সেরা শিশু নিউরোসার্জন - সিলেট

মাথাব্যথাটা বারবার ফিরে আসছে

শুরুটা ছিল খুব সাধারণ। এগারো বছরের ছেলেটা স্কুল থেকে ফিরে কপালে দুই হাত চেপে বলত, একটু শুয়ে থাকি। ব্যথার ওষুধে কমত, ঘুমালেও কমত। কিন্তু সপ্তাহখানেক পর আবার সেই একই মাথাব্যথা।

তিন-চার বার এমন হলো। আপনি তাকে চোখের ডাক্তারের কাছে নিলেন। ভেবেছিলেন, হয়তো চশমা লাগবে। কিন্তু ডাক্তার ছোট্ট আলো দিয়ে চোখের ভেতরটা দেখে চুপ করে গেলেন। চোখের পেছনে যেখানে স্নায়ু বেরিয়ে গেছে, সেই জায়গাটা, যাকে অপটিক ডিস্ক বলে, ফোলা দেখাচ্ছে।

এই ফোলার একটা নাম আছে, প্যাপিলিডিমা। সহজ করে বললে, মস্তিষ্কের চারপাশের তরলের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এমন হয়। চোখ ওই ব্যবস্থার খুব কাছে, তাই চাপ বাড়লে সেখানে ছাপ পড়ে আগে।

আপনার শিশুর ক্ষেত্রে চাপটা কেন বাড়ল, তা এখনই কেউ বলতে পারবে না। কারণ একাধিক হতে পারে। আন্দাজে কিছু বলাও ঠিক নয়। এখন দরকার ধাপে ধাপে পরীক্ষা, তাড়াহুড়ো করে নাম ধরে দেওয়া নয়।

পরের ধাপে একজন সিলেটে শিশু নিউরোসার্জন শিশুটিকে দেখবেন। স্ক্যান, চোখের রিপোর্ট আর লক্ষণগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরই তিনি বলতে পারবেন, আসলে কী হয়েছে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

মাথার ভেতরে চাপ বাড়া বলতে কী বোঝায়

মস্তিষ্ক একটা স্বচ্ছ তরলের মধ্যে ভাসে। এই তরল মস্তিষ্ককে ঝাঁকুনি থেকে বাঁচায়। তরল তৈরি হওয়া আর বেরিয়ে যাওয়ার একটা নিয়মিত ছন্দ আছে। সেই ছন্দ ঠিক থাকলে ভেতরের চাপ নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে।

কখনো এই ভারসাম্য নড়ে যায়। তরল তৈরি হয় বেরোনোর চেয়ে বেশি, কিংবা পথে বাধা পড়ে। তখন চাপ বাড়তে থাকে। খুলি শক্ত বলে ভেতরে জায়গাও কম।

সবার আগে টের পাওয়া যায় মাথাব্যথা। কারো বমি ভাব হয়, বমিও হয়। কারো চোখে মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য ঝাপসা দেখায়। এক শিশুর সঙ্গে আরেক শিশুর লক্ষণ মেলে না।

চোখের পরীক্ষাটা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন

চোখ থেকে সোজা মস্তিষ্ক পর্যন্ত গেছে অপটিক স্নায়ু। মস্তিষ্কের চারপাশে চাপ বাড়লে সেই চাপ স্নায়ু বেয়ে এসে চোখের পেছনের ডিস্ক ফুলিয়ে দিতে পারে।

তাই চাপের সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত অনেক সময় চোখের পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে। আর ব্যাপারটা শুধু ইঙ্গিত নয়। চাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলে স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পাশের দিকের দৃষ্টি সংকীর্ণ হয়ে আসতে পারে।

সেজন্য ফলো-আপে বারবার চোখ পরীক্ষা হবে। ফোলা আর দৃষ্টির পরিসর দেখেই ডাক্তার বোঝেন চাপ নিয়ন্ত্রণে আসছে কিনা।

কারণ খুঁজতে ডাক্তার যা যা করেন

ডিস্ক ফোলা দেখলে বোঝা যায় চাপ বেশি। কেন বেশি, তা ওই লক্ষণ বলে না। প্রথম কয়েকটা ভিজিটের মূল কাজই কারণটা খোঁজা।

ডাক্তার মাথাব্যথার খুঁটিনাটি জানতে চাইবেন। কখন হয়, কিসে কমে, সকালে বেশি কিনা। তারপর পূর্ণ স্নায়বিক পরীক্ষা। ভারসাম্য, রিফ্লেক্স আর চোখের নড়াচড়াও দেখা হবে।

এরপর সাধারণত মস্তিষ্কের স্ক্যান আসে। তাতে দেখা যায় তরলের জায়গাগুলো ফুলে গেছে কিনা, কোথাও বাধা আছে কিনা। ফল অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষাও যোগ হতে পারে।

এই ধাপগুলো পার হওয়ার পরই রোগের নাম নিয়ে কথা বলা যায়। এই পর্যায়ে একজন সিলেটে শিশু নিউরোলজিস্টও প্রায়ই সঙ্গে কাজ করেন, কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশনই লাগে না।

চিকিৎসার লক্ষ্য কী

কারণ যেটাই হোক, লক্ষ্য প্রায় একই। চাপ কমানো। দৃষ্টি বাঁচানো। আর শুধু সংখ্যা নয়, পেছনের কারণটার চিকিৎসা করা।

কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে শুধু ওষুধেই চাপ যথেষ্ট কমে আসে। তখন পরিকল্পনা দাঁড়ায় নিয়মিত চোখ পরীক্ষা আর পর্যবেক্ষণ। কারো তরল বেরোনোর পথ সহজ করতে ছোট্ট পদ্ধতির দরকার পড়ে। অপারেশনের কথা আসে সবার শেষে, যখন সহজ উপায়ে চাপ কমে না, অথবা দৃষ্টি খারাপ হতে থাকে।

প্রতিটি ভিজিটে জিজ্ঞেস করুন, চাপ স্থির আছে, কমছে, নাকি বাড়ছে। কোন লক্ষণ দেখলে আগেই আসতে হবে, তাও জেনে নিন। মাথাব্যথা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেলে বা দৃষ্টিতে নতুন বদল এলে অপেক্ষা করা চলবে না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আমার শিশুর শুধু মাথাব্যথা। চোখের ডাক্তার সমস্যাটা আগে ধরলেন কীভাবে?

চোখ মস্তিষ্কের তরল-ব্যবস্থার খুব কাছে। চাপ বাড়লে ছাপ অপটিক ডিস্কে আগে পড়ে, কখনো অন্য লক্ষণ আসার আগেই। তাই সাধারণ চোখ পরীক্ষাতেই এটা ধরা পড়তে পারে।

অপটিক ডিস্ক ফোলা মানেই কি ব্রেন টিউমার?

না। চাপ বাড়ার কারণ অনেক রকম হতে পারে। শুধু ডিস্ক ফোলা দেখে কোনো কারণের দিকে আঙুল তোলা যায় না। নাম বলার আগে স্ক্যান আর বাকি পরীক্ষা আসে।

আমার শিশুর কি অপারেশন লাগবেই?

অবশ্যই না। অনেক শিশুকেই ওষুধ আর পর্যবেক্ষণে রাখা যায়। অপারেশন ভাবা হয় শুধু তখন, যখন অন্য উপায়ে চাপ কমে না বা দৃষ্টি খারাপ হতে থাকে।

চাপ বেশি থাকলে দৃষ্টি স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে?

পারে, অপটিক স্নায়ুর ওপর চাপ দীর্ঘদিন থাকলে। সেই ঝুঁকির কারণেই ফলো-আপে চোখের পরীক্ষা জরুরি, শিশু ভালো বোধ করলেও।

কী কী পরীক্ষা লাগতে পারে?

স্নায়বিক পরীক্ষা আর মস্তিষ্কের স্ক্যান ধরেই রাখুন। রক্ত পরীক্ষাও যোগ হতে পারে। চোখের পরীক্ষা বারবার হবে, ফোলা আর দৃষ্টির পরিসর দেখার জন্য।

কখন দেরি না করে দেখাতে হবে?

মাথাব্যথা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেলে সেদিনই যান। বারবার বমি, দৃষ্টিতে নতুন বদল বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব এলেও অপেক্ষা করবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.