সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - হবিগঞ্জ
কোনো কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাব ঘোলা দেখায়
আমার বয়স একচল্লিশ, হবিগঞ্জের এক চা-বাগানে পাতা তোলার কাজ করি ছোটবেলা থেকে। সারাদিন ঝোপের সারির ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা, মাথার ওপর রোদ, পানি খাওয়ার ফাঁক খুব কম। ইদানীং সন্ধ্যা নামলেই শরীরটা ভালো লাগে না। কাজ শেষে প্রস্রাব করতে গেলে জ্বালা করে খুব। রাতে দুবার উঠতে হয় প্রতিদিনই। আর কোনো কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাবের রঙটা ঘোলা আসে, গ্লাসে রাখা পুকুরের পানির মতো।
এক সন্ধ্যায় বাসনের কাছে আমার মুখের ভঙ্গি দেখে স্ত্রী ঠিক করলেন, আর দেরি নয়। পরদিন সকালে তিনি আমাকে বাজারের আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। ডাক্তার জ্বালার কথা, রাতের ওঠার কথা, ঘোলা রঙের কথা সব শুনলেন। তারপর বললেন, এই দেখাশোনা ইউরোলজিস্টের কাজ। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, প্রস্রাব শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথগুলোর খেয়াল রাখেন এই ডাক্তার। পুরুষের শরীরে সেই পথের সঙ্গে জড়িত নিচের অংশগুলোও তাঁর দায়িত্বে আসে।
আমাদের বাড়িতে ফোনটা স্ত্রীর কাছেই থাকে। সেদিন রাতে আমি ডাল ছাড়াচ্ছিলাম, তিনি DoctorBD24 খুলে নিজেই খুঁজতে বসলেন। হবিগঞ্জে যেসব ডাক্তার চেম্বার করেন তাঁদের তালিকা ধরে তিনি প্রতিটা নাম জোরে জোরে পড়ে শোনালেন, আমার মতামত নিলেন। শেষে দুজনে মিলে একজনের নাম ঠিক করলাম। দেখা করে আসা হয়ে গেছে আমার। তিনি আমার প্রতিটা কথা শেষ পর্যন্ত শুনেছিলেন।
1 available specialists found
কোনো কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাব ঘোলা দেখায়
শরীরের আগে বাগানের দিনের কথা
তাঁর প্রথম প্রশ্নগুলো ব্যথা নিয়ে ছিল না। তিনি আমার বাগানের একটা পুরো দিনের ছবি চাইলেন। সারির ভেতর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি, মাঝখানে কতটা পানি খেতে পারি, সন্ধ্যায় ফিরতে কত দেরি হয়। জ্বালাটা কখন শুরু হয়, দুপুরে নাকি কাজ শেষের দিকে, তাও জানতে চাইলেন। রাতে কতবার উঠতে হয়, এই উত্তরটা আমার স্ত্রী দিলেন। ঘুমের ভেতরের হিসাব তাঁর কাছেই পরিষ্কার।
স্ত্রীর প্লাস্টিকের ফোল্ডারে গোছানো কাগজ
স্ত্রী আমার আগের রিপোর্টগুলো প্লাস্টিকের ফোল্ডারে গুছিয়ে এনেছিলেন, বাড়ির সব কাগজ তিনি এভাবেই রাখেন। পরের ধাপ নিয়ে কিছু বলার আগে তিনি রিপোর্টগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়ে নিলেন। তারপর আমাকে শুয়ে পড়তে বললেন। দুই হাত দিয়ে তলপেটটা আলতো করে চেপে দেখলেন, সকালে প্রস্রাব করার পরও ভরা ভরা লাগে কিনা জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম, একটু লাগে বটে।
তাঁর পাতায় তাঁর নিজের হাতের লাইন
পরিকল্পনাটা এল তাঁর নিজের পাতায়। একটা ওষুধ, সেই লাইনে যেভাবে লেখা আছে ঠিক সেভাবে খেতে হবে। আমাদের নিজের ডাক্তারের আগের ওষুধগুলোতে তাঁর কলম ছোঁয়নি, সেগুলো আগের মতোই চলবে। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে আবার এই ঘরে আসতে বললেন। অপারেশন কোনোদিন লাগলে তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলবেন। আর কষ্টটা অন্য বিশেষজ্ঞের বিষয় হলে তিনি সেটাই জানিয়ে দেবেন।
গলির ওপারের চায়ের দোকানে বসে
সহকারীর কাগজ তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগছিল, আমরা গলির ওপারের চায়ের দোকানে গিয়ে বসেছিলাম। স্ত্রী তাঁর ফোনটা বের করে আমাকে দেখালেন, আমি অমনি হবিগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের পাতা ঘাঁটতে লাগলাম। বাজারের চেনা মুখের মতো কয়েকটা নাম চোখে পড়ল। স্ত্রী হেসে বললেন, অসুস্থ মানুষ ডাক্তারের তালিকা পড়ে পরীক্ষার ফলের মতো করে। তখনই ভেতর থেকে আমাদের ডাক পড়ল।
বাস ধরার আগে যা যা জিজ্ঞেস করে নিলাম
কাজ শেষ হলেই জ্বালাটা বাড়ে কেন?
তিনি বললেন, সারাদিনের ধরনটাই তাঁর কাছে জরুরি, তিনি সেটা লিখে রেখেছেন। রিপোর্ট হাতে এলে বিচার করা যাবে, আজ বসে আন্দাজ তিনি করবেন না।
কোনো কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাব ঘোলা দেখায় কেন?
শুধু রঙ দেখে তিনি কারণ বলেননি। কয়েক সপ্তাহ পরের নতুন রিপোর্ট আমাদের দুজনের চেয়ে ভালো বলতে পারবে, তিনি জানালেন।
রাতে দুবার ওঠা কি একদম বন্ধ হবে?
তিনি আমার ঘুম নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিলেন না। পরিকল্পনা মেনে চলতে বললেন, ওঠার হিসাব সত্যি সত্যি রাখতে বললেন। পরের দেখায় বোঝা যাবে কতটা বদলাল।
আগের ওষুধগুলো নতুনটার পাশাপাশি চলবে তো?
তিনি বললেন, চলবে, লেখা অনুযায়ী এক অক্ষরও বদল হবে না। তাঁর ওষুধটা তাঁর পাতায় আলাদা থাকবে, দুই পাতা পরস্পরের গায়ে উঠবে না।
এই পরিকল্পনা চলার সময় বাগানের কাজ করা যাবে?
তিনি আমাকে সারি থেকে তুলে নেননি। কাজ চালিয়ে যেতে বললেন, তবে ঝোপ দূরে বলে বিকেলজুড়ে চেপে রাখা চলবে না।
কোন রাত দেখলে আমাদের হাসপাতালে ছুটতে হবে?
যে রাতে প্রস্রাব একেবারেই আসবে না, তলপেট ফুলে উঠে ব্যথায় টানটান হয়ে থাকবে। কাঁপুনিসহ জ্বর এলে, সঙ্গে পিঠে বা শরীরের একপাশে গভীর ব্যথা থাকলে। প্রস্রাব রক্তে ঘন হয়ে বেরিয়ে এলে আর বের করা কঠিন লড়াই হয়ে দাঁড়ালে। তলপেটের নিচে কিংবা কুঁচকিতে এমন প্রচণ্ড ব্যথা হলে, যা কিছুতেই শান্ত হবে না। এমন রাত এলে আমরা ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করব না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.