সেরা শিশু নিউরোসার্জন - ময়মনসিংহ

যে সন্ধ্যায় শান্টের লক্ষণগুলো একসঙ্গে এলো

রাতের খাবারের পর শুরু হলো। ছেলে বলল, মাথা ব্যথা করছে। একবার বমি করল, ঘণ্টাখানেক পরে আবার। রাত নয়টার দিকে সে অস্বাভাবিক রকম ঘুমকাতুরে, আর কানের পেছনের শান্টের দাগের চারপাশের ত্বক লালচে দেখাচ্ছে।

আপনার ছেলের ছোটবেলায় ভিপি শান্ট বসানো হয়েছিল। শান্ট হলো ত্বকের নিচে থাকা সরু একটা নল। মাথার ভেতরের অতিরিক্ত তরল এই নল দিয়ে পেটে চলে যায়, আর শরীর সেটা শোষণ করে নেয়। বছর বছর ধরে নলটা নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মনেই থাকে না যে ওটা আছে। তবু ঘরের সবাই জানে, শান্টের ব্যাপারে অবহেলা চলে না।

শান্ট টিম ঠিক এমন সন্ধ্যার কথাই সতর্ক করে দিয়েছিল। শান্ট আছে এমন শিশুর একসঙ্গে মাথাব্যথা, বমি আর ঘুমকাতুরে ভাব মানে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষার ব্যাপার নয়। দাগের পাশে লালচে ভাব ছবিটাকে আরও জরুরি করে তোলে।

বাড়িতে বসে রোগ ধরতে হবে না। আপনার কাজ ধরনটা চেনা আর সেদিনই ব্যবস্থা নেওয়া। ময়মনসিংহে শিশু নিউরোসার্জন বলবেন, এমন লক্ষণে দেরি করে আনার চেয়ে আগেভাগে এনে কিছু না পাওয়া ভালো।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ডাক্তার প্রথমে যে দুটো সমস্যা খোঁজেন

শান্ট আছে এমন শিশু এভাবে অসুস্থ হলে ডাক্তার সবার আগে দুটো সমস্যার কথা ভাবেন। প্রথমটা হলো ব্লকেজ, অর্থাৎ নল আটকে যাওয়া। নলের কোনো অংশ দিয়ে তরল যাওয়া বন্ধ হলে মাথার ভেতরে তরল জমে, আর চাপ বাড়তে থাকে।

দ্বিতীয়টা সংক্রমণ। নল বা দাগের চারপাশে জীবাণু বসতে পারে। তাই দাগ আর ত্বকের নিচের নলের পথ বরাবর লালচে ভাব, ফোলা বা ব্যথা এত গুরুত্বপূর্ণ।

দুটো সমস্যার শুরুর লক্ষণ প্রায় একই: মাথাব্যথা, বমি, ঘুমকাতুরে ভাব। কোনটা হয়েছে, আদৌ কিছু হয়েছে কিনা, তা বের করা হাসপাতালের কাজ, আপনার নয়।

সেদিনই দেখানোর চেকলিস্ট

নিচের লক্ষণগুলোকে সেদিনই দেখানোর তালিকা হিসেবে ধরুন, বিশেষ করে কয়েকটা একসঙ্গে এলে:

  • মাথাব্যথা যেটা বারবার আসছে বা বাড়ছে
  • একবারের বেশি বমি
  • অস্বাভাবিক ঘুমকাতুরে ভাব, বা জাগানো কঠিন হয়ে যাওয়া
  • দাগ বা নলের পথ বরাবর লালচে ভাব, ফোলা বা ব্যথা
  • এর যেকোনো একটার সঙ্গে জ্বর
  • খিঁচুনি, বা চোখ যেন নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে

শিশু একদম ছোট হলে আরও যোগ করুন: মাথার নরম জায়গা ফুলে ওঠা, তীক্ষ্ণ সুরে কান্না, আর ঠিকমতো না খাওয়া। এমন দেখলে সেদিনই যান, আর ডেস্কে পরিষ্কার করে বলুন যে আপনার শিশুর শান্ট আছে।

সঙ্গে যা যা নিয়ে যাবেন

শান্ট কার্ড থাকলে সেটা নিন। কার্ডে শান্টের ধরন আর অপারেশনের বিবরণ লেখা থাকে। আগের অপারেশনের ছাড়পত্র বা অপারেশনের নোটও একই রকম কাজের।

চলতি ওষুধের তালিকাটাও সঙ্গে রাখুন। লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সন্ধ্যাজুড়ে কীভাবে বদলেছে, লিখে রাখলে ভালো। কার্ড বা কাগজপত্র না থাকলে যাওয়া থামাবেন না।

রিভিউতে যা যা হবে

ডাক্তার শিশুকে পরীক্ষা করবেন, দাগ আর নলের পথ ধরে হাত দিয়ে দেখবেন। প্রতিটি লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, আর গত কয়েক দিনে শিশু অসুস্থ ছিল কিনা, তিনি জানতে চাইবেন।

পরীক্ষায় যা পাওয়া যাবে, তার ওপর ভর করে স্ক্যান বা রক্ত পরীক্ষা হতে পারে। খিঁচুনি বা বিকাশ ছবির অংশ হলে ময়মনসিংহে শিশু নিউরোলজিস্টও রিভিউতে যোগ দিতে পারেন। সেদিনের লক্ষ্য: শান্ট দিয়ে তরল যাচ্ছে কিনা, আর সংক্রমণ আছে কিনা।

শান্ত বছরগুলোতেও ফলো-আপ কেন জরুরি

শান্ট বসিয়ে ভুলে যাওয়ার জিনিস নয়। শিশু বড় হয়, আর চারপাশের শরীর বদলালেও নলটাকে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। নিয়মিত রিভিউতে টিম বৃদ্ধি, বিকাশ আর শান্টের জায়গা পরীক্ষা করে।

সমস্যা না থাকলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাদ দেওয়ার মনে হতে পারে। অথচ ওই সময়েই নথি হালনাগাদ হয় আর ছোট বদলগুলো ধরা পড়ে। শান্ট কার্ডটা যত্নে রাখুন, রুটিন ভিজিটেও সঙ্গে নিয়ে যান।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

শান্টের প্রধান দুটো সমস্যা কী কী, যেগুলো ডাক্তার খোঁজেন?

একটা হলো ব্লকেজ, যেখানে নল দিয়ে তরল যাওয়া বন্ধ হয়ে চাপ বাড়ে। আরেকটা হলো নল বা দাগের চারপাশে সংক্রমণ। লক্ষণ এলে দুটোর ক্ষেত্রেই সেদিন রিভিউ দরকার।

শিশুর শুধু মাথাব্যথা, আর কোনো লক্ষণ নেই। তবু কি যাব?

শান্ট আছে এমন শিশুর নতুন বা একটানা মাথাব্যথা সেদিনই জানানো উচিত। এর সঙ্গে বমি, ঘুমকাতুরে ভাব, জ্বর বা লালচে ভাব যোগ হলে অপেক্ষা না করে চলে যান।

শান্ট কার্ড কী?

ছোট একটা কার্ড, যেখানে শান্টের ধরন আর অপারেশনের বিবরণ লেখা থাকে। অপারেশনের পর হাসপাতাল থেকে এটা দেওয়া হয়, যাতে যেকোনো ডাক্তার দ্রুত ব্যবস্থাটা বুঝতে পারেন।

একটা শান্ট কত দিন কাজ করতে পারে?

একটা শান্ট অনেক বছর ধরে কাজ করতে পারে, কিন্তু এটা বসিয়ে-ভুলে-যাওয়ার যন্ত্র নয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সেজন্যই ফলো-আপ চলতে থাকে।

শান্ট আটকে গেলে কী হয়?

ডাক্তার প্রথমে পরীক্ষা করে সমস্যাটা নিশ্চিত করেন। শান্ট দিয়ে তরল না গেলে সাধারণত আক্রান্ত অংশ মেরামত বা বদলের অপারেশনই সমাধান।

শিশু পুরোপুরি ভালো থাকলে ফলো-আপে কেন যাব?

বৃদ্ধির সঙ্গে নলের চারপাশের শরীর বদলায়, আর রিভিউতে ছোট সমস্যা আগেভাগে ধরা পড়ে। শিশুর নথি আর শান্টের বিবরণও এতে হালনাগাদ থাকে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.