সেরা থোরাসিক সার্জন - কুমিল্লা

বুকের একই পাশে বারবার অসুখ ফিরে আসছিল

আমি কুমিল্লায় একটা স্কুলে পড়াই, বয়স চুয়াল্লিশ। গত প্রায় এক বছর ধরে বুকের ডান পাশটাতেই বারবার অসুখ ফিরে আসছে। কাশি জমে, শ্বাস নিতে ভারী লাগে, কয়েক সপ্তাহ শরীরটা দুর্বল থাকে। বাম পাশটা একদম ঠিক থাকে, কোনোদিন কষ্ট দেয় না। একবার সেরে উঠলে কয়েক মাস পর আবার সেই একই গল্প শুরু হয়। স্কুলে গিয়ে ক্লাস নেওয়াটাই তখন কঠিন হয়ে পড়ে।

আমার নিজের ডাক্তার প্রতিবারই চিকিৎসা করেছেন, সব রিপোর্ট একটা ফাইলে গুছিয়ে রেখেছেন। এবার তিনি পরিষ্কার বললেন, একই পাশে বারবার এমন হওয়া ঠিক নয়। বুকের ভিতরে অপারেশন করেন এমন একজন থোরাসিক সার্জন ছবিগুলো ভালো করে দেখে বলুন, কেন এমন হচ্ছে। অপারেশন লাগতে পারে, আবার নাও লাগতে পারে। সেই বিচারটা তিনি সার্জনের হাতেই ছেড়ে দিলেন।

যাওয়ার আগে এক সন্ধ্যায় স্বামী ফোনে খুঁজতে বসলেন। তিনি DoctorBD24-তে কুমিল্লার জেনারেল সার্জনদের তালিকা খুলে নাম আর চেম্বারের জায়গাগুলো পড়ে শোনালেন। দুটো নাম আমরা লিখে রাখলাম। স্কুলের সময় মিলিয়ে একটা সকাল ঠিক হলো। যেদিন গেলাম, স্বামী সঙ্গে ছিলেন, পুরো সময়টা আমার পাশে বসে রইলেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

বুকের একই পাশে বারবার অসুখ ফিরে আসছিল

এক বছরে কতবার যে ফিরে এলো

প্রথমবার এসেছিল গত শীতে। ডান পাশে কাশি জমে রইল কয়েক সপ্তাহ, স্কুলের সিঁড়ি ভাঙতে গেলে শ্বাস আটকে আসত। তারপর সেরে গেল। বসন্তে এসে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। বর্ষায় আবার ফিরল, শীতের আগেও আরেকবার। প্রতিবারই একই পাশ।

মাঝের সময়গুলোতে আমি প্রায় স্বাভাবিকই থাকতাম। পুরো দিন ক্লাস নিতাম, খাতার ব্যাগ নিয়ে দোতলায় উঠতাম। তাই ধরনটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল, একই জায়গায় একই সমস্যার এই ফিরে আসাটা।

পরীক্ষার আগে তিনি ছবি আর রিপোর্ট দেখলেন

সার্জন প্রথমে আমার ফাইলটা খুললেন। পুরনো থেকে নতুন, সবগুলো বুকের ছবি পাশাপাশি সাজিয়ে দেখলেন। মাঝে মাঝে আমার ডাক্তারের লেখা নোটগুলো পড়লেন। তারপর আমাকে বলতে বললেন, কবে থেকে শুরু, কতদিন থাকে, কোন সময় বেশি কষ্ট হয়। শেষে তিনি বুকের দুই পাশে কান দিয়ে শুনলেন, ধীরে শ্বাস নিয়ে ধরে রাখতে বললেন।

একটা ছবি দেখে বা একদিনের দেখায় তিনি কিছু ঠিক করবেন না। সব ছবি একসঙ্গে দেখলে একটা ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া যায়, তিনি বললেন।

একই পাশে বারবার হয় কেন, তিনি যা বোঝালেন

তিনি সহজ করে বললেন। একটা পাশে বারবার অসুখ ফিরলে বুঝতে হয়, ওই পাশের ভিতরে কোথাও কিছু একটা ঠিকমতো পরিষ্কার হচ্ছে না। আগে সেটা খুঁজে বের করা দরকার। অপারেশন একটা সম্ভাব্য পথ, কিন্তু একমাত্র পথ নয়। অনেকের ক্ষেত্রে নজরদারিই যথেষ্ট হয়।

অপারেশন সত্যিই কাজে লাগলে তিনি নিজে বলবেন, প্রতিটা ধাপ বুঝিয়ে তারপর আমাদের মত নেবেন। কাজে না লাগলে সেটাও পরিষ্কার করে বলবেন। আর কারণটা অন্য কোনো বিশেষজ্ঞের বিষয় হলে তাও তিনি গোপন করবেন না।

ভয়ের এক সন্ধ্যায় হার্টের ডাক্তারদের পাতা খুলেছিলাম

সত্যি বলতে, দেখা করার আগে আমি নিজে নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। বুকের সমস্যা মানেই আমার কাছে হার্টের সমস্যা মনে হচ্ছিল। এক সন্ধ্যায় আমি DoctorBD24-তে কুমিল্লার হার্টের ডাক্তারদের তালিকা খুলে নামগুলো পড়েছিলাম। সার্জনকে সেটা বললাম। তিনি হেসে বোঝালেন, হার্ট বুকে থাকলেও সেটা আলাদা ধরনের কাজ। আমার ছবি হার্টের দিকে ইশারা করলে তিনি নিজেই আমাকে হার্টের সার্জনের কাছে পাঠিয়ে দিতেন।

নিজের ডাক্তারের ওষুধে তিনি হাত দেননি

আমি প্রতিদিন সকালে একটা ওষুধ খাই, যেটা আমার নিজের ডাক্তার অনেক আগে থেকে ঠিক করে দিয়েছেন। সার্জনকে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর পরিকল্পনায় ওটা বদলাবে কি না। তিনি বললেন, অন্য ডাক্তারের ঠিক করা ওষুধে তিনি হাত দেন না। আমি আগের নিয়মেই খেয়ে যাব। কখনো বদল দরকার হলে সেই আলোচনা হবে আমার নিজের ডাক্তারের সঙ্গে, তাঁর চেম্বারে বসে।

চেম্বার থেকে বের হওয়ার আগে আমার জিজ্ঞাসা

অসুখটা কেন বারবার একই পাশ বেছে নেয়?

তিনি বললেন, এমন ধরনের পেছনে সাধারণত ওই পাশের ভিতরে কোনো কারণ থাকে। ছবি আর আমার পুরনো ইতিহাস মিলিয়ে দেখলেই সেটা বোঝা যাবে।

আজকেই কি অপারেশনের সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে?

না। সব ছবি আর রিপোর্ট সামনে না পেয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন না। বুক খোলার মতো সিদ্ধান্ত একবারের দেখায় তাড়াহুড়া করে নেওয়া যায় না।

অপারেশন লাগলে সেদিন কী কী হবে?

ঘুমের ওষুধে আপনি ঘুমিয়ে থাকবেন, তিনি বুকের পাশ দিয়ে ভিতরে কাজ করবেন। শেষ হলে ওয়ার্ডে জ্ঞান ফিরবে, নার্সরা সারাদিন খেয়াল রাখবেন।

ভর্তি থাকতে হলে কত দিনের জন্য থাকতে হবে?

আমার মতো ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েক দিন, তিনি বললেন। ওয়ার্ডের ভিতরে অল্প হাঁটাচলা তাড়াতাড়িই শুরু হয়। বাসায় ফেরা নির্ভর করে বুক কতটা গুছিয়ে ওঠে তার ওপর।

উত্তর না আসা পর্যন্ত স্কুলে পড়ানো চালিয়ে যেতে পারি?

পারি, সাধারণ দিনগুলোতে কোনো বাধা নেই। তবে নতুন করে অসুখ শুরু হলে ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে বললেন, আর নিজের ডাক্তারকে জানাতে বললেন।

কোন অবস্থা হলে অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে ছুটব?

শ্বাস হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে গেলে সেদিনই যাবেন। কাশির সঙ্গে রক্ত এলে, কিংবা বুকের ব্যথা এসে কিছুতেই না কমলেও তাই।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.