সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - জামালপুর
কোনো সকালে প্রস্রাব আসতেই চায় না
আমার বয়স আটষট্টি। জামালপুরের বাইরে একই নিচু জমিতে চল্লিশ বছর চাষ করেছি, তারপর ছেলেরা আমার হাত থেকে লাঙল নিয়েছে। আজকাল শরীরটা নিজের নিয়মে চলে। কোনো কোনো সকালে বাড়ির পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, প্রস্রাব একদমই আসে না। হাঁটু কাঁপা পর্যন্ত জোর দিই। তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা তলপেটের নিচে একটা টানা ব্যথা থেকে যায়, মনে হয় ভেতর থেকে কিছু টেনে ধরেছে।
এক সকালে নাতি আমাকে বেড়া ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ফেলল। ডাক্তার না দেখিয়ে সে কলেজে যাবে না, জেদ ধরল। সে আমাকে শহরে আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার পুরো ব্যাপারটা মন দিয়ে শুনলেন, আগের দেখার রিপোর্টগুলো উল্টে দেখলেন। তারপর বললেন, একজন ইউরোলজিস্টের পরীক্ষা করা দরকার। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, শরীর থেকে প্রস্রাব যাওয়ার পথগুলোর দেখভাল করেন এই ডাক্তার। পুরুষদের ক্ষেত্রে একই কাজে জড়িত নিচের অংশগুলোও তাঁর দেখার বিষয়।
ছেলেটা ফোন চালাতে পাকা। সেদিন সন্ধ্যায় সে বারান্দার সিঁড়িতে বসে DoctorBD24 খুলল, বউমা চা এনে দিল পাশে। জামালপুরের আশেপাশে বসেন এমন ডাক্তারদের তালিকা থেকে সে একটা একটা করে নাম পড়ে শোনাল। যার নামটা আমাদের দুজনেরই পছন্দ হলো, তাঁর কাছেই গেলাম পরের সপ্তাহে। বৃদ্ধ মানুষের কথা বলতে যে সময় লাগে, তিনি সেই সময়টা দিয়েছিলেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
কোনো সকালে প্রস্রাব আসতেই চায় না
ব্যথার আগে তিনি জীবনের কথা শুনলেন
তলপেটের কথা জিজ্ঞেস করার আগে তিনি আমার জীবনের কথা শুনতে চাইলেন। চল্লিশ বছর লাঙলের পেছনে কাটানো শরীরের নিজস্ব অভ্যাস থাকে, তিনি বললেন। তারপর এল সকালের প্রসঙ্গ। কতদিন প্রস্রাব আসে না, কতক্ষণ জোর দিতে হয়, ব্যথাটা দুপুরের আগেই ছাড়ে নাকি থেকেই যায়। পাশে বসে নাতি আমাকে মনে করিয়ে দিল, গত রোববারের খারাপ সকালটা আমি এড়িয়ে যাচ্ছিলাম।
দড়ি বাঁধা পুরোনো বান্ডিল, পাতায় পাতায় পড়া
নাতি আমার আগের রিপোর্টগুলো দড়ি দিয়ে বেঁধে এনেছিল, আমরা বীজের প্যাকেট যেভাবে বাঁধি। বিশেষজ্ঞ বান্ডিলটা খুলে প্রতিটা পাতা ধীরে ধীরে পড়লেন। পড়া শেষ হলে তিনি হাত সমান করে তলপেটে আলতো চাপ দিলেন, টানা ব্যথাটা ঠিক কোথায় থাকে জানতে চাইলেন। আমি নিজের হাত দিয়ে জায়গাটা দেখিয়ে দিলাম।
বড় বড় অক্ষরে লেখা সোজা পরিকল্পনা
তিনি পরিষ্কার একটা পাতায় বড় অক্ষরে পরিকল্পনা লিখে দিলেন। নিজের একটা ওষুধ, তাঁর লেখা অনুযায়ী হুবহু খেতে হবে। আমাদের নিজের ডাক্তারের ওষুধ নিয়ে তিনি কোনো কাটাকুটি করেননি, প্রশ্নও তোলেননি, সেগুলো যেমন লেখা তেমনই চলবে। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে নাতি আমাকে আবার নিয়ে আসবে। শেষ পর্যন্ত অপারেশন দাঁড়ালে সেই খবর তাঁর মুখ থেকেই প্রথম শুনব। আর সমস্যাটা অন্য বিশেষজ্ঞের হাতে যাওয়ার হলে তিনি লুকিয়ে রাখবেন না।
ফেরার পথে রিকশায় বসে নাতির ফোন
সহকারী ভেতরে আমার কাগজপত্র সাজাচ্ছিলেন, আমরা গাছের নিচে দাঁড় করানো রিকশায় বসে ছিলাম। নাতি তাঁর ফোন বের করে দেখাল, আমি নিজে নিজেই জামালপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা উল্টে দেখতে লাগলাম। আমাদের ছোট্ট শহরে এতগুলো নাম দেখে মনে মনে গর্ব হলো। সে বলল, বাড়ি গিয়ে চশমা পরে আবার পড়ে শোনাবে।
লজ্জা না করে বুড়ো মানুষের প্রশ্নগুলো
সন্ধ্যা সহজ হলেও সকাল এত কঠিন কেন?
তিনি বললেন, রাতভর শরীরের স্থির থাকাটাই এর একটা অংশ, ধরনটা তিনি লিখে রেখেছেন। বাকিটা নতুন রিপোর্ট তাঁকে বলে দেবে।
প্রতিদিন সকালে এভাবে জোর দেওয়া কি ঠিক?
তিনি বললেন, শরীরকে আটকে থাকা নালার মতো জোর করা যাবে না। বসে থেকে অপেক্ষা করতে বললেন, ধীরে শ্বাস নিতে বললেন। এর বেশি তিনি রিপোর্ট তৈরি হলে বিচার করবেন।
তলপেটের এই টানা ব্যথা নিয়ে তিনি কী বুঝলেন?
তিনি ব্যথাটাকে আটকে থাকা সকালগুলোর একই গল্পের ভেতরে রাখলেন, আলাদা করে দেখলেন না। পুরোনো আর নতুন রিপোর্ট পাশাপাশি বসলে তিনি আরও বলতে পারবেন।
আমাদের ডাক্তারের পুরোনো ওষুধগুলো চলতে থাকবে?
তিনি বললেন, প্রতিটাই চলবে, যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই। তাঁর ওষুধ শুধু তাঁর পাতাতেই থাকবে, অন্য ডাক্তারের লেখায় তাঁর হাতের দাগ পড়েনি।
আমার বয়সে শেষে গিয়ে অপারেশন আশা করা উচিত?
তিনি হেসে বললেন, শুধু বয়স দিয়ে এখানে কিছু ঠিক হয় না। লাগলে কেন লাগবে, সেটা আমি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মতো ভাষায় শুনতে পাব।
কোন সকালে নাতি আমাকে অপেক্ষা না করে হাসপাতালে নেবে?
যে সকালে কিছুতেই প্রস্রাব আসবে না, তলপেট ফুলে উঠে কঠিন ব্যথা করবে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর উঠলে, সঙ্গে পিঠে কিংবা একপাশে গভীর যন্ত্রণা থাকলে। প্রস্রাব রক্তে ঘন হয়ে বেরিয়ে এলে আর বের হওয়াটা সত্যিকারের কষ্ট হয়ে দাঁড়ালে। তলপেটে বা কুঁচকিতে প্রচণ্ড ব্যথা হলে, যা সকাল পেরিয়েও শান্ত হবে না। এমন সকাল এলে নাতিকে আমাকে সোজা হাসপাতালে নিতে হবে, পরের দেখার অপেক্ষা নয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.