সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - কুষ্টিয়া

ক্লাসের মাঝখানে কোনো সংকেত ছাড়াই চাপ আসে

আমার বয়স আটত্রিশ, কুষ্টিয়ার একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছোটদের পড়াই। আমার কষ্টটা দিনের সবচেয়ে খারাপ সময়গুলো বেছে নেয়। পাঠ চলছে, ত্রিশটা ছোট মুখ আমার দিকে তাকিয়ে, এমন সময় হঠাৎ প্রস্রাবের চাপ আসে, আগে থেকে কোনো টের পাই না। পাশের ক্লাসের শিক্ষিকাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে উঠোন পেরিয়ে যেতে যেতেই কয়েক ফোঁটা বেরিয়ে যায়। কোনো কোনো দিন প্রস্রাব বেরোনোর সময় আগাগোড়া জ্বালাও করে।

এক সন্ধ্যায় স্বামী পুরো ঘটনা শুনে আর দেরি মানতে চাইলেন না। পরদিন সকালে তিনি আমাকে আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি সব কথা শুনলেন, আগের দেখার সময়ের রিপোর্টগুলো খুঁটিয়ে দেখলেন। এরপর তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আমার পরের ঠিকানা কোথায়। প্রস্রাব শরীর থেকে যে পথে বাইরে আসে, সেই পথের যত্নের জন্য আছেন ইউরোলজিস্ট। তাঁর কাজের পুরোটাই এই দিকটা ঘিরে। আমার কষ্টটা, তিনি বললেন, সেই টেবিলেই যাওয়া উচিত।

সেদিন সন্ধ্যায় আমি খাতা দেখছিলাম, স্বামী ফোনে DoctorBD24 খুললেন। দুজনে কুষ্টিয়ার ডাক্তারদের তালিকা পড়ে স্কুল ছুটির পরের সময়ে বসেন এমন একটা চেম্বার ঠিক করলাম। দেখা করে এসেছি। ইউরোলজিস্টের সামনে বসে হঠাৎ চাপ আসা, ফোঁটা বেরিয়ে যাওয়া আর জ্বালার দিনগুলোর কথা সব বলেছি।

3 available specialists found

Dr. Md. Obaidur Rahman

Qualifications MBBS, BCS (Health), MS (Urology)
অবস্থান কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া

Dr. Mehedi Hasan Jony

Qualifications MBBS, BCS (Health), MS (Urology), PGT (Surgery)
অবস্থান Coart Para, কুষ্টিয়া

Dr. Khondaker Arafuzzaman Lipton

Qualifications MBBS, FCPS (Urology)
অবস্থান কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া

ক্লাসের মাঝখানে কোনো সংকেত ছাড়াই চাপ আসে

তিনি স্কুলের একটা দিনের ছবি চাইলেন আগে

ইউরোলজিস্ট রিপোর্ট দিয়ে শুরু করলেন না, আমার সময়সূচি দিয়ে শুরু করলেন। কোন ক্লাসটা সবচেয়ে লম্বা টানা চলে। আমার ঘর থেকে শৌচাগার কত দূরে। দিনে কয়বার চাপটা এভাবে হঠাৎ আসে। জ্বালাটা রোজই করে, নাকি কোনো কোনো দিন। আমি অর্ধেক পাঠ ফেলে উঠে যাওয়ার কথা বললাম, শাড়ি সামলে উঠোন পেরোনোর কথাও বললাম।

আমার সব কথা শেষ হওয়ার আগে ফাইলটা বন্ধই রইল

আমার বলা শেষ হওয়ার পর তিনি স্বামীর হাতে থাকা ফোল্ডারটা খুললেন। আগের রিপোর্টগুলো প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত ধীরে পড়লেন। তারপর তিনি তলপেটে হাতের তালু আলতো করে রেখে জিজ্ঞেস করলেন, সকালে প্রস্রাব করার পরও ভরা ভরা লাগে কিনা। খারাপ দিনগুলোতে একটু লাগে, বললাম। তিনি মাথা নেড়ে সহজ কথায় বুঝিয়ে দিলেন, আমার উত্তর আর রিপোর্ট পাশাপাশি রাখলে কী দাঁড়ায়।

তাঁর লেখা ওষুধ তাঁর নিজের পাতাতেই থাকে

তিনি নতুন একটা পাতায় নিজের একটা ওষুধ লিখে দিলেন, সেই লাইন অনুযায়ী আমি হুবহু খাই। আমার নিজের ডাক্তারের লেখা আগের মতোই অক্ষত আছে। সেখানকার একটা লাইনও তিনি কাটেননি, বদলাননি। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে আবার যেতে হবে, তখন তিনি নতুন পাতাগুলো পুরোনোগুলোর পাশে রেখে পড়বেন। কখনো অপারেশন লাগলে তিনি স্পষ্ট করে জানাবেন। সমস্যাটা অন্য ধরনের বিশেষজ্ঞের হলে তিনিই তা বলে দেবেন।

করিডোরে দাঁড়িয়ে স্বামীর ফোনে নাম পড়ছিলাম

তাঁর সহকারী আমার কাগজপত্র লিখছিলেন, আমরা করিডোরে অপেক্ষা করছিলাম। স্বামী তাঁর ফোনটা আমার হাতে দিলেন। সময় কাটাতে আমি কুষ্টিয়ার জেনারেল সার্জনদের তালিকা ঘেঁটে দেখছিলাম, আমাদের এলাকার দিকের নামগুলো পড়ছিলাম। নাম ডাক পড়তেই আমরা দুজনে ভেতরে ঢুকলাম।

দরজার কাছে দাঁড়িয়ে শেষে যা যা জিজ্ঞেস করলাম

চাপটা কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই আসে কেন?

তিনি বললেন, হঠাৎ আসাটাই তাঁর বিচারের একটা অংশ, জ্বালা আর ফোঁটা পড়ার পাশাপাশি রাখতে হবে। আন্দাজের বদলে রিপোর্ট যা বলবে, সেটাই তিনি আগে মানবেন।

শৌচাগারে পৌঁছানোর আগেই ফোঁটা বেরিয়ে যায় কেন?

তিনি বললেন, সতর্ক হওয়ার সময়টা এত কম যে স্কুলের উঠোন পেরোনো পর্যন্ত শরীর সব সময় ধরে রাখতে পারে না। কোন কোন দিন এমন হয়, গুনে রেখে পরের দেখায় জানাতে বললেন।

কোনো দিন জ্বালা করে, কোনো দিন করে না, এমন কেন?

তিনি সেটাও লিখে রাখলেন, কারণ আসা-যাওয়া করা ধরনও একটা ধরনই। ডেস্কের পাশের ক্যালেন্ডারে জ্বালার দিনগুলো দাগ দিয়ে রেখে পরের দেখায় তাঁকে দেখাতে বললেন।

স্কুলের পুরো দিনটা এই অবস্থায় সামলাব কী করে?

তিনি বললেন, পড়ানো চলবে, তবে চেয়ার আঁকড়ে বসে কষ্ট সহ্য করা ঠিক নয়। দুই মিনিটের জন্য ক্লাসটা অন্য শিক্ষিকার হাতে দিয়ে আসা যায়। বাচ্চারা দিনটা সামলে নেবে।

একদিন হয়তো অপারেশন করা লাগতে পারে?

তিনি সোজা উত্তর দিলেন, যেমনটা সব প্রশ্নেই দিয়েছিলেন। এমন অনেক কষ্ট অপারেশন ছাড়াই শান্ত হয়। আমারটা কখনো লাগলে কোনো কিছু এগোনোর আগে তিনি কারণটা পুরোপুরি বুঝিয়ে বলবেন।

কোন লক্ষণ পেলে পরের দেখার অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যাব?

সারাদিন চেষ্টা করেও প্রস্রাব না এলে আর তলপেট ফুলে ব্যথা করতে থাকলে সেদিনই যেতে হবে। কাঁপুনিসহ জ্বর, তার সঙ্গে পিঠে বা পাশে গভীর ব্যথা থাকলে একই সিদ্ধান্ত। প্রস্রাব রক্তে ঘন হয়ে ঝরলে আর বের করা যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়ালে বসে থাকা যাবে না। তলপেটে কিংবা কুঁচকিতে এমন ব্যথা যেটা কোনোভাবেই নরম হচ্ছে না, সেটা নিয়েও ঘরে থাকা উচিত নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.