1 ওভারভিউ / রোগ পরিচিতি
ডেঙ্গু হলো এডিস মশাবাহিত একটি তীব্র ভাইরাসজনিত জ্বর। এটি বাংলাদেশসহ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণ ডেঙ্গুতে তীব্র জ্বর ও প্রচণ্ড শরীরে ব্যথার পাশাপাশি সঠিক যত্ন না নিলে এটি মারাত্মক ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম বা হেমোরেজিক ফিভারে রূপ নিতে পারে।
2 লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ (Symptoms)
- হঠাৎ তীব্র জ্বর (১০৩°-১০৪° ফারেনহাইট)
- চোখের পেছনের অংশে প্রচণ্ড ব্যথা এবং তীব্র মাথাব্যথা
- মাংসপেশি ও হাড়ের জোড়ায় মারাত্মক ব্যথা (হাড়ভাঙা ব্যথা)
- বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা ও অতিরিক্ত দুর্বলতা
- জ্বরের ৩-৫ দিনের মাথায় ত্বকে লালচে র্যাশ বা দানা দেখা দেওয়া
3 রোগের কারণসমূহ (Causes)
ডেঙ্গু ভাইরাসের ৪টি ধরনের (DENV-১, ২, ৩, ৪) যেকোনো একটির সংক্রমণের কারণে এই রোগ হয়। এডিস ইজিপ্টি মশার কামড়ে এই ভাইরাস মানবদেহে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা, বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যায় বেশি কামড়ায়।
ঝুঁকির কারণ (Risk Factors)
- আবাসিক এলাকায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার প্রজনন
- পূর্বে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া (দ্বিতীয়বার অন্য সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে তীব্র জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে)
- শিশুদের এবং বয়োবৃদ্ধদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকি
সম্ভাব্য জটিলতা (Complications)
রক্তে প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ, পেটে পানি জমা এবং রক্তচাপ হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে কমে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে পরিণত হওয়া।
4 প্রতিরোধ ও সুস্থ জীবনধারা (Prevention)
- ঘরের ভেতরে ও আশেপাশে কোনো পাত্রে ৩ দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া
- দিনের বেলা ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহার করা
- ফুলহাতা জামা-কাপড় পরা এবং মস্কিটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা
- জ্বর হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অ্যাসপিরিন বা অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ কখনোই সেবন না করা
⚠️ কখন জরুরিভাবে ডাক্তার দেখাবেন (When to See a Doctor)
জ্বর কমে যাওয়ার সময় ডেঙ্গুর আসল বিপদ শুরু হয়। যদি পেটে তীব্র ব্যথা, অনবরত বমি, নাক বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, মলের রঙ কালো হওয়া বা চরম অবসাদ দেখা দেয়—তবে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
5 রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি (Diagnosis & Treatment)
জ্বরের প্রথম ১-৩ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু এনএস১ (NS1) অ্যান্টিজেন টেস্ট এবং নিয়মিত রক্তের সিবিসি (CBC) টেস্টের মাধ্যমে প্লাটিলেট ও হেমাটocrit পর্যবেক্ষণ করা হয়। চিকিৎসায় প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার (খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ) এবং বিশ্রামই মূল ভূমিকা রাখে।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)
- [1]
- [2]
এই রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
আপনার অন্য কোনো লক্ষণ আছে?
আমাদের ফ্রি সিম্পটম চেকার দিয়ে শারীরিক লক্ষণগুলো মিলিয়ে সম্ভাব্য রোগ জানুন।
সিম্পটম চেকার খুলুন