সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - কুমিল্লা
কাশি দিলেই কয়েক ফোঁটা বেরিয়ে যায়
আমার বয়স বাহান্ন। কুমিল্লায় আমাদের বাড়ির সব কাজ প্রায় আমার হাতেই ঘোরে। রান্না, কাপড় ধোয়া, টিউবওয়েল থেকে পানি আনা, নাতি-নাতনির পেছনে ছোটা। কয়েক মাস ধরে প্রস্রাব করতে গেলেই জ্বালা করে। জ্বালাটা শেষ হলেই যায় না। কিছুক্ষণ থেকে যায়। এক ঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার যেতে হয়। যাই, কিন্তু বের হয় খুব অল্প। তারপর আবার একই অবস্থা।
আমাকে বেশি কষ্ট দেয় ফোঁটা পড়ার ব্যাপারটা। হঠাৎ কাশি এলে ধরে রাখার আগেই কয়েক ফোঁটা বেরিয়ে যায়। ভারী হাঁড়ি বা পানির বালতি তুললেও এমন হয়। আঁচলে একটা বাড়তি কাপড় ভাঁজ করে রাখতে শুরু করলাম। একদিন সকালে মেয়ে দেখল, আমি দুইবার কাপড় বদলেছি। সে আর বিষয়টা ছাড়ল না।
মেয়ে আমাকে আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। তিনি পুরো কথা শুনলেন। আগের দেখানোর সময়কার রিপোর্টগুলোও দেখলেন। এরপর তিনি বললেন, ইউরোলজিস্টের কাছে যাওয়াটাই এখন দরকার। তিনি বোঝালেন, প্রস্রাব শরীর থেকে যে পথে বেরিয়ে যায়, সেই পথগুলোর দেখভাল করেন এই ডাক্তার। সেদিন সন্ধ্যায় মেয়ে ফোনে DoctorBD24 খুলল। আমরা দুজনে কুমিল্লার DoctorBD24 তালিকা খুলে নাম আর চেম্বারের সময় মিলিয়ে দেখলাম। একটা ঠিক করে আমি তাঁর সামনে বসেও এসেছি।
8 available specialists found
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নূর মোহাম্মদ শরীফ আস শামস
ডাঃ মোহাম্মদ শাহ কামাল
ডাঃ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান
Dr. Md. Sarwar Hossain Khan (Shuvo)
Dr. Sharif Md. Shahadat Ali Khan
ডা. মো. আব্দুস সালাম
কাশি দিলেই কয়েক ফোঁটা বেরিয়ে যায়
প্রশ্ন করার আগে তিনি আমার কথা শেষ করতে দিলেন
ইউরোলজিস্ট প্রথমেই ফাইল খুললেন না। তিনি বললেন, শুরু থেকে বলুন। জ্বালাটা কবে থেকে। দিনে কতবার যেতে হয়। ফোঁটা কি শুধু কাশির সময় পড়ে, নাকি অন্য সময়ও। মেয়ে পাশ থেকে যোগ করল, বাড়িতে সে যা দেখেছে। বদলানো কাপড়, কাজের ফাঁকে ফাঁকে দৌড়ানো। বাড়িতে মেহমান থাকলে প্রস্রাব চেপে রাখি কিনা, তাও জানতে চাইলেন। বললাম, রাখি।
তারপর টেবিলে এলো পুরোনো রিপোর্টের ফাইল
আমার সব কথা শেষ হওয়ার পর তিনি আমার আনা রিপোর্টগুলোর দিকে হাত বাড়ালেন। একটার পর একটা ধীরে ধীরে পড়লেন। পুরোনোগুলো নতুনটার পাশে সাজিয়ে রাখলেন। পড়া চলার সময় কোনো সিদ্ধান্তের কথা ওঠেনি। পড়া শেষে তিনি সহজ ভাষায় বললেন, রিপোর্ট আর আমার কথা মিলিয়ে কী বোঝা যাচ্ছে। কঠিন শব্দ একটাও ছিল না। আমি সবটা বুঝতে পেরেছি।
তলপেটে হালকা চাপ দিয়ে দেখলেন
তিনি হাতের তালু দিয়ে তলপেটে আলতো করে চাপ দিলেন। কোথাও ভারী বা টনটনে লাগে কিনা জিজ্ঞেস করলেন। নিচের দিকটা ভারী লাগে, বললাম। যেদিন বেশি বেশি যেতে হয়, সেদিন এমনটাই লাগে। তিনি বললেন, তাঁর পরীক্ষা আর রিপোর্ট একই দিকে ইশারা করছে। তারপর বললেন, প্রথমে তিনি কী করতে চান।
বাড়িতে চলার মতো করে সাজানো ব্যবস্থা
তিনি নিজের একটা ওষুধ লিখে দিলেন। সেটা আমি ঠিক যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই খাই। বাড়াবাড়ি করি না, বাদও দিই না। আমার নিজের ডাক্তারের ওষুধ যেমন ছিল তেমনই আছে। সেই কাগজের একটা লাইনও তিনি কাটেননি। তাঁর ওষুধ তাঁর নিজের কাগজে আলাদা করে লেখা। কয়েক সপ্তাহ পর নতুন রিপোর্ট করতে হবে। সেগুলো নিয়ে আবার তাঁর কাছে যাব। অপারেশন কোনোদিন লাগলে তিনি নিজে আমাকে জানাবেন। কষ্টটা অন্য বিশেষজ্ঞের বিষয় হলে সেটাও তিনি স্পষ্ট করে বলবেন।
সহকারী কাগজ গুছিয়ে দেওয়ার ফাঁকে
দেখানো শেষে সহকারী কাগজপত্র লিখে দেওয়ার সময় আমরা বাইরে অপেক্ষা করছিলাম। মেয়ে ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে আমাকে কুমিল্লার মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের তালিকা দেখাল। আমি তার সঙ্গে কয়েকটা নাম দেখে নিলাম। আমার নিজের ডাক্তারের চেম্বার শহরের অন্য প্রান্তে, বাড়ির কাছাকাছি কারা বসেন জানা থাকলে সুবিধা হয়। এর মধ্যে কাগজ তৈরি হয়ে গেল, আমরা বেরিয়ে এলাম।
বেরোনোর আগে মনে জমে থাকা প্রশ্নগুলো
যাওয়ার একটু পরেই আবার যেতে ইচ্ছে করে কেন?
তিনি বললেন, অল্প অল্প বের হওয়া আর তাড়াতাড়ি আবার বেগ আসা একই ছবির অংশ। নতুন রিপোর্ট হাতে এলে আরও বোঝা যাবে। বাকিটা তিনি তখনই বিচার করবেন।
জ্বালা আর ফোঁটা পড়া, একটাই সমস্যা নাকি দুইটা?
তিনি বললেন, দুটো একই গল্পের অংশ হতে পারে। তবে রিপোর্ট না দেখে তিনি দুটোকে এক করে বলবেন না। কোন দিন ফোঁটা পড়া বেশি হয়, খেয়াল করে জানাতে বললেন।
নিজের ডাক্তারের রোজকার ওষুধে কি কোনো বদল হলো?
এক লাইনও না। ওষুধগুলো আমার ডাক্তার যেভাবে লিখেছেন হুবহু সেভাবেই চলছে। তাঁর নিজের ওষুধটা নিজের কাগজে আলাদা লেখা।
রিপোর্ট আজই না করে কয়েক সপ্তাহ পর কেন?
তিনি বললেন, আজ করলে রিপোর্ট প্রায় আমার আনা রিপোর্টগুলোর মতোই আসবে। কয়েক সপ্তাহের ফাঁকে বদল থাকলে সেটা পড়ার মতো হয়।
এর মধ্যে একদিন অপারেশন এসে পড়তে পারে?
তিনি সরাসরি বললেন। কোনো কষ্ট অপারেশন ছাড়াই সামলে যায়, কোনোটা যায় না। আমারটা কোন দিকে যাবে, লাগলে তিনি আগে কারণটা আমার বোঝার ভাষায় বলবেন। তারপর সিদ্ধান্ত।
কোন লক্ষণ দেখলে সেদিনই হাসপাতালে ছুটতে হবে?
প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে গেলে, তলপেট ফুলে উঠে ব্যথা করলে, দেরি করা যাবে না। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, সঙ্গে পিঠে বা পাশে ব্যথা বসলে, একই কথা। প্রস্রাব ঘন রক্তে মেশানো হয়ে এলে আর বের করতে কষ্ট হলে সেদিনই যেতে হবে। তলপেটে বা কুঁচকিতে প্রচণ্ড ব্যথা কমার বদলে বাড়তে থাকলেও বাড়িতে বসে থাকা চলবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.