সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - ফেনী
হঠাৎ চাপটা এলে দোকান ফেলে ছুটতে হয়
আমার বয়স তেত্রিশ, ফেনীতে ছোট একটা মোবাইল ফোনের দোকান চালাই। সারা দিন কাউন্টারের পেছনেই কাটে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্রাবের চাপটা আসে একেবারে হঠাৎ, আগাম কোনো সংকেত প্রায় পাই না। এক মুহূর্তে ক্রেতাকে ফোন দেখাচ্ছি, পরের মুহূর্তে দরজার দিকে তাকিয়ে মিনিট গুনছি। শেষ পর্যন্ত যখন প্রস্রাব হয়, আগাগোড়া জ্বালা করে। এক সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় চাপ এসেছিল, কোনোমতে নিজের দরজায় পৌঁছেছিলাম।
সেই রাতে স্ত্রী আমার নড়াচড়া টের পেয়ে পুরো কথাটা বের করে নিলেন। পরের দিন স্ত্রী আমাকে নিয়ে গেলেন আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার কথা শুনলেন, জ্বালাটা কতক্ষণ থাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমার জমিয়ে রাখা রিপোর্টগুলো দেখলেন। তারপর বললেন, ইউরোলজিস্ট দেখানো দরকার। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, প্রস্রাব শরীর থেকে যে পথ বেয়ে বেরিয়ে যায়, সেই পথের দেখভাল করেন এই ডাক্তার। পুরুষদের শরীরে সেই পথের পাশ ঘেঁষে আরও কিছু নিচের অংশ থাকে, একই কাজের সঙ্গে জড়ানো।
সেদিন সন্ধ্যায় আমি আর স্ত্রী তাঁর ফোনে DoctorBD24-এ খুঁজলাম। ফেনীর ডাক্তারদের তালিকা খুলে দুজনে পাশাপাশি বসে নামগুলো পড়লাম। একটা চেম্বার বসে দোকান বন্ধের পর, দোকানদারের পক্ষে সেটাই যাওয়ার মতো সময়। পরের সপ্তাহে ইউরোলজিস্টের সামনে বসে প্রথমে জ্বালার কথা বললাম, তারপর কাউন্টারের পেছনে মিনিটগুলো কেমন লম্বা লাগে, সেটা বললাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
হঠাৎ চাপটা এলে দোকান ফেলে ছুটতে হয়
সিরিয়াল আসার আগের মিনিটগুলো বেঞ্চে বসে
আমরা একটু আগেই পৌঁছেছিলাম, সিরিয়াল তখনো দূরে। অপেক্ষার সময়টা কাটাতে স্ত্রী তাঁর ফোনটা আমার হাতে দিলেন। আমি DoctorBD24 খুলে ফেনীর জেনারেল সার্জনদের তালিকা আনমনে উল্টেপাল্টে দেখছিলাম, দুই-চারটা চেম্বারের বিবরণ পড়লাম। নতুন কাউকে খোঁজার মন ছিল না। নাম ডাক পড়তেই ফোন ফিরিয়ে দিয়ে ফাইল হাতে ভেতরে গেলাম।
কাউন্টারের পেছনের একটা পুরো দিনের কথা তিনি শুনতে চাইলেন
তিনি ফাইল দিয়ে শুরু করলেন না। শুরু করলেন আমার দোকান দিয়ে। চাপ আসার আগে কতটুকু সময় পাই? দিনে কতবার পেছনের দরজা দিয়ে বেরোতে হয়? জ্বালাটা প্রস্রাবের পুরো সময়টা থাকে, নাকি শুধু শুরুর দিকে? রাতে ঘুম টানা হয়, নাকি চাপ টেনে তোলে? পাশে বসে স্ত্রী আমার কমিয়ে বলা কথাগুলো পুরো করে দিলেন। রাস্তার সেই সন্ধ্যার কথাটাও বলে দিলেন, যেটা আমি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলাম।
পরামর্শের আগে তিনি আমার পুরোনো রিপোর্টগুলো পুরো পড়লেন
এরপর তিনি আমার আনা রিপোর্টগুলো খুলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়লেন। পড়ার মাঝে কোনো কথা বলেননি। তারপর তলপেটে আলতো হাত রেখে জিজ্ঞেস করলেন, আমি যে ভারী ভাবটার কথা বলেছি, সেটা এখন আছে কিনা। পড়া শেষে তিনি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বললেন, রিপোর্ট আর তাঁর পরীক্ষা পাশাপাশি রাখলে কী বোঝা যাচ্ছে। দোকানদারের বোঝার মতো করেই বললেন।
দোকানের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো ব্যবস্থা
তাঁর নিজের ওষুধ গেল তাঁর নিজের নতুন পাতায়, পরিষ্কার একটা লাইনে। সেই লাইনে যেভাবে লেখা, আমি ঠিক সেভাবেই খাই। আমার নিজের ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনটা ফাইলের ভেতর আগের জায়গাতেই থেকে গেল। সেটা তিনি বেরই করেননি, কোনো শব্দে কলমের আঁচড়ও পড়েনি। দুটো পাতা আলাদা আলাদা থাকবে, তিনি সেভাবেই চান। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করিয়ে সেগুলো নিয়ে আবার তাঁর সামনে বসতে হবে। তিনি খোলাখুলি বললেন, কখনো অপারেশনই উত্তর হলে তিনি সরাসরি জানাবেন। আর সমস্যাটা অন্য বিশেষজ্ঞের হলে তিনি নিজেই সেদিকে পাঠিয়ে দেবেন।
একটা একটা করে আমার প্রশ্নগুলো
চাপটা প্রায় কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই আসে কেন?
তিনি বললেন, এই হঠাৎ আসাটাই তাঁর বিচারের একটা অংশ, জ্বালাটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। চেয়ারে বসে আন্দাজ করার চেয়ে রিপোর্টগুলো তাঁকে বেশি বলবে।
প্রস্রাব বেরোনোর পুরো সময়টা জ্বালা করে কেন?
সময়টা তিনি নিজের নোটে লিখে রাখলেন, কারণ কখন কী হয়, সেটাও কাহিনির একটা অংশ জানিয়ে দেয়। জ্বালাটা এই সপ্তাহগুলোতে কমে কিনা সেদিকে নজর রাখতে বললেন, পরের দেখায় খুলে জানাতে হবে।
এই অবস্থায় দোকানের পুরো দিনটা চালাব কী করে?
তিনি বললেন, দোকান চলবে আগের মতোই। তবে কাউন্টারের পেছনে কষ্ট করে চেপে বসে থাকা ঠিক নয়। রাস্তার সেই সন্ধ্যার মতো অবস্থার চেয়ে পেছনের দরজা দিয়ে দুই মিনিটের জন্য বেরিয়ে যাওয়া ভালো।
নতুন রিপোর্ট আজ না করে কয়েক সপ্তাহ পরে কেন?
তিনি বললেন, আজ করালে রিপোর্ট ফাইলের পুরোনোগুলোর মতোই দেখাবে প্রায়। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বদল থাকলে তা ধরা পড়ার মতো হয়।
আমার বেলায় কোনোদিন অপারেশনের প্রশ্ন আসতে পারে?
তিনি সরাসরি উত্তর দিলেন। এমন কষ্টের কোনোটা ওষুধ আর সময়ে সামলে ওঠে, কোনোটায় শেষে অপারেশন লাগে। রিপোর্ট দেখে তিনি বিচার করবেন, সিদ্ধান্তের আগে কারণটা আমাকে বুঝিয়ে বলবেন।
এক সন্ধ্যায় অবস্থা গুরুতর হলে সেদিনই হাসপাতালে যাওয়ার লক্ষণ কোনগুলো?
কোনো সন্ধ্যায় প্রস্রাব একদম আসতে না চাইলে আর তলপেট ফুলে টানটান ব্যথা করলে দেরি করা যাবে না। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসে পিঠে বা পাশে গভীর ব্যথা বসলে সেটাও একই নির্দেশ। প্রস্রাব রক্তে ঘন হয়ে এলে আর জোর দিয়ে বের করতে হলে অপেক্ষা চলবে না। তলপেটে বা কুঁচকিতে গভীর ব্যথা যেটা কিছুতেই থামছে না, সেটা নিয়েও ঘরে থাকা যাবে না। স্ত্রীকে বলা আছে, এমন সন্ধ্যা এলে আমাকে সোজা হাসপাতালে নিয়ে যেতে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.