সেরা সনোলজিস্ট - যশোর
পুরনো ফাইলটা আবার খুলতে হলো
যশোর থেকে ছাড়া একই রুটের বাসে আমি বহু বছর ধরে কাজ করি। ভাড়া তুলি, স্টপেজের নাম ডেকে বলি। সকালের প্রথম বাসে অফিসগামী মানুষের ভিড়, দুপুরে হাটের হইচই। দুই বছর আগে ডাক্তার আমাকে পেটের ওপরের অংশের আলট্রাসনোগ্রাম করাতে বলেছিলেন। সেই রিপোর্টটা আমি প্লাস্টিকের ফাইলে যত্ন করে রেখে দিয়েছিলাম। এবারের চেকআপে তিনি আবার একই জায়গার ছবি তুলতে বললেন। পুরনো ছবির পাশে নতুন ছবি রেখে তিনি নিজে মিলিয়ে দেখতে চান।
আবার যেতে হবে শুনে মনটা দুই দিন ভারী হয়ে ছিল। ডিপোর সহকর্মী রহমান বললেন, তিনি সঙ্গে যাবেন। তাতেই মন ঠিক হয়ে গেল। বাসের ডিউটি ফেলে সকালে বের হওয়াটাই আমার কাছে কঠিন ছিল। রহমান নিজের রুট বদলে আমার সঙ্গে গেলেন। যেদিন গেলাম, সেদিন আমার ডিউটি ছিল দেরিতে। পাশে হাসিঠাট্টা করা একজন থাকলে অপেক্ষার ঘরটা অনেক ছোট লাগে।
প্রথমবারের সময় আমি যশোরের ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকা ঘেঁটে দেখেছিলাম, কারা এই ধরনের স্ক্যানের কাজ করেন। খোঁজটা সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল আমার। এবার অবশ্য তালিকা ঘাঁটতে হয়নি, জায়গাটা আগেরবারের চেনা। দরকার ছিল শুধু সকালে যাওয়ার সাহসটা জোগাড় করা।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
পুরনো ফাইলটা আবার খুলতে হলো
একই জায়গায় আবার ছবি কেন
চেকআপের দিন ডাক্তার সহজ করেই বুঝিয়ে দিলেন। একবারের ছবি মানে এক দিনের অবস্থা। দুই বছরের ব্যবধানে তোলা দুই সেট ছবি পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায়, মাঝখানে কিছু বদলেছে কিনা। এই মিলিয়ে দেখার কাজটা তাঁর নিজের। পুরনো রিপোর্ট নিয়ে আমাকে ভাবতে হয়নি। আমি নিজেও সেটা পড়ার চেষ্টা করিনি কখনো।
তাই আবার পেটের ওপরের অংশেরই স্ক্যান ঠিক হলো। তাড়াহুড়োর কিছু ছিল না। ডাক্তার বললেন, নতুন রিপোর্ট হাতে পেলে দুটো একসঙ্গে বসে দেখবেন।
স্ক্যানের ঘরে সকালটা
রহমান বাইরে বসে রইলেন, আমি ভেতরে গেলাম। ঘরটা ছিল আবছা অন্ধকার। সনোলজিস্ট পেটের ওপর ঠান্ডা জেল লাগিয়ে প্রোবটা ধীরে ধীরে ঘোরালেন। পাশের পর্দায় ছবি বদলাচ্ছিল। মাঝে মাঝে তিনি থেমে একটা করে ছবি সেভ করছিলেন।
ব্যথা লাগেনি একদমই। শুধু প্রোবের হালকা চাপ টের পাচ্ছিলাম। মনে মনে আমি তখন নিজের বাসের রুটেই ছিলাম। ভাড়া, স্টপেজ, যাত্রীদের ডাক। ওই চেনা ভাবনাগুলোই আমাকে সবচেয়ে বেশি শান্ত রেখেছিল।
সনোলজিস্টের কাজ যেখানে শেষ
তাঁর কাজ রিপোর্ট পর্যন্তই। ছবিগুলো দেখে তিনি রিপোর্টে লিখে দেন, আর সেই রিপোর্ট পৌঁছে যায় যে ডাক্তার আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে। তিনি আমার চিকিৎসা করেন না। পরের সিদ্ধান্তও তাঁর নয়। সেই সিদ্ধান্ত আমার নিজের ডাক্তারের, যাঁর কাছে দুটো রিপোর্টই থাকবে।
ওষুধের তালিকায় কেউ হাত দেয়নি
আমি প্রতিদিনের ওষুধ ঠিক যেভাবে ডাক্তার সাজিয়ে দিয়েছেন, সেভাবেই খাই। স্ক্যানের জন্য তার কিছুই বদলায়নি। সনোলজিস্ট কিছু যোগ করেননি, বন্ধও করেননি, মাত্রাও বদলাননি। ওষুধ নিয়ে কোনো অসুবিধা হলে প্রশ্নটা নিজের ডাক্তারকেই করতে হয়। ছবি তোলেন যিনি, তাঁকে নয়।
প্রশ্নগুলো গেল নিজের ডাক্তারের কাছেই
রিপোর্টটা যাবে আমার ডাক্তারের কাছে, তাই প্রশ্নগুলোও সেখানেই জমা রইল। দুটো রিপোর্ট মিলিয়ে কী বোঝা গেল, আবার কবে যেতে হবে, নিয়মে কিছু বদল হবে কিনা, সবই তিনি বলবেন। ডিপোর কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেছিল, অন্য ধরনের ডাক্তার দেখানো উচিত কিনা। DoctorBD24-তে যশোরের মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের তালিকাও আছে, যাদের ডাক্তার সেদিকে যেতে বলেন। আমার রাস্তা কিন্তু নিজের ডাক্তারের কাছেই ফিরে যায়।
রুটের লোকজন আমাকে যা যা জিজ্ঞেস করে
দুই বছর পর আবার একই স্ক্যান কেন করতে হয়?
একটা স্ক্যান মানে এক দিনের ছবি। দুটো স্ক্যান মানে সময়ের গল্প। ডাক্তার নতুন ছবি পুরনোর পাশে রেখে নিজে দেখতে চাইতে পারেন, কিছু বদলেছে কিনা। এটা ভুল নয়, ভেবেচিন্তেই করা হয়।
পুরনো রিপোর্টটা সঙ্গে নেওয়া কি জরুরি?
আমার ক্ষেত্রে পুরনো রিপোর্টটাই ছিল আসল জিনিস। কারণ নতুন ছবি তোলাই হয়েছিল তার পাশে বসানোর জন্য। ডাক্তারের লিখে দেওয়া কাগজটাও সঙ্গে ছিল, তাতে কোন জায়গার ছবি লাগবে তা লেখা ছিল।
আলট্রাসনোগ্রামে কি ব্যথা লাগে?
না। জেলটা প্রথমে একটু ঠান্ডা লাগে। প্রোবটা হালকা চাপ দিয়ে ঘোরে। ঘরের নীরবতাটাই আমার বেশি টের পেয়েছিলাম সেদিন।
স্ক্যান করার সময়ই কি সনোলজিস্ট সব বুঝিয়ে দেবেন?
কাজের ধরন নিয়ে তিনি কথা বলতেই পারেন। কিন্তু ছবির মানে ঠিক করা তাঁর কাজ নয়। তিনি রিপোর্ট লিখে দেন। আপনার নিজের ডাক্তার সেই রিপোর্টের মানে বুঝিয়ে বলবেন।
রিপোর্টের পর সিদ্ধান্ত নেবেন কে?
যে ডাক্তার আপনাকে পাঠিয়েছেন, তিনিই। তাঁর কাছে আপনার পুরনো রিপোর্টও আছে, নতুনটাও যাবে। চিকিৎসা বা পরের দেখা নিয়ে সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসবে।
স্ক্যানের তারিখের আগেই পেটের ব্যথা হঠাৎ বেড়ে গেলে কী করব?
তারিখের অপেক্ষায় ঘরে বসে থাকবেন না। ব্যথা হঠাৎ অসহ্য হয়ে উঠলে কিংবা বমি না থামলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা শরীরে হঠাৎ দুর্বলতা নামলেও একই কথা। স্ক্যান অপেক্ষা করতে পারে, আপনি নয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.