সেরা থোরাসিক সার্জন - চট্টগ্রাম
বুকের ছবিতে মাঝখানে কিছু একটা ধরা পড়ল
আমার বয়স ঊনচল্লিশ। চট্টগ্রামে একটা পোশাক কারখানায় সেলাইয়ের কাজ করি। কাশিটা শুরুতে ছোটখাটোই ছিল, ওটা নিয়েই চলছিলাম। এক সপ্তাহ কমে থাকত, তারপর আবার ফিরে আসত। তৃতীয়বার ফিরে এলে বাসার কাছের ডাক্তার বললেন, বুকের একটা ছবি তোলা দরকার। রিপোর্ট এলে তিনি ছবিটা আলোর দিকে ধরে দেখালেন। বুকের ঠিক মাঝখানে কিছু একটা বসে আছে। ছবি দেখে তিনি নিজে কোনো নাম বলেননি। এই বিচারের জন্য তিনি আমাকে এমন এক সার্জনের কাছে পাঠালেন, যিনি বুকের ভিতরে অপারেশন করেন।
চেম্বারে সার্জন আমার সব কথা শুনলেন আগে। আগের প্রেসক্রিপশনগুলো পড়লেন, ছবিটা অনেকক্ষণ ধরে দেখলেন। তারপর বুকের সামনে-পেছনে কান দিয়ে শুনলেন। রাতে কাশিটা কেমন থাকে, তাও জিজ্ঞেস করলেন। তিনি দুটো পথের কথা বললেন। একটা হলো, কয়েক মাস পর আবার ছবি তুলে দেখা। আরেকটা, অপারেশন করে ভিতরের জিনিসটা নিয়ে কাজ করা। কোনো সিদ্ধান্তই তিনি তাড়াহুড়া করে নিতে চান না। যাওয়ার দিন আমার ছোট বোন সঙ্গে গিয়েছিল।
সার্জনকে খুঁজে বের করেছিল আমার বোনই। রিপোর্ট আসার রাতে সে আমার ফোন নিয়ে DoctorBD24-তে চট্টগ্রামের ডাক্তারদের তালিকা ধরে নাম আর চেম্বারগুলো একে একে পড়ে শোনাল। কারখানার ছুটির পর পৌঁছাতে পারি, এমন একটা চেম্বার আমরা বেছে নিলাম। সেদিন বোন আমার পাশে বসে পুরো সময়টা ছিল।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
বুকের ছবিতে মাঝখানে কিছু একটা ধরা পড়ল
আমার ডাক্তার যা বলেছিলেন, যা বলেননি
ডাক্তার ছবিটা হাতে নিয়ে পরিষ্কার করে বলেছিলেন, ছায়া দেখে তিনি নাম বলবেন না। ছবি শুধু আকার আর জায়গাটা দেখায়। তার বেশি কিছু ছবি বলে না। অনুমান করে একটা নাম বসিয়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ ছিল। তবু তিনি তা করেননি। সেই না-করাটাই আমার কাছে বড় হয়ে রইল। তাই তাঁর পাঠানো জায়গায় যেতে আমার মন সায় দিল।
ছবি আর রিপোর্ট হাতে নিয়ে তিনি যা করলেন
সার্জন প্রথমে আমার আগের সব কাগজ চাইলেন। প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট আর ছবিটা তিনি একে একে পড়লেন। পড়া শেষ হলে তবেই প্রশ্ন শুরু হলো। কাশি প্রথম কবে এসেছিল? রাতে ঘুম ভাঙে কিনা? শরীরের ওজন কি এমনিতেই কমেছে? সবশেষে তিনি বুকে হাত দিলেন। শুয়ে থাকলে শ্বাস কেমন চলে, সেটাও তিনি দেখে নিলেন।
ঘরের ওষুধ যেমন ছিল, তেমনই রইল
আমার রোজকার ওষুধ আমার নিজের ডাক্তারের লেখা। আমি ঠিক সেভাবেই খাই, যেভাবে তিনি লিখে দিয়েছেন। সার্জন তালিকাটা দেখে কোনো বদল না করেই ফেরত দিলেন। কোনো ওষুধে হেরফের লাগলে সেই আলোচনা হবে আমার ডাক্তারের সঙ্গেই, তিনি বললেন। সার্জনের কাজ আমার বুক নিয়ে। ওষুধের তালিকা নিয়ে নয়।
অপারেশন হলে দিনগুলো কেমন যাবে
তিনি দুটো পথই সোজা করে বুঝিয়ে দিলেন। দেখে রাখা মানে বসে থাকা নয়। কয়েক মাস পর আরেকটা ছবি, আর কাশির ধরন বদলালে তার আগেই ফিরে আসা। অপারেশনের পথ নিলে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হবে। তিনি বুক খুলে ভিতরের জিনিসটা নিয়ে কাজ করবেন, তারপর বন্ধ করে দেবেন। হাসপাতালে কয়েক দিন থাকতে হবে। তারপর বাড়িতে বিশ্রাম, বুক সেরে ওঠা পর্যন্ত।
আরেকটা কথা তিনি স্পষ্ট করে বললেন। বিষয়টা হার্টের ডাক্তারের হলে তিনি নিজেই আমাকে সেদিকে পাঠিয়ে দেবেন। নিজের কাজের সীমানা তিনি নিজে জানেন। কথাটা শুনে মনটা হালকা লাগল।
খুঁজতে গিয়ে বোন যে আরেকটা পেজ খুলেছিল
রিপোর্ট আসার রাতে বোন আমার ফোন নিয়ে খুঁজতে বসেছিল। সে নিজে DoctorBD24-তে চট্টগ্রামের হার্টের ডাক্তারদের তালিকাটাও খুলে কয়েকটা নাম পড়ে শোনাল আমাকে। তখন আমার ধারণা ছিল, বুক আর হার্ট বুঝি একই বিষয়। সার্জন পরে আমাকে ছোট না করে সেই ভুলটা ভেঙে দিলেন। কখনো ওদিকে যেতে হলে কার দরজায় যাব, সেটা অন্তত এখন জানা আছে।
যাওয়ার আগে মনে আসা প্রশ্নগুলো
ছবি দেখে যদি বোঝাই না যায়, তাহলে বোঝা যাবে কীভাবে?
তিনি বললেন, ছবির পাশাপাশি রিপোর্ট আর আমার পুরো ঘটনা মিলিয়ে দেখা হয়। সময়ের সঙ্গে জিনিসটার আচরণ দেখলেও অনেকটা বোঝা যায়। অপারেশন হলে তো তিনি সরাসরি দেখতেই পাবেন।
দেখে রাখার এই সময়ে কারখানায় কাজ চালিয়ে যেতে পারব?
পারব, তিনি বললেন। সেলাইয়ের কাজে বাধা নেই। তবে কাশির ধরন বদলালে কিংবা কারখানার সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে শ্বাস আটকে এলে আগেই ফিরে আসতে হবে।
অপারেশনটা হলে ঠিক কী কী করা হবে?
প্রথমে ঘুমের ওষুধে আমাকে পুরো সময় ঘুম পাড়িয়ে রাখা হবে। তারপর তিনি বুক খুলে ভিতরের জিনিসটা নিয়ে কাজ করবেন। শেষে আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ছাড়া পেতে হাসপাতালে কত দিন লাগতে পারে?
কয়েক দিন, তবে আজ তিনি সংখ্যা ধরে দিতে চাননি। অপারেশনের পর বুক কত তাড়াতাড়ি গুছিয়ে ওঠে, তার ওপর নির্ভর করবে। ওয়ার্ডের ভিতরে অল্প হাঁটাচলা সাধারণত আগেই শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টা যদি অন্য ডাক্তারের হয়?
তাহলে তিনি সোজা ভাষায় বলে দেবেন, কোন দিকে যেতে হবে তাও জানিয়ে দেবেন। যার সমস্যা তাঁর কাজের বাইরে, তাকে তিনি নিজের কাছে আটকে রাখেন না।
কোন লক্ষণ দেখলে সেদিনই হাসপাতালে ছুটতে হবে?
শ্বাস নেওয়া হঠাৎ অনেক কঠিন হয়ে গেলে সেদিনই যান। কাশির সঙ্গে রক্ত এলে কিংবা বুকের ব্যথা এসে না কমলেও তাই। পরের দেখা করার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা তখন করা যাবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.