সেরা শিশু সার্জন - কক্সবাজার

নাভির ফোলাটা ওঠে, আবার মিলিয়ে যায়

তিন বছরের মেয়েটার নাভির ঠিক ওখানে নরম একটা ফোলা। দাঁড়ালে, কাঁদলে বা কাশলে ফোলাটা বাইরে বেরিয়ে আসে। শুয়ে শান্ত হলেই আবার সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়।

ওর কোনো কষ্ট মনে হয় না। খেলছে, খাচ্ছে, ছোটাছুটি করছে আগের মতোই। কিন্তু ফোলাটা এখন প্রায় রোজই দেখা যাচ্ছে, আর ও যতটা না খেয়াল করে, আপনি করেন তার চেয়ে অনেক বেশি।

শাশুড়ির মাথায় একটা উপায় আছে। একটা সিকি কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখো, ভেতরে চলে যাবে। যুগ যুগ ধরে মানুষ এমন করে আসছে। অন্তত কিছু একটা করা হচ্ছে, এমন অনুভূতিও হয়।

সত্যি কথাটা হলো, চেপে ধরলে বা বেঁধে রাখলে ফোলার পেছনের ফাঁকটা বন্ধ হয় না। বরং চামড়া ঘষে ঘা হতে পারে, আর যে কাজের আশা, সেটা হয়ই না। আসলে কাজের হলো সার্জনের পরীক্ষা, আর আপনার বোঝা একটা পরিকল্পনা।

শিশু সার্জন ফোলাটা ছুঁয়ে দেখবেন, ফাঁকটা কত বড় মেপে নেবেন। ছোট বাচ্চাদের নাভির এমন ফোলা নিয়ে সাধারণত কী হয়, তাও বুঝিয়ে বলবেন। কক্সবাজারে শিশু সার্জন খুঁজলে শুরু হোক এই আলাপ দিয়েই।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ফোলাটার পেছনে যা আছে

জন্মের আগে নাড়ি পেটের প্রাচীরের ছোট্ট একটা পথ দিয়ে বাইরে আসে। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে জন্মের পরপরই সেই পথটা বন্ধ হয়ে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে আরেকটু দিন খোলা থেকে যায়।

দাঁড়ালে, কাঁদলে বা কাশলে ওর পেটের ভেতরের চাপ বাড়ে। সেই চাপে ভেতরের কিছুটা ওই ফাঁক দিয়ে বাইরে এসে ফোলা হয়ে দেখা দেয়। শুয়ে গেলে চাপ কমে, ফোলাও মিলিয়ে যায়।

যে কথাটা শুনে অনেক বাবা-মা স্বস্তি পান, তা হলো এই। ছোট বাচ্চাদের এই ফাঁক বড় হওয়ার সঙ্গে প্রায়ই নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায়। তবে এটা সাধারণ একটা ধরন, আপনার মেয়ের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি নয়। ওর অবস্থাটা বিচার করতে পারবেন পরীক্ষা করা সার্জনই।

শুধু দেখে রাখাটাও একটা পরিকল্পনা

নাভির সব ফোলা নিয়ে কিছু না করলেও চলে, এমন নয় যে সবগুলোরই চিকিৎসা লাগে। কোনো কোনো সার্জন শুধু দেখে রাখার পথ নেন, নির্দিষ্ট সময়ে এসে ফাঁকটা আবার মেপে দেখা হয়। এটা কিছু না করা নয়। পরীক্ষার পর নেওয়া একটা সিদ্ধান্ত।

সার্জন ঠিক কী দিকে চোখ রাখছেন, জিজ্ঞেস করুন। কতদিন পরপর আসবেন, কোন বদল দেখলে পরিকল্পনা বদলাবে, তাও জানুন। কখনো অপারেশনের পরামর্শ এলে তাতে কী হবে, সেটাও আগেভাগে জেনে রাখুন। উপায়গুলো এখন বুঝে রাখলে পরের সিদ্ধান্তগুলো শান্তভাবে নেওয়া যায়।

সিকি আর কাপড়ের কথা বললে, ওটা ছেড়ে দিন। ফোলার ওপর শক্ত করে কিছু বাঁধলে ফাঁক বন্ধ হয় না, ওপরের চামড়ার ক্ষতি হতে পারে। পরিবারের কেউ বললে বলতে পারেন, সার্জনের নিজের একটা পরিকল্পনা আছে।

ফাঁকে ফাঁকে ওর সাধারণ যত্ন চলবে আগের মতোই। বেড়ে ওঠার চেকআর টিকা দেখে দিতে পারেন কক্সবাজারে শিশু বিশেষজ্ঞ।

যেসব লক্ষণে সেদিনই আসতে হবে

বেশিরভাগ দিন এই ফোলা দেখে রাখা আর পরের ভিজিটের বিষয়। কিন্তু কিছু বদল পরের নির্ধারিত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না।

ফোলা ভেতরে ফিরতে না চাইলে সেদিনই আসুন। শক্ত লাগলেও আসুন, ব্যথা মনে হলেও তাই। ফোলার সঙ্গে বমি থাকলে সেটাও জরুরি লক্ষণ। কেঁদেই যাচ্ছে, কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না, এমন বাচ্চাকে সেদিনই দেখানো দরকার।

আটকে থাকা ফোলায় নিজে জোরে চাপ দিয়ে ঢোকানোর চেষ্টা করবেন না। সেটা পরীক্ষা করা ডাক্তারের হাতেই ছাড়ুন।

বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন

এই ফোলাটা কি বিপজ্জনক?

ছোট বাচ্চাদের নাভির বেশিরভাগ ফোলাই তাড়াহুড়ার নয়, দেখে রাখার বিষয়। বিপদের লক্ষণ হলো বদল: ফোলা ফিরতে না চাওয়া, ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া, কিংবা বমি। এসব দেখলে সেদিনই দেখান।

এটা কি নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যাবে?

অনেক ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে বড় হওয়ার সঙ্গে ফাঁকটা বন্ধ হয়ে যায়। আপনার মেয়ের ক্ষেত্রে কেউ প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। ফাঁকের আকার আর সময়ের সঙ্গে বদল দেখে সার্জন বিচার করেন।

শাশুড়ি সিকি বাঁধার কৌশলে পুরোপুরি আস্থা রাখেন। কাজ হয়?

ভালোবেসেই বলেন, কিন্তু হয় না। চাপ দিয়ে বা বেঁধে পেটের প্রাচীরের ফাঁক বন্ধ করা যায় না। বদলে চামড়া ঘষে ঘা হতে পারে। ওনাকে বলার নিরাপদ উত্তর হলো সার্জনের পরিকল্পনাটাই।

ওর কি অপারেশন লাগবে?

পরীক্ষার আগে কেউ বলতে পারে না, আর এখনই কোনোদিকে আন্দাজ করা যায় না। কোনো ফোলা বছরের পর বছর শুধু দেখা হয়। কোনোটা নিয়ে কিছু করা হয়, সার্জন যা পান আর যেভাবে অবস্থা বদলায়, তার ওপর ভিত্তি করে।

ভিজিটের আগে কী খেয়াল রাখব?

ফোলাটা কখন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, লিখে রাখুন। শুয়ে গেলে সবসময় মিলিয়ে যায় কিনা, তাও। ফোনে একটা ছবি তুলে রাখলেও কাজে দেয়, চেম্বারে গিয়ে ফোলাটা নাও দেখা যেতে পারে। টিকার কার্ডটাও সঙ্গে আনুন।

কোনো সন্ধ্যায় ফোলাটা আটকে গেলে কী করব?

জোরে চেপে ঢোকাবেন না, সকাল পর্যন্ত অপেক্ষাও করবেন না। মিলিয়ে যেতে না চাইলে, শক্ত লাগলে বা ব্যথা হলে সেদিনই দেখান। সঙ্গে বমি থাকলে তা আরও জরুরি।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.