সেরা থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ - চাঁদপুর
কণ্ঠ ভেঙে গেল মাসের পর মাস, আর সারল না
ত্রিশ বছরের বেশি স্কুলে পড়িয়েছি, আমার গলার আওয়াজটাই ছিল কাজের হাতিয়ার। এখন ষাট বছর, অবসরে আছি। গত কয়েক মাস ধরে সেই কণ্ঠ ভাঙা-ভাঙা, কিছুতেই পরিষ্কার হয় না। পানি খাই, বিশ্রাম নিই, তবু একই রকম। দাড়ি কামাতে গিয়ে আয়নায় দেখি, গলার সামনের দিকটা আগের চেয়ে ফোলা-ফোলা লাগছে। আমাদের ডাক্তার আমার কথা শুনলেন, কত দিন ধরে এমন তা জিজ্ঞেস করলেন, রক্তের রিপোর্টগুলো দেখলেন। তারপর বললেন, গলার সামনের ছোট গ্রন্থিটা একজন বিশেষজ্ঞের নিজে ছুঁয়ে দেখা দরকার। ওই গ্রন্থি শরীরের শক্তি খরচ, উষ্ণতা আর হৃদস্পন্দনের কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। তিনি থাইরয়েড বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠালেন। সঙ্গে গেল আমার ছেলে।
আগে চেনাজানাদের কাছে খোঁজ নিলাম, যেমনটা সবাই করে। তিনজন তিনটি নাম বলল, পরিষ্কার কিছু বোঝা গেল না। তারপর ছেলে মোবাইলে খুঁজে DoctorBD24-এর চাঁদপুরের পেজটা বের করল, যেখানে ডাক্তারদের নাম এক জায়গায় সাজানো। সেখান থেকে একজন থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ ঠিক করে চেম্বারের সময় দেখে নিলাম। গেলাম এক সকালে, তখনো ঘরগুলো ফাঁকা-ফাঁকা।
আমরা যে নামগুলো থেকে বেছে নিয়েছিলাম, সেগুলো এই পেজেই সাজানো আছে। ছেলে একটা একটা করে নাম পড়ছিল, আমি কোলে রিপোর্ট নিয়ে বসে কোন চেম্বারটা বাড়ির কাছাকাছি তা মিলিয়ে দেখছিলাম। আমরা শুরু করেছিলাম DoctorBD24-এ চাঁদপুরের ডাক্তারদের তালিকা থেকে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
কণ্ঠ ভেঙে গেল মাসের পর মাস, আর সারল না
তিনি যেভাবে পরীক্ষা করলেন
শুরুতেই তিনি আমার কথা শুনলেন। কণ্ঠটা কবে থেকে এমন ভাঙা? খাবার গিলতে গেলে আটকে যায় কিনা? চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমছে কিনা? তারপর গলার সামনের দিকটা যত্ন করে ছুঁয়ে দেখলেন, আঙুল রাখা অবস্থায় কয়েকবার গিলতে বললেন। রক্তের রিপোর্টগুলো ছিল সবার শেষে, আর পরিকল্পনার কথা বলার আগে তিনি প্রতিটা লাইন পড়ে নিলেন। তাড়াতাড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার এই ভঙ্গিটা আমার ভালো লাগল।
ফোলাটা আর আমার কণ্ঠ নিয়ে তিনি যা বললেন
তিনি বললেন, গলার সামনের গ্রন্থিটা ফুলে যাওয়ায় জায়গাটা ভরা-ভরা লাগছে। ওই জায়গার ফোলা কণ্ঠ বদলে যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে, তবে আন্দাজের চেয়ে রিপোর্ট আর সময়ই বেশি কথা বলবে। তিনি আমাকে ভয়ও দেখালেন না, আবার উড়িয়েও দিলেন না। ফোলাটার জন্য কখনো সার্জনের মতামত দরকার হলে তিনি সামনাসামনি বলে দেবেন, কারণটাও বুঝিয়ে দেবেন। বাড়ি ফেরার পথে আমার ছেলে মোবাইলে চাঁদপুরের মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের পেজ খুলে দেখে নিল, বাড়ির কাছাকাছি কোন ডাক্তাররা বসেন। আমার ছেলের সবকিছুর আগাম প্রস্তুতি চাই; পরিবারের অন্য প্রয়োজনে কোথায় যেতে হবে, তাও সে জেনে রাখল।
আমার আগের ওষুধগুলো যেমন ছিল, তেমনই রইল
আমাদের ডাক্তারের লেখা একটা পৃষ্ঠা আমি সঙ্গে রাখি, তাতে আমার নিয়মিত ওষুধগুলো লেখা। জিজ্ঞেস করলাম, এর কোনোটা ছেড়ে দিতে হবে কিনা। তিনি মাথা নেড়ে না বললেন। অন্য ডাক্তার যা লিখেছেন তা ঠিক সেভাবেই থাকে, অন্যের পৃষ্ঠার লাইন কেউ ঘষে তোলে না। তিনি ওষুধ দিলে সেটা হবে তাঁর নিজের আলাদা লাইন, লেখা অনুযায়ী হুবহু খেতে হবে; ওই লাইনে কোনো বদল আনলে তিনিই আনবেন। সেদিন বিকেলেই তিনি আমার পরিকল্পনা ঠিক করে দিলেন। তাঁর নিজের এক লাইন ওষুধ, কয়েক সপ্তাহ পর আবার দেখা, আর সঙ্গে নতুন রক্তের রিপোর্ট।
ভাঙা কণ্ঠের জন্য গ্রন্থির বিশেষজ্ঞের কাছে কেন?
ছোট গ্রন্থিটা থাকে গলার সামনের নিচের দিকে, কণ্ঠ তৈরির জায়গার কাছাকাছি। সেটা ফুললে কণ্ঠ বদলে যেতে পারে। আমাদের ডাক্তার আমার কণ্ঠ শুনে, ফোলাটা আর রিপোর্ট দেখে চাইলেন, বিশেষজ্ঞ নিজে গ্রন্থিটা ছুঁয়ে দেখুন।
পরীক্ষাটায় কি ব্যথা লাগে?
না। তিনি আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে চাপ দিয়ে দেখেছেন, কয়েকবার গিলতে বলেছেন। মিনিট দুয়েকের ব্যাপার, আর যা করছিলেন তা বলতে বলতেই করছিলেন।
ফোলাটার জন্য কি অপারেশন লাগবে?
তিনি এখনো সেরকম কিছু বলেননি, আর একবারের দেখায় তা ঠিকও করবেন না। তিনি রিপোর্ট দেখেন, সময়ের সঙ্গে অবস্থা লক্ষ করেন; সার্জনের মতামত লাগলে স্পষ্ট করে কারণসহ বলে দেবেন।
আমার নিয়মিত ওষুধগুলো কি এখন বন্ধ করে দেব?
না। আমাদের ডাক্তারের লেখা পৃষ্ঠা ঠিক আগের মতোই আছে। বিশেষজ্ঞের ওষুধ থাকলে তা আলাদা লাইনে লেখা থাকে; সেই লাইনে হাত দেওয়ার কাজ তাঁর নিজের।
আবার কবে যাব, সঙ্গে কী নেব?
কয়েক সপ্তাহ পরে, নতুন রক্তের রিপোর্ট সঙ্গে নিয়ে। পুরনো রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে তিনি ঠিক করবেন, পরিকল্পনা একই থাকবে নাকি বদল দরকার।
কোন লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যাব?
গলার ফোলাটা দ্রুত বাড়তে থাকলে, আর গিলতে কষ্ট হলে বা শ্বাস নিতে টান লাগলে। বুক ধড়ফড় করলে বা ছন্দ হারালে, সঙ্গে বুকে ব্যথা থাকলে বা মাথা ঝিমঝিম করলে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসে বুকের ধড়ফড়ানি বেড়ে গেলে। কিংবা অস্বাভাবিক ভারী ঘুমঘুম ভাব, মাথা পরিষ্কার না হলে। এর যেকোনোটা হলেই ছেলেকে বলে রেখেছি, সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.