তাঁর বয়স ঊনচল্লিশ, ঢাকার এক অফিসে ডেস্কে বসে তাঁর কাজ। সকালের দিকে তলপেটে একটা হালকা ভারীভাব থাকে, ঘড়ি এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেটা বাড়তে থাকে। বিকেলের দিকে বসে কাজ করাটাই কষ্টকর হয়ে ওঠে তাঁর জন্য। মাঝে মাঝে তলপেটে টান ধরে, দাঁড়ালে একটু কমে। আজকাল প্রস্রাবের চাপও আসে ঘন ঘন, কোনো কোনো ঘণ্টায় দুবারও উঠতে হয় তাঁকে।

কয়েক সপ্তাহ তিনি ধরে নিয়েছিলেন দোষটা চেয়ারের, সঙ্গে লম্বা সময় বসে থাকার। এক সহকর্মী একদিন জিজ্ঞেস করলেন, তিনি বারবার নড়েচড়ে বসেন কেন, উঠে দাঁড়ান কেন। ছোট্ট প্রশ্নটা সন্ধ্যা অবধি মাথা থেকে নামল না। রাতে তিনি ফোন হাতে নিয়ে ঢাকায় চেম্বার করেন এমন ডাক্তারদের তালিকা ঘেঁটে একজন বিশেষজ্ঞকে বেছে নিলেন।

দুই বছর আগে একজন ডাক্তার তাঁকে আল্ট্রাসাউন্ড করাতে বলেছিলেন, রিপোর্ট হাতে পেয়ে তিনি আর যাননি। ভাঁজ করা রিপোর্টটা ড্রয়ারে পড়ে আছে শীতের কাপড়ের তলায়। সহকর্মীর সেই প্রশ্নটাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নড়িয়ে দিল। এবারের ভারীভাবটা নিজে থেকে কমার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তিনি দেখা করার দিন ঠিক করেছেন, পুরোনো রিপোর্টটা এবার সঙ্গে যাবে।

3 available specialists found

ডা. আফরোজা খানম

Qualifications এমবিবিএস, এমএস (গাইনি ও অবস), এফসিপিএস (গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি)
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

ডা. আমাতুস সালাম নিম্মি

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (গাইনী ও অবস), এফসিপিএস (গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি), ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ও বন্ধ্যাত্বে বিশেষ প্রশিক্ষণ
অবস্থান মিরপুর, ঢাকা

সহযোগী অধ্যাপক ডা. সামিনা সুলতানা

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমসিপিএস (প্রসূতি ও গাইনি), এফসিপিএস (প্রসূতি ও গাইনি), এফসিপিএস (স্ত্রীরোগ অনকোলজি)
অবস্থান উত্তরা, ঢাকা

চেয়ারে বসলেই বাড়ে যে চাপটা

বেলা বাড়লেই ভারী হয় তলপেট

প্রথম দেখায় তিনি নিজের ভাষায় চাপটার কথা বলেন, চিকিৎসার শব্দ জানা লাগে না। কবে থেকে শুরু, দিনের কোন সময়টা সবচেয়ে ভারী লাগে, প্রস্রাবের চাপ কাজে কতটা ব্যাঘাত ঘটায়, এসব তিনি গুছিয়ে বলেন। এই ছোট ছোট বিবরণই পরের প্রশ্নগুলোর পথ ঠিক করে দেয়।

বিশেষজ্ঞ আগে মন দিয়ে শোনেন, তারপর হাতে পেট পরীক্ষা করেন। ভেতরের পরীক্ষা লাগলে প্রতিটা ধাপ আগেই বুঝিয়ে বলেন, অনুমতি নিয়েই এগোন। মাঝখানে থামতে চাইলে তিনি যেকোনো সময় বলতে পারেন।

ড্রয়ারে পড়ে থাকা সেই রিপোর্ট

দুই বছর আগের আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টটা তিনি সঙ্গে নেন, ভাঁজে ভাঁজে যতই পুরোনো লাগুক। আগের রিপোর্টের সঙ্গে আজকের পরীক্ষা মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায় মাঝের সময়ে কিছু বদলেছে কিনা। ঘরে রেখে এলে সেই তুলনাটা আর হয় না।

নিয়মিত খাওয়া ওষুধগুলোর নাম তিনি প্যাকেট দেখে একটা কাগজে লিখে নেন। প্রতিটা ওষুধ তিনি আগের নিয়মেই, আগের সময়ে খেতে থাকেন। কোনো ওষুধ বদলানো বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত শুধু সেই ডাক্তারের, যিনি সেটা তাঁকে দিয়েছিলেন।

উঠে দাঁড়ানোর আগে যা জেনে নেওয়া ভালো

বেরোনোর আগে তিনি জিজ্ঞেস করেন, এরপর কী কী পরীক্ষা হবে আর প্রতিটার উদ্দেশ্য কী। আবার কবে আসতে হবে, মাঝের সময়টায় কোন ফলাফলের অপেক্ষা, সেটাও তিনি জেনে নেন।

কোন বদল দেখলে অপেক্ষা না করে ক্লিনিকে ফোন করতে হবে, সেটাও তাঁর জানা দরকার। উত্তরগুলো তিনি ফোনে লিখে রাখেন, যাতে বাসায় গিয়ে ভুলে না যান। কোনো শব্দ কঠিন লাগলে সহজ করে বলতে বলতে তিনি দ্বিধা করেন না।

পরীক্ষার ফল যেদিকে ইঙ্গিত করলে সার্জনের মতামত লাগে

তাঁর বেশিরভাগ দেখাশোনা এই বিশেষজ্ঞের কাছেই চলতে থাকে। কোনো পরীক্ষায় যদি অপারেশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সাধারণত একজন জেনারেল সার্জনের মতামতও নেওয়া হয়। ঢাকার জেনারেল সার্জনদের তালিকা এই সাইটে একসঙ্গে দেওয়া আছে, দরকার হলে সেখান থেকে দেখা যায়।

সব পরীক্ষার ফল হাতে আসার আগে কোনো সিদ্ধান্ত ঠিক হয়ে যায় না। সার্জনের সঙ্গে কথা বলা লাগলে বিশেষজ্ঞ নিজেই বুঝিয়ে দেন কেন লাগছে, তারপর কী হবে।

চাপের সঙ্গে এসব লক্ষণ থাকলে আজই

কিছু বদলের জন্য ঠিক করা তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা চলে না। প্রস্রাবের চাপ এসেও প্রস্রাব না হলে সেটা আজকের বিষয়। তলপেটের ব্যথা তীব্র হয়ে বাড়তে থাকলেও সেদিনই দেখানো দরকার।

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বা যাওয়ার মতো অবস্থা হলেও সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য নিতে হয়। রক্ত গিয়ে সুরক্ষার কাপড় দ্রুত ভিজিয়ে ফেললেও একই কথা প্রযোজ্য। এমন দিনে তিনি বাসায় অপেক্ষা না করে আগে জরুরি চিকিৎসার দিকে যান, দেখার তারিখ পরে ঠিক করা যাবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

লম্বা সময় বসে থাকলেই কি এমন ভারীভাব হতে পারে?

বসে থাকলে পিঠে টান লাগতে পারে, কিন্তু বাড়তে থাকা ভারীভাবের আলাদা পরীক্ষা দরকার। বিশেষজ্ঞ আগে পরীক্ষা করে তারপর বুঝিয়ে বলেন।

দুই বছর আগের আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টটা আনব কি?

অবশ্যই আনুন, কাগজটা পুরোনো দেখালেও। দুই বছর আগের অবস্থার সঙ্গে আজকের পরীক্ষা মেলাতে ওটা কাজে লাগে।

ভেতরের পরীক্ষা কি করা হবে?

হতে পারে, আর শুরু করার আগে প্রতিটা ধাপ তিনি বুঝিয়ে বলেন। অস্বস্তি লাগলে থামতে বলা আপনার অধিকার, যেকোনো সময় বলতে পারেন।

চাকরি করা মানুষের জন্য প্রথম দেখায় কতক্ষণ লাগে?

কথা আর পরীক্ষার অংশটা অফিসের সময়ের পাশাপাশি রাখার মতোই ছোট। অপেক্ষার ঘরে সময় জায়গাভেদে বদলায়, তাই সকালের দিকের সময়টা নিরাপদ।

অন্য সমস্যার জন্য চলতি ট্যাবলেটগুলো কি চলবে?

চলবে, যিনি দিয়েছিলেন তিনি বদলাতে না বললে আগের নিয়মেই চলবে। প্রতিটা ট্যাবলেটের কথা বিশেষজ্ঞকে জানান, যাতে কিছু বাদ না পড়ে।

কোন বদল দেখলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা না করে আজই যেতে হবে?

প্রস্রাব একদম না হলে, ব্যথা তীব্র হয়ে বাড়তে থাকলে, অজ্ঞান হলে, বা রক্ত বেশি গিয়ে দ্রুত ভিজিয়ে ফেললে। এর যেকোনো একটা হলেই সেদিনই চিকিৎসা নিন।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.