সেরা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ - নোয়াখালী
দাড়ির ভেতরের দাগগুলো নাপিতই প্রথম আমাকে দেখিয়ে দিল
আমার বয়স ত্রিশ, একটা দোকানে কাজ করি। দাড়ি আর গোঁফের ভেতরে লালচে দাগ, সঙ্গে খোসা ওঠে আর চুলকায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চুলকে যাচ্ছিলাম, গুরুত্ব দিইনি। দাগের ওপর দিয়ে সেভ করতে গেলে প্রতিদিন সকালে জ্বালা করে। দোকানে কাজের সময় খোসা ঝরে জামার কলারে পড়ে, ক্রেতাদের চোখে পড়ে। আয়নায় নিজের মুখ দেখলে মন খারাপ লাগে।
নাপিত একদিন চুল ছাঁটতে ছাঁটতে থামিয়ে দিল। দাগগুলো দেখিয়ে বলল, এগুলো ঠিকমতো দেখিয়ে নেওয়া উচিত। দোকান থেকে একটা ক্রিম কিনলাম, কয়েকদিন চুলকানি কমল। কিন্তু দাগগুলো যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেল। দাগের জায়গায় জ্বালা নিয়ে কাজ করাটাও কষ্টের। আমার নিজের ডাক্তার দাড়ির চুল সরিয়ে নিচটা দেখলেন। তিনি বললেন, দাড়ির ভেতরে এভাবে বসে ছড়াতে থাকা দাগ চর্ম বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পরীক্ষা করানো দরকার।
সেদিন রাতে বাড়িতে ফোনে খুঁজলাম। রাতের খাবারের পর নোয়াখালীর ডাক্তারদের তালিকা খুলে নামগুলো দেখলাম। সেখান থেকে এমন একজন চর্ম বিশেষজ্ঞ বাছলাম, যাঁর চেম্বারে দোকান ছুটির পর পৌঁছানো যায়। দুই দিন পর গিয়ে তাঁর সামনে বসলাম। সময়টা রাখলাম সন্ধ্যার পর, যাতে দোকানের কাজে ব্যাঘাত না ঘটে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
দাড়ির ভেতরের দাগগুলো নাপিতই প্রথম আমাকে দেখিয়ে দিল
দাড়ির চুল সরিয়ে তিনি নিচের চামড়া দেখলেন
চর্ম বিশেষজ্ঞ যত্নে দাড়ির চুল সরিয়ে নিচের চামড়া দেখলেন। তার আগে তিনি পুরো গল্পটা জিজ্ঞেস করেছেন। চুলকানি কবে শুরু, ঠিক কোথায় কোথায়, দোকানের ক্রিমে কী হলো। আগে যেসব ক্রিম আর ঘরোয়া জিনিস ব্যবহার করেছি, সব সত্যি করে বলতে বললেন। কোনো পরিকল্পনার কথা বলার আগে আমার আগের রিপোর্ট তিনি পড়েছেন। জোর আলোর নিচে ধীরে ধীরে একেকটা দাগ পরীক্ষা করেছেন।
দাড়ির এই সমস্যা ধীরে ধীরে সারে
তিনি সাফ বলে দিলেন, এক সপ্তাহে দাগ মিলিয়ে যাবে ভাবা ঠিক নয়। দাড়ির নিচের চামড়া ঢাকা আর গরম থাকে, সপ্তাহ মাস ধরে তিনি অগ্রগতি দেখবেন। পরের দেখাগুলোতেই বোঝা যাবে পরিকল্পনা কাজ করছে কিনা। চুলকানি থামলেও দাগের জায়গায় হালকা ছাপ থেকে যেতে পারে। পরে অবাক হওয়ার চেয়ে এখন শুনে রাখা ভালো।
দেখা করার মাঝের দিনগুলোতে আমার নিয়ম
তিনি যেভাবে লিখে দিয়েছেন, হুবহু সেই নিয়ম মানি, দোকানের তাক থেকে বাড়তি কিছু নিই না। বন্ধুর ক্রিম ধার করে লাগানোর প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর সমস্যা হয়তো সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। এক সপ্তাহ শান্ত গেলেই আমি থামি না। আগে চুলকানি কমে যাওয়া মানেই দাগ শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
চেম্বারে আবার গেলে যা দেখেন
ফিরে গেলে তিনি আবার দাড়ি সরিয়ে নিজের লেখার সঙ্গে দাগ মিলিয়ে দেখেন। সকালের জ্বালা আর কলারে খোসা পড়ার কথা জিজ্ঞেস করেন। কোনো বার সব আগের মতোই রাখেন। একবার একটা জিনিস বদলে সহজ কথায় কারণ বুঝিয়ে দিয়েছেন। দাগগুলো এখন ছোট হয়েছে, সেভ করতেও কম জ্বলে।
যে সমস্যা তিনি অন্য ডাক্তারের কাছে পাঠাবেন
কোনটা তাঁর কাজ নয়, সেটা তিনি পরিষ্কার বলেছেন। চামড়ার নিচে কিছু বাড়তে থাকলে, কিংবা কোনো ঘা কেটে সারাতে হলে অন্য ধরনের ডাক্তার লাগে। সেরকম সমস্যার জন্য তিনি নোয়াখালীর জেনারেল সার্জনদের তালিকার কথা বলেছেন, যেদিকে আমার নিজের ডাক্তারও ইঙ্গিত করেছিলেন। এ কথা খোলাখুলি যিনি বলেন, তাঁর ওপর ভরসা রাখা যায়।
দাড়ি নিয়ে আমার প্রশ্নের উত্তর
দোকানের ক্রিমে চুলকানি কমল, তবু দাগ রয়ে গেল কেন?
চুলকানি কমা আর চামড়া সেরে যাওয়া এক কথা নয়। তিনি বলেছেন, নিচের দাগের জন্য ধারাবাহিক চিকিৎসা আর পর্যবেক্ষণ লাগে। কয়েকদিনের আরাম যথেষ্ট নয়।
দাড়ি পুরোপুরি কেটে ফেলতে হবে কি?
তিনি সেরকম নির্দেশ দেননি। আগে চামড়া পরীক্ষা করে চিকিৎসা চলাকালে আলতো করে সেভ করার নিয়ম বলেছেন। জ্বালা বেশি থাকলে সেটা তাঁকে জানাতে হবে।
প্রথম বসায় তাঁর কাছে কী কী হবে?
আগে প্রশ্ন শুনবেন, তারপর ভালো আলোয় দাড়ির চুলের নিচটা খুঁটিয়ে দেখবেন। আমার বেলায় আগের রিপোর্ট পড়ার পরই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দোকানের বন্ধুর ক্রিমে তাঁর কাজ হয়েছে, আমি কি সেটা লাগাতে পারি?
না লাগানোই ভালো। তাঁর দাগের পেছনের কারণ হয়তো আলাদা। নিজের চামড়া আর দাড়ির জন্য যেটা দেওয়া হয়েছে, সেটাতেই থাকি।
চুলকানি থামলেই কি নিজে থেকে চিকিৎসা শেষ করে দেব?
ঠিক এই ব্যাপারেই তিনি সতর্ক করেছেন। বাইরে শান্ত দেখালেও সমস্যা ভেতরে শেষ নাও হতে পারে। সিদ্ধান্তটা পরের দেখায় তিনিই নেবেন।
হঠাৎ কোন বদল দেখলে আজকেই হাসপাতালে যেতে হবে?
ধরুন কোনো ঘা রেগে উঠল, দ্রুত ছড়াচ্ছে আর সঙ্গে জ্বর এসেছে। সেটা অপেক্ষার দিন নয়, হাসপাতালের দিন। গায়ে ফোসকা বেরোলে কিংবা চামড়া উঠতে শুরু করলেও দ্রুত সেখানে যাওয়া উচিত। ঠোঁট বা মুখ ফোলার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সেটা যেকোনো বিচারে জরুরি অবস্থা। কোনো দাগ কালো হয়ে তার ভেতরে ব্যথা বাড়লেও খেয়াল রাখুন, সেদিনই যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.