সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - সিলেট
হাত থেকে লাফিয়ে ছিটকে যাওয়া কাপ
সকালের নাশতা সাজানো হয়েছে মাত্র। আপনার মেয়ে কাপটা ধরতে গেল, আর হঠাৎ তার হাতে একটা ঝাঁকুনি লাগল। কাপটা উল্টে গেল, চা ছড়িয়ে পড়ল, আর সে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে রইল, আপনার মতোই অবাক হয়ে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন হচ্ছে। ঝাঁকুনিগুলো ছোট আর দ্রুত, বেশিরভাগই ঘুম থেকে ওঠার প্রথম এক ঘণ্টায় হয়। কখনো পরপর কয়েকটা হয়। দুই একবার এর ঠিক পরেই তার মুখটা এক মুহূর্তের জন্য ফাঁকা হয়ে গেছে, যেন পৃথিবীর একটা সেকেন্ড সে মিস করে ফেলেছে।
শুরুতে সবচেয়ে জরুরি যে কথাটা বোঝা দরকার: ঝাঁকুনি একটা উপসর্গ, কোনো রোগের নাম নয়। পেশীর এসব ছোট ঝাঁকুনির পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কয়েকটা একেবারেই ক্ষতিহীন। কয়েকটা এমন অবস্থার দিকে ইশারা করে, যেখানে চিকিৎসা দরকার। শুধু বর্ণনা শুনে কেউ বলতে পারবে না কোনটা।
কাজে লাগে ধরনটা। ঝাঁকুনি কখন হয়, কীভাবে গোছা হয়ে আসে, আর মাঝের সময়টায় শিশু কেমন থাকে। সিলেটে শিশু নিউরোলজিস্ট ঠিক এই বিবরণগুলোই জানতে চাইবেন, আর একটা পর্বের ছোট্ট ফোন ভিডিও দশ মিনিটের বর্ণনার চেয়েও বেশি কাজের হতে পারে।
9 available specialists found
Prof. Dr. Mostafa Hosen
Dr. Md. Shahadat Hossain Mazumdar (Robin)
Dr. Mashiur Rahman Majumder
Dr. Chandra Shekhar Bala
Prof. Dr. Md. Nazrul Islam
Prof. Dr. Kamal Ahmed
Dr. Bikash Shikder
ঝাঁকুনি আসলে কী
ঝাঁকুনি মানে একটা পেশী, বা কয়েকটা পেশীর একটা গুচ্ছ, ক্ষণিকের জন্য হঠাৎ শক্ত হয়ে যাওয়া। এই নড়াচড়া পরিকল্পনা করে হয় না, চেষ্টা করেও থামানো যায় না। হাত লাফিয়ে ওঠে। কাঁধ ঝাঁকি খায়। কখনো শরীরের দুই পাশ একসঙ্গে ঝাঁকুনি খায়।
ঘুমিয়ে পড়ার মুহূর্তে এমন ঝাঁকুনি প্রায় সবারই হয়েছে। ঘুমের সেসব ঝাঁকুনি স্বাভাবিক। দিনের বেলায় হলে বা গোছা গোছা বারবার হলে ঝাঁকুনি ভালো করে দেখা দরকার। পড়ে যাওয়া, হাত থেকে জিনিস পড়া বা সঙ্গে ফাঁকা মুহূর্ত থাকলেও তাই।
একই রকম দেখতে ঝাঁকুনির কারণ ভিন্ন ভিন্ন শিশুর ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। সেজন্যই তড়িঘড়ি অনুমানের চেয়ে ঠিকঠাক পর্যালোচনা জরুরি, আর প্রথম ভিজিটেই ডাক্তার কোনো নাম ধরে বলতে তাড়াহুড়ো করবেন না।
দিনের সময়টা কেন গুরুত্বপূর্ণ
ঘুম থেকে ওঠার প্রথম ঘণ্টায় গোছা হয়ে আসা ঝাঁকুনি ডাক্তারকে দরকারি তথ্য দেয়। কয়েকটা ধরন ঘুম আর জাগরণের বদলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তাই সকালের এই গোছা একটা আসল সূত্র, ছোট কোনো বিবরণ নয়।
কীসে বেড়ে যায়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম কম হওয়া একটা সাধারণ কারণ। জ্বর, অসুস্থতা আর অস্বাভাবিক ক্লান্তিও তাই। দেরি করে ঘুমানো বা ভাঙা ভাঙা ঘুমের পর ঝাঁকুনি হয় কিনা, খেয়াল করুন।
দুই সপ্তাহ সাধারণ ডায়েরি রাখুন: তারিখ, সময়, শিশু তখন কী করছিল, কয়বার ঝাঁকুনি হলো, আর পরে ফাঁকা হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত ছিল কিনা। নিরাপদে সম্ভব হলে একটা পর্ব ফোনে ধরে রাখুন। শুধু হাত নয়, সম্ভব হলে পুরো শরীরটা দেখা যায়, এমনভাবে তুলুন।
নিউরোলজিস্ট যা জানতে চান আর যা পরীক্ষা করেন
প্রথমে বিস্তারিত প্রশ্ন আশা করুন। ঝাঁকুনি কবে থেকে শুরু? দিনের কোন সময়ে হয়? পড়ে যাওয়া, আঘাত, বা সাড়া না দেওয়ার মুহূর্ত হয়েছে কি? পড়াশোনা কেমন চলছে, আর সার্বিক বিকাশ কেমন?
পরীক্ষায় শক্তি, পেশীর টান, রিফ্লেক্স, ভারসাম্য আর সমন্বয় দেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তার EEG-এর পরামর্শও দেন। মাথায় ছোট সেন্সর বসিয়ে, শিশু বসে বা বিশ্রাম নেওয়ার সময় মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কাজকর্ম ধরে রাখা হয়। এতে ব্যথা লাগে না, আর ধরে রাখার প্রক্রিয়া থেকে শিশু কিছুই অনুভব করে না।
মাঝের সময়ে ডায়েরি আর সাধারণ স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখতে সিলেটে শিশু বিশেষজ্ঞ সাহায্য করতে পারেন। ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন এখন EEG করা দরকার কিনা। নির্বাচিত হাসপাতালে নিশ্চিত হয়ে নিন, পরীক্ষাটা সেখানেই হয় নাকি উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
এই ঝাঁকুনি আর টিক কি একই জিনিস?
না। টিকের আগে প্রায়ই একটা তাড়না অনুভূত হয়, আর কিছুক্ষণের জন্য থামিয়েও রাখা যায়। এই ঝাঁকুনিগুলো হঠাৎ হয়, নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আপনার বর্ণনা আর ভিডিও দেখে ডাক্তার সাধারণত এ দুটোকে আলাদা করতে পারেন।
ঝাঁকুনি বেশিরভাগ সকালে হয় কেন?
কয়েকটা ঝাঁকুনির ধরন জাগরণের সঙ্গে জড়িত, যখন মস্তিষ্ক ঘুম থেকে বেরিয়ে আসছে। সকালের গোছা একটা কাজের সূত্র, তাই সময়গুলো লিখে রাখুন।
একটা পর্ব ভিডিও করা উচিত?
হ্যাঁ, নিরাপদে করা গেলে করুন। ঝাঁকুনি আর তারপর কী হলো, তা দেখানো একটা ছোট ভিডিও শুধু কথার চেয়ে ডাক্তারকে অনেক বেশি সাহায্য করে।
EEG-তে কি ব্যথা লাগে?
না। পেস্ট দিয়ে মাথার ত্বকে সেন্সর বসে, সেগুলো শুধু ধরে রাখে। পরীক্ষার সময় শিশুকে বিশ্রাম নিতে বা গভীর শ্বাস নিতে বলা হতে পারে।
ঘুম কম হলে ঝাঁকুনি বাড়তে পারে?
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ক্লান্তি আর ভাঙা ঘুম ঝাঁকুনি ডেকে আনে। পর্যালোচনার অপেক্ষায় থাকাকালে নিয়মিত ঘুম একটা যুক্তিসঙ্গত প্রথম পদক্ষেপ।
আমার শিশুর কি চিকিৎসা লাগবে?
সেটা নির্ভর করে কারণের ওপর, আর পর্যালোচনার কাজই সেটা বের করা। ধরনটা বোঝা গেলে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে শুধু পর্যবেক্ষণ আর ফলো-আপই যথেষ্ট হয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.