Skip to content
Home » Blog » জন্ডিস হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন? সঠিক পরামর্শ নিন

জন্ডিস হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন? সঠিক পরামর্শ নিন

জন্ডিস নিয়ে চিন্তিত? কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন ভাবছেন? আসুন, আমরা পথ দেখাই!

জন্ডিস! নামটা শুনলেই কেমন যেন গা ছমছম করে, তাই না? শরীরটা একটু হলুদ হয়ে গেলেই মনে হয়, “জন্ডিস বুঝি হলো!” আর তখনই প্রশ্ন জাগে, “জন্ডিস এর জন্য কোন ডাক্তার দেখাবো?” চিন্তা নেই, আজকের ব্লগ পোস্টে আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। জন্ডিস হলে ভয় না পেয়ে সঠিক সময়ে সঠিক ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটা খুবই জরুরি।

জন্ডিস কোনো রোগ নয়, এটা রোগের লক্ষণ। আমাদের শরীরে যখন বিলিরুবিন (Bilirubin) নামক একটি পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন ত্বক, চোখ ও অন্যান্য অঙ্গ হলুদ হয়ে যায়। এই অবস্থাকেই জন্ডিস বলা হয়। জন্ডিসের কারণ হতে পারে লিভারের সমস্যা, পিত্তথলির পাথর, রক্তের রোগ অথবা অন্য কোনো সংক্রমণ। তাই জন্ডিস হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জন্ডিস হলে কেন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

জন্ডিস নিজে কোনো রোগ না হলেও, এটি শরীরের অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে লিভারের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, যা থেকে সিরোসিস (Cirrhosis) বা লিভার ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগও হতে পারে। এছাড়াও, জন্ডিসের কারণে শরীরে দুর্বলতা, হজমের সমস্যা এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই, জন্ডিস দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে সঠিক রোগ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা যায়।

জন্ডিসের লক্ষণগুলো কী কী?

জন্ডিস হলে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়:

  • ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া
  • গাঢ় রঙের প্রস্রাব
  • হালকা রঙের পায়খানা
  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা
  • পেটে ব্যথা
  • বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • জ্বর (কিছু ক্ষেত্রে)

যদি আপনার মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে দ্রুত একজন ভালো ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

জন্ডিসের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবো?

জন্ডিসের কারণ এবং তীব্রতার ওপর নির্ভর করে কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন। সাধারণত, নিম্নলিখিত বিশেষজ্ঞরা জন্ডিসের চিকিৎসা করে থাকেন:

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (Medicine Specialist)

জন্ডিসের প্রাথমিক পর্যায়ে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াই ভালো। মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগ এবং সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। তারা জন্ডিসের লক্ষণগুলো পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

  • জন্ডিসের কারণ নির্ণয় করার জন্য শারীরিক পরীক্ষা এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা (যেমন: রক্তের পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাফি) করাতে পারেন।
  • যদি জন্ডিসের কারণ গুরুতর না হয়, তাহলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞরাই সাধারণত এর চিকিৎসা করতে পারেন।
  • প্রয়োজন মনে করলে, তারা আপনাকে অন্য কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করতে পারেন।

লিভার বিশেষজ্ঞ বা হেপাটোলজিস্ট (Hepatologist)

লিভার বিশেষজ্ঞ বা হেপাটোলজিস্টরা লিভার, পিত্তথলি এবং অগ্ন্যাশয়ের রোগ নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করেন। যদি জন্ডিসের কারণ লিভারের কোনো জটিল রোগ হয়, তাহলে লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • লিভারের রোগ যেমন – হেপাটাইটিস (Hepatitis), সিরোসিস (Cirrhosis), ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver) ইত্যাদি কারণে জন্ডিস হলে লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।
  • লিভার বিশেষজ্ঞ জন্ডিসের কারণ নির্ণয় করার জন্য লিভার বায়োপসি (Liver Biopsy) এবং অন্যান্য বিশেষ পরীক্ষা করাতে পারেন।
  • তারা লিভারের রোগের জন্য আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন – অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি (Antiviral Therapy) এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (Liver Transplant) এর বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট (Gastroenterologist)

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা পরিপাকতন্ত্রের রোগ যেমন – পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র, লিভার, পিত্তথলি এবং অগ্ন্যাশয়ের রোগ নিয়ে কাজ করেন। জন্ডিসের কারণ যদি পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যা হয়, তাহলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • পিত্তথলিতে পাথর (Gallstones), পিত্তনালীর সংক্রমণ (Bile Duct Infection) অথবা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের (Pancreatitis) কারণে জন্ডিস হলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন।
  • গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট জন্ডিসের কারণ নির্ণয় করার জন্য এন্ডোস্কোপি (Endoscopy), কোলনোস্কোপি (Colonoscopy) এবং অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষা করাতে পারেন।
  • তারা পরিপাকতন্ত্রের রোগের জন্য ঔষধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন – ইআরসিপি (ERCP) এর মাধ্যমে পাথর অপসারণ করতে পারেন।

শিশু বিশেষজ্ঞ (Pediatrician)

নবজাতক ও শিশুদের জন্ডিস হলে শিশু বিশেষজ্ঞের (Pediatrician) পরামর্শ নেওয়া উচিত। নবজাতকদের জন্ডিস একটি সাধারণ সমস্যা, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর হতে পারে।

  • নবজাতকের জন্ডিস সাধারণত জন্মের কয়েক দিনের মধ্যে দেখা যায়।
  • শিশু বিশেষজ্ঞ জন্ডিসের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখেন এবং প্রয়োজনে ফটোথেরাপি (Phototherapy) বা অন্য কোনো চিকিৎসা শুরু করেন।
  • গুরুতর ক্ষেত্রে, শিশু বিশেষজ্ঞ রক্ত ​​পরিবর্তন (Blood Transfusion) করার পরামর্শ দিতে পারেন।

জন্ডিসের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা:

বিশেষজ্ঞ কখন প্রয়োজন
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (Medicine Specialist) জন্ডিসের প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ দেখা দিলে এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য।
লিভার বিশেষজ্ঞ (Hepatologist) লিভারের জটিল রোগ যেমন – হেপাটাইটিস, সিরোসিস বা ফ্যাটি লিভারের কারণে জন্ডিস হলে।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট (Gastroenterologist) পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, যেমন – পিত্তথলিতে পাথর, পিত্তনালীর সংক্রমণ বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের কারণে জন্ডিস হলে।
শিশু বিশেষজ্ঞ (Pediatrician) নবজাতক ও শিশুদের জন্ডিস হলে।

ডাক্তার দেখানোর আগে কিছু প্রস্তুতি

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নিলে আপনার জন্য সুবিধা হবে। যেমন:

  • আপনার লক্ষণগুলো একটি কাগজে লিখে নিন।
  • কি কি ঔষধ খাচ্ছেন তার একটি তালিকা তৈরি করুন।
  • আগের কোনো মেডিকেল রিপোর্ট থাকলে তা সাথে নিন।
  • জন্ডিস হওয়ার পর থেকে আপনার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনগুলো নোট করুন।

এই তথ্যগুলো ডাক্তারকে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে সাহায্য করবে।

জন্ডিসের কারণ নির্ণয়ের জন্য কি কি পরীক্ষা করা হয়?

জন্ডিসের কারণ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার সাধারণত নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করতে পারেন:

  • রক্ত পরীক্ষা (Blood Test): রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা, লিভারের এনজাইম এবং অন্যান্য সংক্রমণ markers পরীক্ষা করার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
  • আলট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasonography): লিভার, পিত্তথলি এবং অন্যান্য অঙ্গের ছবি দেখার জন্য আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
  • সিটি স্ক্যান (CT Scan) বা এমআরআই (MRI): কিছু ক্ষেত্রে, লিভার এবং অন্যান্য অঙ্গের বিস্তারিত ছবি দেখার জন্য সিটি স্ক্যান বা এমআরআই এর প্রয়োজন হতে পারে।
  • লিভার বায়োপসি (Liver Biopsy): লিভারের রোগের কারণ নির্ণয় করার জন্য লিভার বায়োপসি করা হয়।
  • এন্ডোস্কোপি (Endoscopy) বা ইআরসিপি (ERCP): পিত্তনালী বা অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা নির্ণয় করার জন্য এন্ডোস্কোপি বা ইআরসিপি করা হয়।

এই পরীক্ষাগুলো জন্ডিসের সঠিক কারণ নির্ণয় করতে এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করতে সাহায্য করে।

জন্ডিসের চিকিৎসা পদ্ধতি

জন্ডিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের উপর। কিছু সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • ঔষধ: সংক্রমণ বা অন্য কোনো কারণে জন্ডিস হলে ডাক্তার ঔষধ দিতে পারেন।
  • ফটোথেরাপি (Phototherapy): নবজাতকের জন্ডিসের জন্য এটি একটি সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি।
  • সার্জারি: পিত্তথলিতে পাথর বা অন্য কোনো ব্লকেজ থাকলে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
  • লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (Liver Transplant): লিভারের রোগ মারাত্মক হলে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হতে পারে।

ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা এবং পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

জন্ডিস থেকে বাঁচতে কিছু ঘরোয়া উপায়

জন্ডিস থেকে বাঁচতে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করে:

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম: জন্ডিস হলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
  • প্রচুর পানি পান করা: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
  • সহজপাচ্য খাবার খাওয়া: সহজে হজম হয় এমন খাবার খান, যেমন – সিদ্ধ সবজি, ফল এবং হালকা স্যুপ।
  • চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা: ভাজা ও চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন, কারণ এগুলো হজম হতে সমস্যা সৃষ্টি করে।
  • ফল ও সবজি: তাজা ফল ও সবজি খান, যা ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
  • ইক্ষু রস: জন্ডিসের জন্য ইক্ষু রস খুবই উপকারী। এটি লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।

জন্ডিস নিয়ে কিছু ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য

জন্ডিস নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। আসুন, কিছু সাধারণ ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য জেনে নেই:

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
জন্ডিস শুধু বড়দের হয়। জন্ডিস যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে, এমনকি নবজাতকেরও।
জন্ডিস ছোঁয়াচে রোগ। জন্ডিস ছোঁয়াচে নয়, তবে জন্ডিসের কারণ যদি কোনো ভাইরাস সংক্রমণ হয় (যেমন – হেপাটাইটিস এ), তবে তা ছোঁয়াচে হতে পারে।
জন্ডিস হলে তেল-মসলা ছাড়া খাবার খেতে হয়। জন্ডিস হলে সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত, তবে একেবারে তেল-মসলা ছাড়া খাবার খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পরিমিত তেল ও মশলা ব্যবহার করা যেতে পারে।
জন্ডিস হলে শুধু বিশ্রাম নিলেই সেরে যায়। জন্ডিসের কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা করানো জরুরি। বিশ্রাম একটি সহায়ক প্রক্রিয়া, তবে এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
জন্ডিস মানেই লিভারের রোগ। জন্ডিসের অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন – পিত্তথলির পাথর, রক্তের রোগ বা অন্য কোনো সংক্রমণ। তাই জন্ডিস হলেই লিভারের রোগ হয়েছে এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

জন্ডিস প্রতিরোধে করণীয়

জন্ডিস প্রতিরোধ করার জন্য কিছু সাধারণ নিয়মাবলী অনুসরণ করা যেতে পারে:

  • স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ: স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খান। ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
  • টিকা গ্রহণ: হেপাটাইটিস এ এবং বি ভাইরাসের টিকা নিন।
  • নিরাপদ পানি পান: সবসময় পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি পান করুন।
  • স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা: ভালোভাবে হাত ধুয়ে খাবার খান এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

জন্ডিস এবং অন্যান্য রোগ

জন্ডিস অন্যান্য রোগের কারণেও হতে পারে। কিছু রোগ, যা জন্ডিসের কারণ হতে পারে, সেগুলো হলো:

  • হেপাটাইটিস (Hepatitis): হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাস লিভারে সংক্রমণ ঘটিয়ে জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে।
  • পিত্তথলির পাথর (Gallstones): পিত্তথলিতে পাথর হলে পিত্তনালীতে বাধা সৃষ্টি হয়ে জন্ডিস হতে পারে।
  • অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার (Pancreatic Cancer): অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের কারণে পিত্তনালীতে চাপ পড়লে জন্ডিস হতে পারে।
  • অটোইমিউন রোগ (Autoimmune Diseases): কিছু অটোইমিউন রোগ, যেমন – অটোইমিউন হেপাটাইটিস (Autoimmune Hepatitis) এবং প্রাইমারি বিলিয়ারি সিরোসিস (Primary Biliary Cirrhosis), লিভারের ক্ষতি করে জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে।
  • জেনেটিক রোগ (Genetic Disorders): কিছু বংশগত রোগ, যেমন – গিলবার্টস সিনড্রোম (Gilbert’s Syndrome) এবং ক্রাইগলার-নাজ্জার সিনড্রোম (Crigler-Najjar Syndrome), বিলিরুবিন বিপাকের সমস্যা করে জন্ডিস ঘটাতে পারে।

এই রোগগুলো জন্ডিসের কারণ হতে পারে, তাই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

জন্ডিসের চিকিৎসায় এখন অনেক আধুনিক পদ্ধতি উপলব্ধ রয়েছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:

  • এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিওপ্যানক্রিয়েটোগ্রাফি (ERCP): পিত্তনালী বা অগ্ন্যাশয়ের নালীতে পাথর বা অন্য কোনো বাধা থাকলে তা ERCP এর মাধ্যমে অপসারণ করা যায়।
  • লিভার বায়োপসি (Liver Biopsy): লিভারের রোগের সঠিক কারণ জানার জন্য লিভার বায়োপসি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। আধুনিক পদ্ধতিতে আলট্রাসনোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে গাইড করে লিভার বায়োপসি করা হয়, যা নিরাপদ এবং নির্ভুল।
  • লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (Liver Transplant): লিভারের কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেলে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা। বর্তমানে এই চিকিৎসা বাংলাদেশেও উপলব্ধ।
  • ফটোথেরাপি (Phototherapy): নবজাতকদের জন্ডিসের চিকিৎসায় ফটোথেরাপি একটি বহুল ব্যবহৃত এবং কার্যকর পদ্ধতি।

কোথায় ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়?

বাংলাদেশে জন্ডিসের চিকিৎসার জন্য অনেক ভালো হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন। কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম নিচে দেওয়া হলো:

  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU), ঢাকা
  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
  • স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
  • বেসরকারি হাসপাতাল: অ্যাপোলো হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল

এছাড়াও, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ডিসের প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া যায়।

জন্ডিস থেকে সেরে ওঠার পর

জন্ডিস থেকে সেরে ওঠার পর কিছু বিষয় মনে রাখা দরকার। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করুন:

  • ডাক্তারের পরামর্শ: সেরে ওঠার পরেও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে থাকুন। নিয়মিত ফলো-আপে যান এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।
  • জীবনযাত্রা পরিবর্তন: স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, সময়মতো ঘুমান এবং মানসিক চাপ কমান।
  • খাদ্যাভ্যাস: সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন। সহজে হজম হয় এমন খাবার খান এবং ফাস্ট ফুড ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: হালকা ব্যায়াম করুন, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
  • টিকা: হেপাটাইটিস এ ও বি ভাইরাসের টিকা নিন, যদি আগে না নিয়ে থাকেন।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি জন্ডিস থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

শেষ কথা

জন্ডিস একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, এর সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা জরুরি। অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন। মনে রাখবেন, আপনার স্বাস্থ্য আপনার হাতে।

আশা করি, এই ব্লগ পোস্টটি আপনাকে জন্ডিস সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে নির্দ্বিধায় কমেন্ট বক্সে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

যদি আপনার জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে আজই একজন ভালো ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন!