সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - ময়মনসিংহ
যে মাথাব্যথা ঘুম ভাঙিয়ে দেয় ভোরবেলায়
ভোর সাড়ে পাঁচটা। পাশের ঘর থেকে সন্তানের ডাক শুনে আপনি ছুটে গেলেন। বিছানায় বসে সে দুই হাতে মাথা চেপে ধরে আছে। ঘুম পুরোপুরি ভাঙার আগেই ব্যথাটা শুরু হয়ে গেছে। গত সপ্তাহে ঠিক এমন এক সকালে ব্যথার সঙ্গে বালতিতে বমি করে ফেলেছিল সে।
স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বেশিরভাগ মাথাব্যথা এমন নয়। সেগুলো আসে বিকেলের দিকে, সারাদিনের ক্লান্তি আর কম পানি খাওয়ার পর। খাবার, বিশ্রাম আর একটু নিরিবিলিতেই তা কমে যায়। এমন মাথাব্যথা বাবা-মায়েদের চেনা, এবং সাধারণত বাড়ির সাধারণ যত্নেই সারে।
কিন্তু এই ধরনটা আলাদা। ঘুম থেকে ওঠার আগেই যে মাথাব্যথা থাকে, তা নিয়ে ডাক্তাররা বেশি চিন্তিত হন। মাঝরাতে ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়াও একই দলে পড়ে। ব্যথার সঙ্গে বারবার বমি থাকলেও তাঁরা বিষয়টাকে গুরুত্ব দেন।
এমন কিছু দেখলে মাসের পর মাস শুধু দেখে যাবেন না। আজ থেকেই ছোট্ট একটা নোট রাখুন: কখন ব্যথা এল, সঙ্গে কী কী হলো। তারপর ময়মনসিংহে শিশু নিউরোলজিস্ট দেখানোর সময় নোটটা সঙ্গে নিয়ে যান। লিখে রাখা পরিষ্কার ধরন ডাক্তারের কাজ অনেক সহজ করে দেয়।
10 available specialists found
ডাঃ সত্যাধৃতি রায়
অধ্যাপক ডাঃ মানবেন্দ্র ভট্টাচার্য
অধ্যাপক ডাঃ মো. রেজাউল করিম তালুকদার (রঞ্জু)
Dr. Md. Jobayer Al Mahmud (Shimul)
Prof. Dr. Nurul Alam Bashar
Dr. Salah Uddin Ahmed
Dr. Uttam Kumar Sarker
Prof. Dr. Md. Jalal Uddin
Dr. Mohammad Kamruzzaman Swapan
যে ধরনগুলো ডাক্তারকে জানানো দরকার
প্রথমে বলি সকালের মাথাব্যথার কথা। ঘুম থেকে ওঠার সময়ই যে ব্যথা থাকে, তা সারাদিনে ধীরে ধীরে বাড়া ব্যথার থেকে আলাদা।
দ্বিতীয় ধরনটা হলো বমি। খারাপ মাথাব্যথায় অনেক শিশুরই গা গোলায়, সেটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সকালের ব্যথার সঙ্গে বারবার বমি হলে ব্যাপারটা ভিন্ন। সপ্তাহের পর সপ্তাহ বাড়িতে চেপে না রেখে আগে থেকেই ডাক্তারকে জানানো উচিত।
তৃতীয় ধরনটা হলো সময়ের সঙ্গে বদল। যে মাথাব্যথা আগের চেয়ে ঘন ঘন আসছে, বেশিক্ষণ থাকছে, কিংবা এক মাস আগের তুলনায় জোরালো হচ্ছে, তা দেখিয়ে নেওয়া দরকার।
দৃষ্টির বদলও জানাতে হবে। ঝাপসা দেখা, একটা জিনিস দুটো দেখা, কিংবা একপাশের জিনিস ঠিকমতো খেয়াল না করা, সবই বলার মতো বিষয়। নতুন দুর্বলতা, হাঁটায় টালমাটাল ভাব, আচরণ বা পড়াশোনায় হঠাৎ বদল থাকলেও তা জানান।
ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে যা লিখে রাখবেন
মুখে মুখে লম্বা বর্ণনার চেয়ে ছোট্ট একটা লিখিত নোট বেশি কাজের।
প্রতিবার তারিখ আর ব্যথা শুরুর সময় লিখুন। বমি হয়েছে কিনা, ব্যথায় ঘুম ভেঙেছে কিনা, আর কতক্ষণ ব্যথা ছিল, তাও লিখুন। আগের রাতের ঘুম, দিনের খাবার আর পানি খাওয়ার পরিমাণও সঙ্গে রাখুন।
নতুন যা যা চোখে পড়ছে, তাও লিখে রাখুন। হাঁটার ভঙ্গিতে বদল। হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া। স্কুলে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে চোখ কুঁচকানো।
আপনার শিশুর নিয়মিত ময়মনসিংহে শিশু বিশেষজ্ঞ সাধারণ ভিজিটেও এই নোটটা কাজে লাগাতে পারবেন। সময়ের সঙ্গে এটা একটা রেকর্ড তৈরি করে, আর নিউরোলজিস্টের ধরনটা বুঝতে ঠিক এটাই দরকার।
নিউরোলজিস্ট যেভাবে পরীক্ষা করেন
ভিজিট শুরু হয় আপনার বর্ণনা আর নোট দিয়ে। ডাক্তার জানতে চাইবেন, মাথাব্যথা কবে থেকে শুরু, আর ধরনটা কীভাবে বদলেছে।
এরপর শারীরিক পরীক্ষা। হাত-পায়ের শক্তি দেখা হয়। ভারসাম্য আর হাঁটার ভঙ্গি মন দিয়ে লক্ষ করা হয়। ছোট হাতুড়ি দিয়ে রিফ্লেক্স পরীক্ষা করা হয়।
চোখের পরীক্ষায় বিশেষ মনোযোগ থাকে। আলোসহ ছোট একটা যন্ত্র দিয়ে ডাক্তার চোখের পেছনের অংশ দেখেন। এতে ব্যথা লাগে না, সময়ও লাগে সামান্য। এই পরীক্ষায় যা পাওয়া যায়, তার ওপর পরের সিদ্ধান্ত অনেকটা নির্ভর করে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা সবার জন্য একরকম নয়। শারীরিক পরীক্ষার পর অনেক শিশুরই কোনো স্ক্যান লাগে না। ধরনটা যদি স্ক্যান বা অন্য পরীক্ষার দিকে ইশারা করে, ডাক্তার কারণটা বুঝিয়ে বলবেন। ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন, পরীক্ষাটা জরুরি কিনা, নাকি কিছুদিন ধরনটা লক্ষ করাই ভালো। নির্বাচিত হাসপাতালে সেই পরীক্ষা হয় কিনা, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। কোনো কোনো শিশুকে বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
আমার সন্তানের মাথাব্যথা স্কুলের পরে আসে। এটা কি চিন্তার ধরন?
সাধারণত নয়। দুপুরের পরের মাথাব্যথা প্রায়ই দীর্ঘ দিনের ক্লান্তি, কম পানি, চোখের চাপ বা কম ঘুম থেকে হয়। তবু নিয়মিত ভিজিটে বিষয়টা জানান, বিশেষ করে যদি বারবার হতে থাকে।
দিনের সময়টা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
সকালের ব্যথা, ঘুম ভেঙে যাওয়া আর বমি এক ধরন। ব্যস্ত দিনের শেষে বাড়তে থাকা ব্যথা আরেক ধরন, যা সাধারণত সহজ কারণে হয়।
আমার সন্তানের কি ব্রেন স্ক্যান লাগবে?
সবসময় লাগে না। আগে আসে ইতিহাস আর শারীরিক পরীক্ষা। স্ক্যানের পরামর্শ তখনই দেওয়া হয়, যখন ধরন বা পরীক্ষার ফলাফল সেদিকে ইশারা করে। ডাক্তার কারণটাও বুঝিয়ে দেবেন।
চোখের পেছনের অংশ দেখার পরীক্ষায় ব্যথা লাগে কি?
না। ডাক্তার চোখে ছোট আলো ফেলে পেছনের অংশ দেখেন। এক-দুই মিনিটের ব্যাপার।
কত দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত?
সকালের মাথাব্যথা বা বমির ধরন থাকলে দেরি না করে সময় নিন। হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে দুর্বলতা, দৃষ্টির বদল, বিভ্রান্তি বা বারবার বমি থাকলে সেদিনই চিকিৎসা নিন।
স্ক্রিন আর দেরিতে ঘুমানো দিয়েই কি এই ধরন ব্যাখ্যা করা যায়?
এগুলো মাথাব্যথা বাড়াতে পারে, আর ঠিক করলে সাধারণ মাথাব্যথায় উপকার হয়। কিন্তু বমিসহ সকালের ধরনের ব্যাখ্যা এতে হয় না, তাই সেই ধরন থাকলে দেখিয়ে নেওয়াই দরকার।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.