দাঁত স্কেলিং কি, কেন এবং কত খরচ?
দাঁত স্কেলিং, এই শব্দটা শুনলেই অনেকে হয়তো ভাবেন, “এটা আবার কী জিনিস?” অথবা “আমার কি এটা দরকার আছে?” দাঁতের যত্নে স্কেলিং একটি অতি পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। আজ আমরা দাঁত স্কেলিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব—কেন এটি প্রয়োজন, কীভাবে এটি করা হয় এবং বাংলাদেশে এর খরচ কেমন।
দাঁত স্কেলিং হলো দাঁতের উপর জমে থাকা পাথর বা টারটার (Calculus) এবং দাগ (Stains) পরিষ্কার করার একটি পদ্ধতি। আমরা প্রতিদিন খাবার খাই, আর সেই খাবারের কণা, ব্যাকটেরিয়া ও লালার মিশ্রণে দাঁতের উপর এক ধরণের আঠালো স্তর তৈরি হয়, যাকে প্লাক (Plaque) বলে। এই প্লাক যদি নিয়মিত পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে তা শক্ত হয়ে পাথরের মতো জমে যায়, যাকে টারটার বা ক্যালকুলাস বলে। এই টারটার সাধারণ টুথব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়।
কী টেকওয়েজ
- দাঁত স্কেলিং দাঁতের যত্ন এবং মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি কেবল দাঁতের সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং মাড়ির রোগ এবং অন্যান্য জটিল সমস্যা থেকেও রক্ষা করে।
- বাংলাদেশে দাঁত স্কেলিং এর খরচ স্থান, ক্লিনিকের মান এবং ডেন্টিস্টের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।
- নিয়মিত স্কেলিং এবং সঠিক মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দীর্ঘমেয়াদী দাঁতের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
- স্কেলিংয়ের পর দাঁতের সংবেদনশীলতা (Sensitivity) দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত সাময়িক।
দাঁত স্কেলিং কি এবং কেন প্রয়োজন?
দাঁত স্কেলিং হলো দাঁতের উপরিভাগে এবং মাড়ির নিচের অংশে জমে থাকা ক্যালকুলাস ও প্লাক অপসারণের একটি পদ্ধতি। এটি সাধারণত আলট্রাসনিক স্কেলার (Ultrasonic scaler) নামক একটি যন্ত্রের সাহায্যে করা হয়, যা উচ্চ কম্পাঙ্কের কম্পন এবং পানি ব্যবহার করে দাঁতের উপর জমে থাকা শক্ত স্তরকে ভেঙে দেয়। এই প্রক্রিয়ার পর দাঁতকে মসৃণ করার জন্য পলিশিং (Polishing) করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে সহজে প্লাক জমতে না পারে।
কেন দাঁত স্কেলিং করাবেন?
অনেক সময় আমরা দাঁতের যত্নে অবহেলা করি, ভাবি “একটু তো দাগই, কী আর হবে?” কিন্তু এই সামান্য অবহেলাই পরবর্তীতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
১. মাড়ির রোগ প্রতিরোধে:
দাঁতের গোড়ায় টারটার জমলে তা মাড়িতে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা জিঞ্জিভাইটিস (Gingivitis) নামে পরিচিত। এর ফলে মাড়ি ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় এবং রক্তপাত হতে পারে। সময়মতো স্কেলিং না করালে এই অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পেরিওডোনটাইটিস (Periodontitis) নামক মারাত্মক মাড়ির রোগে রূপ নিতে পারে, যা দাঁত হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ।
২. নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে:
মুখে জমে থাকা প্লাক ও টারটারে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, যা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধের (Halitosis) সৃষ্টি করে। নিয়মিত স্কেলিং করলে এই ব্যাকটেরিয়া দূর হয় এবং নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ কমে যায়।
৩. দাঁতের ক্ষয় রোধে:
প্লাক ও টারটারে থাকা ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড উৎপন্ন করে, যা দাঁতের এনামেলকে ক্ষয় করে এবং ক্যাভিটি (Cavity) বা দাঁতের গর্ত সৃষ্টি করে। স্কেলিং দাঁতের ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।
৪. দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে:
চা, কফি, পান বা ধূমপানের কারণে দাঁতে যে কালো বা বাদামী দাগ পড়ে, স্কেলিংয়ের মাধ্যমে তা দূর করা যায়। এতে দাঁত পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখায়, যা আপনার হাসিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
৫. সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায়:
গবেষণায় দেখা গেছে, মাড়ির রোগের সাথে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের মতো কিছু গুরুতর রোগের সম্পর্ক আছে। দাঁত স্কেলিং করে মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখা গেলে এই রোগগুলোর ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।
দাঁত স্কেলিং খরচ বাংলাদেশে
দাঁত স্কেলিং এর খরচ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে দাঁত স্কেলিং খরচ সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা বা এর বেশি হতে পারে। এই খরচের তারতম্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. ক্লিনিকের অবস্থান ও ধরণ:
শহরের কেন্দ্রস্থলে বা অভিজাত এলাকার ক্লিনিকগুলোতে সাধারণত খরচ বেশি হয়। ছোট শহর বা মফস্বলের ক্লিনিকগুলোতে খরচ কিছুটা কম হতে পারে। করপোরেট ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত সেবার কারণে খরচ বেশি হতে পারে, যেখানে সাধারণ ব্যক্তিগত চেম্বারে খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
২. ডেন্টিস্টের অভিজ্ঞতা:
অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য ডেন্টিস্টরা সাধারণত বেশি ফি চার্জ করেন। নতুন ডেন্টিস্ট বা কম পরিচিত ক্লিনিকগুলোতে খরচ কিছুটা কম হতে পারে।
৩. দাঁতের অবস্থা:
যদি দাঁতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালকুলাস জমে থাকে বা মাড়ির অবস্থা জটিল হয়, তবে স্কেলিং করতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং খরচও বেশি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে Deep Scaling বা Root Planing এর প্রয়োজন হতে পারে, যার খরচ সাধারণ স্কেলিং এর চেয়ে বেশি।
৪. ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ধরণ:
আধুনিক আলট্রাসনিক স্কেলার এবং অন্যান্য উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হলে খরচ কিছুটা বাড়তে পারে। কিছু ক্লিনিকে লেজার স্কেলিং এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণ স্কেলিং এর চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল।
৫. অতিরিক্ত সেবাসমূহ:
স্কেলিংয়ের পাশাপাশি যদি পলিশিং, ফ্লোরাইড ট্রিটমেন্ট বা অন্য কোনো অতিরিক্ত সেবার প্রয়োজন হয়, তবে মোট খরচ বেড়ে যায়।
একটি উদাহরণস্বরূপ টেবিল নিচে দেওয়া হলো, যা আপনাকে দাঁত স্কেলিং এর খরচের একটি ধারণা দিতে পারে:
| সেবার ধরণ | সাধারণ ব্যক্তিগত চেম্বার (টাকা) | করপোরেট ডেন্টাল ক্লিনিক (টাকা) |
|---|---|---|
| সাধারণ স্কেলিং | ৫০০ – ১৫০০ | ১৫০০ – ৩০০০+ |
| ডিপ স্কেলিং | ১৫০০ – ৩৫০০+ | ৩০০০ – ৫০০০+ |
| স্কেলিং ও পলিশিং | ৮০০ – ২০০০ | ২০০০ – ৪০০০+ |
এই খরচগুলো আনুমানিক এবং ক্লিনিকভেদে ভিন্ন হতে পারে।
দাঁত স্কেলিং কি ব্যথা দেয়?
দাঁত স্কেলিং নিয়ে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন থাকে, “এটা কি ব্যথা দেয়?” সাধারণত, দাঁত স্কেলিং একটি ব্যথাহীন প্রক্রিয়া। তবে, কিছু ক্ষেত্রে হালকা অস্বস্তি বা সংবেদনশীলতা অনুভব হতে পারে।
স্কেলিং এর সময় অনুভূতি:
- হালকা চাপ বা কম্পন: আলট্রাসনিক স্কেলার ব্যবহার করার সময় দাঁতের উপর হালকা চাপ বা কম্পন অনুভব হতে পারে। এটি যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতার অংশ।
- ঠান্ডা পানি: স্কেলিংয়ের সময় যন্ত্র থেকে পানি বের হয়, যা দাঁতের উপর জমে থাকা অংশগুলোকে ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে। এই ঠান্ডা পানি কিছু সংবেদনশীল দাঁতে হালকা শিরশির অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
- মাড়ির সংবেদনশীলতা: যদি আপনার মাড়ি আগে থেকেই অসুস্থ থাকে বা মাড়িতে প্রদাহ থাকে, তবে স্কেলিংয়ের সময় সামান্য রক্তপাত হতে পারে এবং মাড়িতে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব হতে পারে। তবে এটি সাময়িক এবং কিছুক্ষণ পরেই ঠিক হয়ে যায়।
যদি আপনার দাঁত বা মাড়ি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়, তবে স্কেলিংয়ের আগে ডেন্টিস্টকে জানাতে পারেন। তিনি প্রয়োজনে লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া (Local Anesthesia) বা অনুভূতি কমানোর জন্য জেল ব্যবহার করতে পারেন, যাতে আপনি আরামদায়কভাবে স্কেলিং করাতে পারেন।
দাঁত স্কেলিং এর পর কি কি সতর্কতা অবলম্বন করবেন?
স্কেলিং করানোর পর কিছু সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন, যাতে দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকে এবং যেকোনো অস্বস্তি দ্রুত কমে যায়।
১. সংবেদনশীলতা:
স্কেলিংয়ের পর দাঁত কিছুটা সংবেদনশীল হতে পারে, বিশেষ করে ঠান্ডা বা গরম খাবারে। এটি সাধারণত কয়েকদিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়। এই সময়ে সংবেদনশীলতা কমানোর জন্য Sensodyne-এর মতো টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন।
২. নরম খাবার গ্রহণ:
প্রথম ২৪ ঘণ্টা নরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। শক্ত বা চিবাতে হয় এমন খাবার এড়িয়ে চলুন, যা দাঁতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
৩. পানীয়:
প্রথম কয়েক ঘণ্টা চা, কফি, পান, বা রঙিন পানীয় যেমন কোক, স্প্রাইট ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। এতে দাঁতে নতুন করে দাগ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
৪. ধূমপান ও তামাক:
স্কেলিংয়ের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধূমপান বা তামাক জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এগুলো মাড়ির নিরাময় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং দাঁতে নতুন দাগ ফেলতে পারে।
৫. সঠিক ব্রাশ ও ফ্লসিং:
নিয়মিত নরম ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন এবং প্রতিদিন ফ্লসিং করুন। এটি নতুন করে প্লাক ও টারটার জমা রোধ করতে সাহায্য করবে।
৬. নিয়মিত দাঁত পরীক্ষা:
ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত দাঁত পরীক্ষা করান। সাধারণত বছরে একবার স্কেলিং করানো উচিত, তবে আপনার দাঁতের অবস্থার উপর নির্ভর করে ডেন্টিস্ট এর সময়কাল নির্ধারণ করে দেবেন।
দাঁত স্কেলিং এর সুবিধা ও অসুবিধা
যেকোনো চিকিৎসার মতোই দাঁত স্কেলিং এর কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে।
সুবিধা:
- মাড়ির রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: জিঞ্জিভাইটিস ও পেরিওডোনটাইটিসের মতো মাড়ির রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় কার্যকর।
- দুর্গন্ধ দূরীকরণ: নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে মুখকে সতেজ রাখে।
- দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি: দাঁতের উপর জমে থাকা দাগ ও পাথর দূর করে দাঁতকে উজ্জ্বল ও পরিষ্কার করে তোলে।
- দাঁতের ক্ষয় রোধ: প্লাক ও টারটার দূর করে দাঁতের ক্ষয় এবং ক্যাভিটি হওয়া থেকে রক্ষা করে।
- সামগ্রিক স্বাস্থ্য: মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রেখে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।
অসুবিধা:
- সাময়িক সংবেদনশীলতা: স্কেলিংয়ের পর দাঁত ও মাড়ি কিছু দিনের জন্য সংবেদনশীল হতে পারে।
- হালকা রক্তপাত: মাড়িতে প্রদাহ থাকলে স্কেলিংয়ের সময় কিছুটা রক্তপাত হতে পারে।
- ব্যয়: নিয়মিত স্কেলিং করানো অনেকের জন্য একটি অতিরিক্ত খরচ মনে হতে পারে।
- ঘন ঘন প্রয়োজন: কিছু মানুষের দাঁতে দ্রুত টারটার জমে, যার ফলে ঘন ঘন স্কেলিং এর প্রয়োজন হতে পারে।
দাঁত স্কেলিং কতদিন পর পর করানো উচিত?
সাধারণত, একজন সুস্থ ব্যক্তির বছরে একবার দাঁত স্কেলিং করানো উচিত। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এই সময়কাল পরিবর্তিত হতে পারে।
১. ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি:
যদি আপনি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লসিং করেন এবং আপনার মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি ভালো থাকে, তাহলে বছরে একবার স্কেলিং যথেষ্ট হতে পারে।
২. টারটার জমার প্রবণতা:
যদি আপনার দাঁতে দ্রুত টারটার জমে, অথবা আপনার মাড়ির রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, তবে ডেন্টিস্ট আপনাকে প্রতি ৬ মাস পর পর স্কেলিং করানোর পরামর্শ দিতে পারেন।
৩. ধূমপান ও তামাক:
যারা ধূমপান করেন বা তামাক ব্যবহার করেন, তাদের দাঁতে বেশি দাগ ও টারটার জমে। এক্ষেত্রে ঘন ঘন স্কেলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
৪. মাড়ির রোগের ইতিহাস:
যদি আপনার মাড়ির রোগের ইতিহাস থাকে বা আপনি পেরিওডোনটাইটিসের মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে ডেন্টিস্ট আপনাকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফলো-আপ স্কেলিং ও রুট প্ল্যানিং এর পরামর্শ দেবেন।
সবচেয়ে ভালো হয়, আপনার ডেন্টিস্টের সাথে পরামর্শ করে আপনার দাঁতের অবস্থা অনুযায়ী স্কেলিং এর সময়সূচী নির্ধারণ করা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. দাঁত স্কেলিং করলে কি দাঁত নড়ে যায়?
না, দাঁত স্কেলিং করলে দাঁত নড়ে যায় না। বরং, দাঁতের গোড়ায় জমে থাকা পাথর বা টারটার অপসারণের ফলে মাড়ি সুস্থ হয় এবং দাঁত আরও মজবুত হয়। অনেক সময় দাঁতে প্রচুর পাথর জমে থাকলে দাঁত কিছুটা নড়বড়ে মনে হতে পারে, কিন্তু স্কেলিংয়ের পর পাথর সরে গেলে দাঁত হালকা মনে হলেও এটি আসলে মজবুত হচ্ছে।
২. দাঁত স্কেলিং কি দাঁত সাদা করে?
দাঁত স্কেলিং দাঁতকে সাদা করে না, তবে এটি দাঁতের উপর জমে থাকা কালো বা বাদামী দাগ এবং টারটার পরিষ্কার করে দাঁতকে তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে দেয়। স্কেলিংয়ের পর দাঁত অনেক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখায়, যা সাদা হওয়ার মতো মনে হতে পারে। দাঁত সাদা করার জন্য ব্লিচিং (Bleaching) বা হোয়াইটেনিং (Whitening) এর মতো আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে।
৩. স্কেলিং এর পর কি রক্তপাত হওয়া স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, যদি আপনার মাড়িতে প্রদাহ বা জিঞ্জিভাইটিস থাকে, তাহলে স্কেলিংয়ের সময় এবং এর কিছুক্ষণ পর হালকা রক্তপাত হওয়া স্বাভাবিক। এটি মাড়ির সুস্থতার প্রক্রিয়ার একটি অংশ। সাধারণত, রক্তপাত দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং মাড়ির স্বাস্থ্য উন্নত হওয়ার সাথে সাথে এটি আর হয় না।
৪. গর্ভবতী অবস্থায় কি দাঁত স্কেলিং করানো যায়?
হ্যাঁ, গর্ভবতী অবস্থায় দাঁত স্কেলিং করানো নিরাপদ। প্রকৃতপক্ষে, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাড়ির প্রদাহ বা জিঞ্জিভাইটিস হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই, গর্ভবতী মহিলাদের মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে স্কেলিং করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, স্কেলিং করানোর আগে আপনার ডেন্টিস্ট এবং গাইনেকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া ভালো।
৫. দাঁত স্কেলিং না করালে কী হতে পারে?
যদি নিয়মিত দাঁত স্কেলিং না করানো হয়, তাহলে দাঁতের উপর প্লাক ও টারটার জমে মাড়ির রোগ (জিঞ্জিভাইটিস, পেরিওডোনটাইটিস), নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ, দাঁতের ক্ষয়, এবং দাঁত নড়ে গিয়ে অকালে পড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও, মাড়ির রোগ শরীরের অন্যান্য অংশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার
দাঁত স্কেলিং কেবল দাঁতের সৌন্দর্য রক্ষার একটি প্রক্রিয়া নয়, এটি আপনার সামগ্রিক মৌখিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত স্কেলিং করানো এবং সঠিক মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আপনি অনেক দাঁত ও মাড়ির সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। দাঁতের যত্নকে অবহেলা না করে, আজই আপনার ডেন্টিস্টের সাথে পরামর্শ করুন এবং আপনার দাঁতের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। আপনার সুন্দর হাসিই আপনার সুস্থ জীবনের প্রতিচ্ছবি!