সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - লক্ষ্মীপুর

দাঁড়িয়ে থাকি, ধারা আসতে চায় না সহজে

একত্রিশ বছর আমি স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে কাটিয়েছি। এখন দাঁড়িয়ে থাকি নিজের বাড়ির বাথরুমে। প্রস্রাবের চাপ ঠিকই আসে, কিন্তু ধারা শুরু হতে অনেকক্ষণ লাগে। আমি ট্যাপের ওপরের নীল টালি গুনতে থাকি। নয়, দশ, এগারো। তারপর সরু একটা ধারা নামে, সুতোর মতো দুর্বল। মাঝে থেমে যায়, আবার আসে। শেষ হলেও মনে হয় অর্ধেক রয়ে গেল। এক ঘণ্টা না যেতেই তলপেট টেনে ধরে, আবার যেতে হয়।

আমি মুখে কিছু বলার আগেই ছেলের চোখে পড়ে গেল ব্যাপারটা। এক শুক্রবার বিকেলে উঠান থেকে তিনবার ভেতরে যেতে দেখে সে আমাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করল। পরদিন সকালে সে আমাকে নিয়ে গেল লক্ষ্মীপুরে আমাদের নিজেদের ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার ধীরে ধীরে আমার সব কথা শুনলেন। তারপর আগের দেখানোর সময়কার রিপোর্টগুলো একটা একটা করে দেখলেন। শেষে তিনি পরিষ্কার করে জানালেন, এই কষ্ট এবার ইউরোলজিস্টকে দেখানো দরকার। প্রস্রাব শরীর থেকে বেরিয়ে আসার পথগুলোর দেখভাল করেন তিনি। পুরুষদের বেলায় সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত নিচের অংশগুলোও তাঁর দেখার মধ্যে পড়ে।

সেদিন সন্ধ্যায় ছেলে তার ফোনে DoctorBD24 খুলল, আমি তার কাঁধের ওপর দিয়ে নামগুলো পড়লাম। দুজনে মিলে লক্ষ্মীপুরে বসেন এমন ডাক্তারদের তালিকা ধীরে ধীরে দেখলাম, যেভাবে একসময় ক্লাসের খাতা দেখতাম। একজনের চেম্বার বসে বিকেলের দিকে, ছেলের অফিসের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। সেখানেই দেখা হয়ে গেছে আমার।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

দাঁড়িয়ে থাকি, ধারা আসতে চায় না সহজে

রিপোর্টে হাত দেওয়ার আগে তিনি আমার দিনগুলোর কথা শুনলেন

ইউরোলজিস্ট কাগজপত্র দিয়ে শুরু করলেন না। শুরু করলেন আমার সকালগুলো দিয়ে। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় প্রথম ফোঁটা পড়ার আগে? ধারা মাঝখানে মরে যায় কিনা? রাতে মোট কতবার ওঠা লাগে? আমি শিক্ষক মানুষ, সাজিয়ে সাজিয়ে উত্তর দিলাম। পাশে বসে ছেলে আমার বাদ দেওয়া অংশগুলো যোগ করল। কোন কোন সন্ধ্যায় ঘণ্টায় তিনবার করে যাই, সেটা তারই মুখে শুনলাম প্রথম।

মতামত দেওয়ার আগে ফোল্ডারের প্রতিটা পাতা পড়া হলো

প্রশ্ন শেষ হলে তিনি ছেলের হাত থেকে ফোল্ডারটা নিলেন। আগের রিপোর্টগুলো তিনি ধীরে ধীরে পড়লেন, এক জায়গায় দুবার করে চোখ বুলালেন। পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো মত দেননি। আগে পড়ে শেষ করি, তারপর বলি, এমন ভাব ছিল তাঁর। এই ধৈর্য আমি আগে কোনো চেম্বারে দেখিনি।

তলপেটে হাতের চাপ, তারপর সহজ কথায় সবটা

এরপর তিনি হাতের তালু দিয়ে তলপেটে আলতো করে চাপ দিলেন। জিজ্ঞেস করলেন, বাড়িতে প্রস্রাব করে আসার পরও জায়গাটা এমন ভরা ভরা লাগে কিনা। বললাম, লাগে। তারপর তিনি তিনটা জিনিস পাশাপাশি রাখলেন। আমার বলা কথা, রিপোর্টে লেখা কথা, আর তাঁর নিজের পরীক্ষায় পাওয়া কথা। কঠিন শব্দ একটাও ছিল না। আমি সবটা বুঝতে পেরেছি।

আমার নিজের ডাক্তারের পাতায় তাঁর কলম ছোঁয়নি

এই কথাটা আমি সমবয়সী সবার কানে যাক বলে বলছি। আমার নিজের ডাক্তারের দেওয়া ওষুধগুলো তাঁর লেখা অনুযায়ী হুবহু চলছে। ইউরোলজিস্ট সেই পাতার একটা লাইনও কাটেননি, একটা শব্দও বদলাননি। তাঁর নিজের ওষুধ তাঁর নিজের আলাদা কাগজে লেখা, আর সেটা আমি লেখা অনুযায়ী ঠিক করে খাই। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে আবার তাঁর কাছে যাব। কোনোদিন অপারেশন লাগলে তিনি নিজে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলবেন। কষ্টটা অন্য বিশেষজ্ঞের বিষয় হলে সেটাও তিনি তেমনি খোলাখুলি বলবেন।

কাগজ তৈরি হওয়ার ফাঁকে ছেলের ফোনে চোখ বুলালাম

সহকারী ভেতরে আমার কাগজপত্র লিখছিলেন, আমরা বাইরে অপেক্ষা করছিলাম। সময় কাটাতে ছেলে তার ফোনটা আমার হাতে দিল। আমি এমনিতেই লক্ষ্মীপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা উল্টেপাল্টে দেখছিলাম। বাজারের চেনা দুই-একটা নাম চোখে পড়ল। এর মধ্যে কাগজ তৈরি হয়ে গেল, নাম ধরে ডাক পড়তেই আমরা উঠে পড়লাম।

যাওয়ার আগে আমার ছয়টা প্রশ্ন

ধারা শুরু হতে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কেন?

তিনি বললেন, এই অপেক্ষাটাই নিজে একটা ইঙ্গিত, বাকি সব কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। নতুন রিপোর্ট এলে আজকের আন্দাজের চেয়ে ভালো করে বিচার করা যাবে।

শেষ হওয়ার পরও তলপেট ভরা ভরা লাগে কেন?

তিনি বললেন, দুর্বল ধারার সঙ্গে এই অনুভূতিটা মিলে যায়। রিপোর্টগুলো একই দিকে ইশারা করে কিনা, নতুন রিপোর্ট এলে তা বোঝা যাবে।

রাতে ওঠা কমাতে সন্ধ্যায় পানি কম খাওয়া ঠিক হবে?

তিনি মানা করলেন। অভ্যাস যেমন আছে তেমনই রাখতে বললেন। শুধু তাঁর ওষুধটা লেখা অনুযায়ী খেতে হবে, যাতে পরের দেখায় আসল ছবিটা ধরা পড়ে।

অপারেশন পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা আছে?

তিনি বললেন, থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। রিপোর্ট হাতে না পেলে তিনি অনুমান করবেন না। লাগলে সেই খবর তাঁর মুখ থেকেই প্রথম শুনব।

নতুন রিপোর্টে দেখা গেলে কষ্টটা তাঁর বিষয়েরই নয়, তখন কী হবে?

তিনি বললেন, তিনি নিজে তা জানিয়ে ঠিক জায়গায় পাঠিয়ে দেবেন। যার কষ্ট তাঁর বিষয়ের নয়, তাকে তিনি নিজের চেম্বারে ধরে রাখবেন না।

কোন সকালে ছেলে আমাকে চেম্বারে না নিয়ে সোজা হাসপাতালে নেবে?

যে সকালে প্রস্রাব একদমই আসবে না, তলপেট ফুলে উঠে ব্যথা করবে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এলে, সঙ্গে পিঠে বা শরীরের পাশে ব্যথা থাকলে। প্রস্রাব ঘন রক্তে মেশানো হয়ে এলে আর বের করতে প্রাণান্ত কষ্ট হলে। তলপেটে বা কুঁচকিতে প্রচণ্ড ব্যথা হলে, যা কিছুতেই কমবে না। এমন সকাল এলে হাসপাতাল সবার আগে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.