সেরা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ - বাগেরহাট
রাতে বারবার উঠতে হয়, ঘুমটা ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে
আমার বয়স বাষট্টি। ত্রিশ বছর ধরে বাগেরহাটের এক মাদ্রাসায় ছেলেদের পড়িয়েছি। অবসরের পর শান্তিতে ঘুমানোর কথা ছিল। কিন্তু আমার রাত এখন টুকরো টুকরো। প্রস্রাবের জন্য রাতে চারবার উঠতে হয়, কোনো কোনো রাতে পাঁচবারও। তারপরও ধারাটা ঠিকমতো আসে না। শুরু হয়, থেমে যায়, একটু থেমে আবার শুরু হয়। সকাল হলে তলপেটটা ভারী আর ভরা ভরা লাগে। মনে হয় রাতের কাজটা শেষই হয়নি।
ছেলে কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব দেখছিল। একদিন সে আমাকে আমাদের নিজের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার পুরো কথা শুনলেন, আগের রিপোর্টগুলো দেখলেন। তারপর বললেন, এটা অন্য ধরনের ডাক্তারের কাজ। তিনি আমাকে একজন ইউরোলজিস্টের কাছে পাঠালেন। এই ডাক্তার শরীর থেকে প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার নালীগুলোর দেখভাল করেন। পুরুষদের বেলায় প্রস্রাবের সঙ্গে জড়িত নিচের অংশগুলোও তাঁর দেখার মধ্যে পড়ে, ডাক্তার বুঝিয়ে বললেন।
সন্ধ্যার খাবারের পর ছেলে ফোন নিয়ে এসে আমার পাশে বসল। DoctorBD24-তে আমরা নিজেদের শহরের ডাক্তারদের নাম দেখতে লাগলাম। বাগেরহাটের ডাক্তারদের তালিকা খুলে ছেলে নাম আর চেম্বারের সময়গুলো পড়ে শোনাল। আমার বয়সের সঙ্গে মেলে এমন একটা সময় ঠিক করলাম আমরা। কয়েক দিন পর সেই চেম্বারে বসে আমি বিশেষজ্ঞকে আমার ভাঙা ঘুমের কথা বলছিলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
রাতে বারবার উঠতে হয়, ঘুমটা ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে
নাম ডাকার অপেক্ষায় বাইরের বেঞ্চে
আমরা একটু আগেই চেম্বারে পৌঁছে গিয়েছিলাম। বাইরের বেঞ্চে তখন অর্ধেকটা ভরে গেছে। সময় কাটাতে ছেলে ফোন খুলল। আমি ঝুঁকে তার সঙ্গে বাগেরহাটের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখছিলাম, এমনি কৌতূহলে কয়েকটা নাম পড়লাম। তারপর আমার নাম ডাকা হলো, ফোনটা ছেলের পকেটে ফিরে গেল।
তিনি প্রথমে আমার রাতগুলোর খবর নিলেন
বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট দিয়ে শুরু করলেন না। তিনি শুরু করলেন প্রশ্ন দিয়ে। রাতে কতবার উঠতে হয়? ধারা মাঝপথে থামে কিনা? জোর দিতে হয়, নাকি অপেক্ষা করতে হয়? পুরোনো শিক্ষক হিসেবে যতটা পারি সত্যি উত্তর দিলাম। ভোরের দিকে তলপেট ভারী লাগার কথাটা ছেলে মনে করিয়ে দিল, আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।
তাঁর টেবিলে খোলা পুরোনো রিপোর্ট
কথা শেষ হওয়ার পর তিনি ছেলের আনা ফাইলের দিকে হাত বাড়ালেন। আগের রিপোর্টগুলো তিনি এক পাতা এক পাতা করে ধীরে পড়লেন। হাতের তালু দিয়ে তলপেটটা আলতো করে চেপে দেখলেন, ভারী লাগে কিনা জিজ্ঞেস করলেন। তারপর সহজ ভাষায় বোঝালেন, রিপোর্ট আর তাঁর পরীক্ষা মিলিয়ে কী বোঝা যাচ্ছে। এই পড়া শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাড়িতে মানা যায়, এমন করে লেখা পরিকল্পনা
তিনি এমন একটা পরিকল্পনা লিখে দিলেন, যা বাড়িতে বসে মানা যায়। একটা ওষুধ তাঁর নিজের, সেটা তিনি যেভাবে লিখেছেন ঠিক সেভাবেই খাই। আমার নিজের ডাক্তারের ওষুধে তিনি হাতই দেননি। অন্যের হাতে লেখা একটা লাইনও তিনি কেটে দেননি। তাঁর ওষুধটা তাঁর নিজের পাতায়, নিজের লাইনে আছে। কয়েক সপ্তাহ পর আবার রিপোর্ট করাতে হবে, সেগুলো নিয়ে তাঁর কাছে ফিরতে হবে। তিনি পরিষ্কার করে বললেন, কখনো অপারেশন লাগলে তিনি নিজেই আমাকে জানাবেন। আর সমস্যাটা অন্য বিশেষজ্ঞের হলে সেটাও তিনি বলে দেবেন।
ফেরার আগে যা যা জিজ্ঞেস করলাম
এক রাতে এতবার উঠতে হয় কেন আমার?
তিনি বললেন, রাতের এই চিত্রটাই তাঁর বিচারের একটা অংশ। ধারার আচরণ আর রিপোর্ট মিলিয়ে দেখলে আন্দাজের চেয়ে বেশি বোঝা যাবে।
জোর দিয়ে চেষ্টা করা বা ধরে রাখা, কোনোটায় ক্ষতি হয়?
তিনি বললেন, বেশি জোরও দেওয়া যাবে না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখাও যাবে না। এর বেশি কিছু বলতে তিনি নতুন রিপোর্টের অপেক্ষা করতে বললেন।
নিজের ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ কি আমি ছেড়ে দেব?
না, সেগুলো ডাক্তার যেভাবে লিখেছেন সেভাবেই চলছে। ওই পাতায় হাত না দিয়ে বিশেষজ্ঞ নিজের ওষুধটা আলাদা লাইনে লিখেছেন।
পরের দেখায় তিনি কী মিলিয়ে দেখবেন?
কয়েক সপ্তাহ পর করা নতুন রিপোর্টগুলো, পুরোনোগুলোর পাশে রেখে। সেই মিলিয়ে দেখাটাই পরের দেখার আসল কাজ।
এই সমস্যায় একদিন অপারেশন লাগতে পারে?
তিনি বললেন, এমন সমস্যার কোনোটায় অপারেশন লাগে, কোনোটায় লাগে না। রিপোর্ট দেখে তিনি বিচার করবেন, আর যাই হোক স্পষ্ট করে বলবেন।
কোন অবস্থায় ছেলে আমাকে সেদিনই হাসপাতালে নিয়ে যাবে?
প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে গেলে আর তলপেট ফুলে ব্যথা করলে দেরি করা যাবে না। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, সঙ্গে পিঠে বা পাশে ব্যথা থাকলেও তাই। রক্তে ঘন হয়ে প্রস্রাব আসতে কষ্ট হলেও সেদিনই যেতে হবে। তলপেটে বা কুঁচকিতে তীব্র ব্যথা না কমলেও একই কথা।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.