সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - নাটোর

ধারা থামে, আবার চলে, শেষে ফোঁটা পড়তেই থাকে

আমার বয়স পঁয়ত্রিশ। নাটোরের এদিকটায় আমবাগান দেখাশোনা করে আমার দিন কাটে। মই, ঝুড়ি আর গাছের সারির ভেতর লম্বা হাঁটা, এই নিয়েই আমার কাজ। কয়েক মাস ধরে ধারাটা নিজের খেয়ালে চলছে। শুরু হয়, থেমে যায়, আবার শুরু হয়, সুতোর মতো সরু হয়ে। আসল লজ্জাটা শেষের দিকে। মনে হয় শেষ হয়েছে, দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি, তবু ফোঁটা পড়তেই থাকে। লুঙ্গি ভিজে যায়, লোকে দেখতে পায়। রাতে তিনবার উঠতে হয়, আজানের মতো নিয়ম করে।

স্ত্রী ঘরের হিসাব রাখেন, দেখা গেল আমার যাওয়া-আসার হিসাবও তিনি রাখেন। এক হাটের দিন সকালে তিনি আমাকে ধরে নিয়ে গেলেন আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার সব কথা শুনলেন, ফোঁটা কখন বেশি পড়ে জানতে চাইলেন, আগের দেখার রিপোর্টগুলো দেখলেন। ফাইল বন্ধ করে তিনি এক টুকরো কাগজে একটা নাম লিখলেন। স্ত্রীকে বললেন, ওকে ইউরোলজিস্টের কাছে নিয়ে যান। প্রস্রাব শরীর থেকে যে পথ বেয়ে বেরিয়ে যায়, সেই পথগুলোর খেয়াল রাখেন এই ডাক্তার। পুরুষদের বেলায় একই কাজে জড়িত নিচের অংশগুলোও তাঁর দেখার বিষয়।

সেদিন সন্ধ্যায় স্ত্রী DoctorBD24 খুলে নাটোরে বসেন এমন ডাক্তারদের তালিকা বের করলেন। বাগানের কাজ শেষ করে যাওয়া যায়, এমন সময়ের একটা চেম্বার ঠিক হলো। দেখা করে এসেছি, এখন তাঁর লেখা মতো চলছে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ধারা থামে, আবার চলে, শেষে ফোঁটা পড়তেই থাকে

আগে বাগানের দিনের খোঁজখবর

ইউরোলজিস্ট আমার প্রস্রাব দিয়ে শুরু করলেন না, শুরু করলেন আমার কাজ দিয়ে। বাগানের সারিতে কতক্ষণ পায়ে দাঁড়িয়ে থাকি। গরমে কতটা পানি খাওয়া হয়। ফোঁটার ঝামেলা সকালে বেশি, নাকি সন্ধ্যায়। রাতে কতবার উঠি, সেই আসল হিসাবটা আমার স্ত্রীর কাছে। দুইবার জিজ্ঞেস করার আগেই তিনি হিসাবটা বলে দিলেন।

স্ত্রীর সুতা বাঁধা ফোল্ডার

স্ত্রী আমার আগের রিপোর্টগুলো সুতা বেঁধে ফোল্ডারে গুছিয়ে এনেছেন, বাড়ির সব কাগজ তিনি এভাবেই রাখেন। তিনি সুতা খুলে প্রতিটা পাতা ধীরে ধীরে পড়লেন। পড়ার সময় কোনো সিদ্ধান্তের কথা ওঠেনি। পড়া শেষ হলে সহজ কথায় বললেন, রিপোর্ট আর আমার কথা মিলিয়ে কী দাঁড়াচ্ছে।

তলপেটের ভরা ভাবটা হাতে দেখলেন

তারপর তিনি আমাকে শুয়ে পড়তে বললেন, তলপেটে আলতো করে চাপ দিয়ে দেখলেন। সকালে প্রস্রাব করার পরও ভেতরটা ভরা ভরা লাগে কিনা জানতে চাইলেন। খারাপ দিনগুলোতে একটু লাগে, বললাম। তিনি বললেন, তাঁর পরীক্ষা রিপোর্টের ইশারার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

প্যাডে লেখা তাঁর পরিকল্পনা

তাঁর নিজের একটা ওষুধ তাঁর প্যাডে লেখা হলো। সেই লাইনে যেভাবে লেখা, হুবহু সেভাবেই খেতে হবে। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে আবার এই ঘরেই বসতে হবে। সামনে যা আসতে পারে, তিনি গোপন করেননি। অপারেশন কোনোদিন লাগলে সেই খবর আমি তাঁর কাছ থেকেই প্রথম শুনব। আর কষ্টটা অন্য বিশেষজ্ঞের হলে তিনি আমাদের সেটাই জানিয়ে দেবেন।

পুরোনো প্রেসক্রিপশনে কলমের দাগ নেই

আমাদের নিজের ডাক্তারের আগের লেখা ওষুধগুলো যেভাবে লেখা ছিল, হুবহু সেভাবেই চলছে। সেই পাতায় তাঁর কলম ছোঁয়নি। তাঁর নিজের ওষুধ তাঁর নিজের কাগজে আলাদা লাইনে, দুই পাতা কেউ কারো থেকে কিছু নেয়নি।

ছায়ায় বসে নাম পড়ছিলাম

সহকারীর কাগজ তৈরি করতে কয়েক মিনিট লাগছিল, আমরা বাইরে ছায়ায় গিয়ে বসেছিলাম। স্ত্রী তাঁর ফোনটা দেখালেন, আমি নাটোরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা খুলে আমাদের ছোট শহরের নামগুলো গুনে দেখলাম। একটু পর ভেতর থেকে আমাদের কাগজের জন্য ডাক পড়ল।

আমার মনে জমে থাকা জিজ্ঞাসা

শেষ হয়েছে ভেবেও ফোঁটা পড়তে থাকে কেন?

তিনি বললেন, ধারা দুর্বলভাবে শেষ হলে ভেতরে কিছুটা থেকে যায়, সেটাই পরে ধীরে বেরিয়ে আসে। নতুন রিপোর্ট এলে তিনি এর চেয়ে বেশি বলতে পারবেন।

ধারাটা থেমে আবার শুরু হয় কেন?

তিনি বললেন, এই থামা-চলাটাই তাঁর বিচারের একটা অংশ। আন্দাজে না গিয়ে তিনি ধরনটা নিজের নোটে লিখে রাখলেন।

রাতে তিনবার ওঠাটা কি একই সমস্যার অংশ?

তাঁর ধারণা, সবই এক গল্পের অংশ। তবে নতুন রিপোর্ট পুরোনোগুলোর পাশে না বসা পর্যন্ত তিনি সবটা এক করে বাঁধবেন না।

কাপড় ভিজে যাওয়ার ব্যাপারটা কমবে তো?

ফোঁটা নিয়ে তিনি আমাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। নিয়ম মেনে চলতে বললেন, খারাপ দিনের হিসাব সত্যি করে রাখতে বললেন। পরের বসায় হিসাবটা মিলিয়ে দেখা যাবে।

আমার বয়সে অপারেশনের কথা ভাবা উচিত?

বয়সের কথা শুনে তিনি হাসলেন। শুধু বয়স দেখে এই সিদ্ধান্ত হয় না, তিনি বললেন। লাগলে কেন লাগবে, তা আমি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মতো ভাষায় শুনতে পাব।

পরের দেখার অপেক্ষা না করে কোন দিন স্ত্রী আমাকে সোজা হাসপাতালে নিয়ে যাবেন?

যে দিন প্রস্রাব একদমই আসবে না, তলপেট ফুলে উঠে কঠিন ব্যথা করবে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর উঠলে, সঙ্গে পিঠে বা একপাশে গভীর যন্ত্রণা থাকলে। প্রস্রাব রক্তে ঘন হয়ে এলে আর বের হওয়াটা সত্যিকারের কষ্ট হয়ে দাঁড়ালে। তলপেটে বা কুঁচকিতে প্রচণ্ড ব্যথা যেটা কিছুতেই শান্ত হবে না। এমন দিন এলে স্ত্রী আমাকে সোজা হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, পরের দেখার অপেক্ষা নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.